|

কঙ্কাল সড়কে নরকযন্ত্রণা

0e4a2fad972a42ebc7ebc5b38ccdc061-599ef9cd49749
Print Friendly

এফ টি বাংলা

রাজধানীতে ঘর ছেড়ে পথে নামলেই পড়তে হয় ভোগান্তির মুখে। ভাঙা রাস্তাঘাট, অসহনীয় যানজট ও সরকারি একাধিক সংস্থার খোঁড়াখুঁড়িতে যাত্রী ও পথচারীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত। তার সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে যোগ হয় জলাবদ্ধতা। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়কে পার হয়ে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

বেশির ভাগ এলাকাতেই এখন সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্ত থাকলেও ঠিকাদাররা সেগুলোর ধার ধারে না। নিম্নমানের কাজ ও নিয়ম না মেনে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে নির্মাণের পরপরই সড়কগুলো ভেঙেচুরে একাকার হয়ে যায়। সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ির পর সিটি করপোরেশন থেকে রাস্তাগুলো ঠিক সময়ে মেরামত না করায় ভোগান্তির মাত্রা বেড়ে যায়। অথচ দুই করপোরেশন রাস্তা খননের ফি হিসেবে গত অর্থবছরে অর্ধশত কোটি টাকা পেয়েছে।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, ‘ঘনবসতিপূর্ণ শহরে উন্নয়নমূলক কাজ করা কঠিন বিষয়। এর পরও আমরা জনগণের ভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকি। সব সংস্থার মধ্যে কাজের ক্ষেত্রে সমন্বয় থাকলে জনদুর্ভোগ আরো কমানো সম্ভব ছিল। কাজের মান নিশ্চিত করতে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে মাঠে থাকার ওপর জোর দিয়েছি। আরো জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজের মান তদারকির জন্য পরামর্শক কম্পানি নিয়োগ করা হয়েছে। ’

খান মোহাম্মদ বিলাল আরো বলেন, ‘কাজের মান খারাপ হচ্ছে তা বলা ঠিক হবে না। রাস্তা অল্প সময়ে ভেঙে যাওয়ার মূলে রয়েছে ভারী যানবাহনের চলাচল। আর টানা বর্ষণে বৃষ্টির পানি জমে রাস্তা ভাঙা আরো ত্বরান্বিত করছে। ’

খুঁড়ে রাখা বেহাল সড়কে ভয়াবহ দুর্ভোগ

0044011_kalerkantho-2017-7-28

নগরীর প্রায় সড়কেই রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, এ মুহূর্তে সংস্থাটির রাস্তা, ফুটপাত ও নর্দমা উন্নয়নে দুটি বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় শান্তিনগর, মালিবাগ, বংশাল, নবাবপুর, ধানমণ্ডি, বনশ্রী, গ্রিন রোডে উন্নয়নকাজ চলছে।

৭৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেক প্রকল্পের আওতায় যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, মানিকনগর এলাকায় কাজ চলছে। মেগা প্রকল্পের কাজ হয়েছে শতকরা ২৫-৩০ ভাগ। অন্যটি কাজ শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বছরজুড়েই সংশ্লিষ্ট এলাকায় এ কাজ চলবে। চলতি অর্থবছরে সড়ক উন্নয়নকাজে ৯৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে চলমান কাজের সঙ্গে এ বিপুল অঙ্কের টাকাও খরচ হবে উন্নয়নকাজে। এসব কাজের জের ধরে রাজধানীবাসীর ভোগান্তিও বাড়বে কয়েক গুণ।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ডিএনসিসির এক হাজার ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক, ৩২৫ কিলোমিটার  নর্দমা, এক হাজার ২৫০ কিলোমিটার উন্মুক্ত নর্দমা/পাইপ রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার রাস্তা, ৮৪.৭২ কিলোমিটার নর্দমা/পাইপ ও ২৭ কিলোমিটার ফুটপাত সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে। গত দুই বছরে উত্তরার ১, ৩ ও ১৪ নম্বর সেক্টর; গুলশান, বনানী, বারিধারা এলাকার সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণকাজে ৪২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭৬ কিলোমিটার রাস্তা, ২৪২ কিলোমিটার নর্দমা, ৬৯ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়নকাজ হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও সড়ক, ফুটপাত ও সারফেস ড্রেন উন্নয়নকাজে ২৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বছরজুড়ে চলমান উন্নয়নকাজের সঙ্গে যোগ হবে।

সরেজমিন দেখা যায়, অনেক ব্যস্ত সড়কে চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। বড় আকৃতির গর্তে পড়ে যানবাহন বিকল হয়ে যাচ্ছে। ফলে যানজট তীব্র হচ্ছে। রামপুরা ব্রিজ থেকে মেরাদিয়া হাট পর্যন্ত প্রধান সড়কটির কয়েকটি স্থানে ভেঙে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রামপুরা ব্রিজ থেকে নামার পর এক পাশের অংশ এতটাই নাজুক যে যান চলাচলই বন্ধ হয়ে গেছে। আর বনশ্রী পুরো প্রকল্প এলাকার ‘এ’ থেকে ‘এম’ ব্লক পর্যন্ত বেশ কয়েকটি রাস্তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ‘বি’-ব্লক  ও ‘সি’ ব্লক মূল সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী। ‘ডি’, ‘ই’ ‘এফ’ ‘জি’ মূল সড়কটিও একই অবস্থা। ‘ডি’ ব্লকের প্রধান সড়কটি ভেঙে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ‘সি’ ব্লকের কয়েকটি সড়কের অবস্থাও নাজুক। ‘এ’ ব্লকের ১ নম্বর রোড ও বনশ্রীর পুরাতন ৫ নম্বর রোডটিও চলাচলের অনুপযোগী। রামপুরা টেলিভিশন ভবনসংলগ্ন থেকে বনশ্রী আবাসিক এলাকায় যাতায়াতের যে রাস্তাটি রয়েছে, তা প্রায় অচল। কুড়িল বিশ্বরোড় থেকে বাড্ডা হয়ে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত সড়টির একদিকে ভাঙা, অন্যদিকে খুঁড়ে রাখা হয়েছে।

প্রগতি সরণি, খিলগাঁও, বংশাল, যাত্রাবাড়ী, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা ও ধানমণ্ডি এলাকাতেও চলছে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি।

খোঁড়াখুঁড়ির পর হয় না মেরামত

awal (2)

রাজধানীর যেকোনো অংশে রাস্তা কেটে উন্নয়নমূলক কাজ করতে হলে দুই সিটি করপোরেশন থেকে অনুমতি নিতে হয়। সরকারি সংস্থারও রাস্তা কাটার সময় সিটি করপোরেশনকে নির্ধারিত ফি দিতে হয়।

ডিএনসিসি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাস্তা খনন ফি হিসাবে পেয়েছে ৩২ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরে সংস্থাটি এ খাত থেকে ৫০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

ডিএসসিসি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাস্তা খনন ফি হিসাবে অর্থ পেয়েছে ২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে রাস্তা খননের ফি হিসেবে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ২৫ কোটি টাকা।

অথচ বছরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ির পর রোকেয়া সরণির রাস্তাটি মেরামত করেনি ডিএনসিসি। ফলে এ সড়কে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগ নিত্যদিনের। মেট্রো রেলের কাজ অনেকাংশে শেষ হয়ে গেলেও রাস্তা মেরামত না করায় অর্ধেক রাস্তায় চলাচল করা দুষ্কর। এরই মধ্যে গ্যাসের লাইনসহ অন্যান্য সেবা সংস্থা নতুন করে কাজ শুরু করেছে। মিরপুর রোডের বিভিন্ন অংশে কাজ চললেও সিটি করপোরেশন সেগুলো সময়মতো মেরামত করেনি।

ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা সড়ক খননের জন্য একটি নির্ধারিত ফি পেয়ে থাকি। সেই অর্থ দিয়ে সরকারের অন্য সংস্থার খুঁড়ে রাখা রাস্তা মেরামতও করা হয়। অনেক সময় যারা রাস্তা খুঁড়েছে তাদের কাজ শেষ হলেও দাপ্তরিকভাবে জানানো হয় না। ফলে খুঁড়ে রাখা সড়ক মেরামত করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। ’

সমন্বয়হীন উন্নয়নকাজে ভোগান্তি বাড়ছে

41fb3803b9c54b97a839e44d5c16a124-5935e2bc25bfd

ডিএনসিসি, ডিএসসিসি, রাজউক, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ডিপিডিসি), পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিটিআরসি, এলজিইডি, ডেসকোসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নগরীতে উন্নয়নকাজ করে। তবে কাজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য সমন্বয় নেই। তাই একই রাস্তা একাধিকবার খোঁড়া চলে। রাস্তা কাটার জন্য অনুমতি নেওয়ার নিয়ম থাকলে সেই কাজে সমন্বয় হয় না। সমন্বয়নহীন কাটাকাটির ফলে মাটি, ইট, পাথর ও বালি পড়ে চলাচলে বিপত্তি বাধায়।

রাজারবাগ, মালিবাগ মোড়, শান্তিনগর, মৌচাক ও মালিবাগ রেলগেট এলাকাজুড়ে ডিএসসিসি ড্রেন-নর্দমা নির্মাণ করছে। আবার একই এলাকায় চলছে ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ। ফ্লাইওভারের স্লাব, আই গ্রাডার, বিম, ঢালাইয়ের কাজের ফলে রাস্তায় আর চলাচলের জো নেই।

একই অবস্থা পল্লবী-১২ নম্বর সেকশন থেকে মিরপুর-১০ হয়ে আগারগাঁও পর্যন্ত সড়কে। রোকেয়া সরণির এ সড়কে গত এক-দেড় বছরে ডিএনসিসি, তিতাস ও মেট্রো রেলের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। ঢাকা ওয়াসাও তাদের ড্রেনেজের উন্নয়নকাজ করছে বলে জানা যায়। একই সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি কয়েকটি সংস্থা সমন্বয়হীভাবে কাজ করার ফলে নাগরিকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।

সব উন্নয়নকাজ চলে বর্ষায়

বর্ষা এলেই সড়কে শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি। এপ্রিল-মে মাসে কাজ শেষ করার নিয়ম থাকলেও বেশির ভাগ উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয় জুন-জুলাইয়ে। অথচ জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত পুরোপুরি বৃষ্টির সময়। এ সময় ঢাকার রাস্তায় ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি হওয়ার ফলে যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, পুরো অর্থবছর বসে থেকে টাকা শেষ করতে তড়িঘড়ি করে সংস্থাগুলো জুন-জুলাই মাসে কার্যাদেশ দেয়। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হন। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নগরবাসী বছরের পর বছর ধরে বর্ষায় সড়কে নাকাল হয়।

নিয়ম মানে না ঠিকাদার

01035412-1

রাজধানীর মধ্যে সড়কে উন্নয়নকাজ করতে হলে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি থেকে লিখিত অনুমোদন নিতে হয়। অনুমোদনের সময় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে কোনো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করে না।

সিটি করপোরেশনের একাধিক প্রকৌশলী জানান, ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়ার সময় নিরাপত্তা বলয়, ট্রাফিক ডাইভারশন, প্রকল্পের নাম, সময়, ব্যয়—সব সাইনবোর্ডে প্রদর্শন করার কথা। রাতে করতে হলে অবশ্যই সতর্কতামূলক বাতি দেওয়াসহ সব সেবা সার্ভিস লাইন চালু রেখে কাজ করতে হবে। অনেক ঠিকাদার এসব শর্তের কথা জানেই না। প্রায় সব ঠিকাদারই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম করে নির্মাণসামগ্রী রাস্তায় রাখে। খোঁড়াখুঁড়ির সঙ্গে সঙ্গে মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এরপর এ গর্ত বালু দিয়ে সম্পূর্ণ ভরাট করে ছয় ফুট পর পর কম্প্রেসার দিতে হয়। কিন্তু ঠিকাদাররা কাজের সময় মাটি পাশে রেখে তা দিয়েই গর্ত ভরাট করে। ফলে চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়।

ডিএসসিসির ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওয়াহিদুল হাসান মিল্টন বলেন, ‘খিলগাঁও এলাকায় রাস্তায় কাজ করার জন্য ৪০ দিনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে রাখা হয়েছে। এতে ভয়াবহ ভোগান্তি হচ্ছে। আশপাশ এলাকায় ব্যাপক যানজট হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাউন্সিলরদের কিছু বলারও সুযোগ নেই। ’

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, ‘ঠিকাদাররা নিয়ম মেনে কাজ করে, তা এককথায় বলা যাবে না। অনেক সময় তারা উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে জনগণের ভোগান্তির সৃষ্টি করে। আমরা ঠিকাদারদের নিয়ে সভা করে বলেছি, বেঁধে দেওয়া নিয়মেই যেন কাজ করা হয়। ’

গুলশানের কাজে ‘কদর’ বেশি

গুলশান-বনানী ও বারিধারায় সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণের কাজ শেষ করেছে ডিএনসিসি। সেখানে কাজের সময় একটি লেনে কাজ করার সময় অন্য লেনে যানবাহন সহজেই যাতায়াত করেছে। রাস্তা গর্ত করে মাটি সঙ্গে সঙ্গে ট্রাক দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। কাজের মান আর পরিবেশ দেখে সবাই বেশ খুশি হয়েছিল। কিন্তু এ চিত্র আর অন্য স্থানে কাজ করার সময় দেখা যায়নি।

কুড়িল বিশ্বরোড থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত প্রগতি সরণির এক বছর ধরে উন্নয়নকাজ চলছে। ড্রেন পরিষ্কার, ফুটপাত নির্মাণের ফলে দীর্ঘ সময় এ সড়কটিতে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিন লেনের সড়কটি বর্তমানে বাড্ডা অংশে এক লেন ব্যবহার করা যাচ্ছে। রাস্তার মাটি খুঁড়ে পাশে রেখে দেওয়া হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীও রাস্তার ওপর। ফলে এ সড়কটিতে গুলশানের মতো নিয়ম মানছে না ঠিকাদার। একই অবস্থা রাজধানীর অন্যান্য এলাকায়ও।

ফিটনেস মেনে রাস্তায় চলে না যানবাহন

76178_b1

কোন রাস্তা কতটা ভার বহন করতে পারবে তা নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু সিটি করপোরেশনসহ যেসব সংস্থা এসব রাস্তা নির্মাণ বা মেরামত করে তারাই তা যেন ভুলে যায়। নিয়ম না মানায় রাস্তা নির্মাণের পরপরই ভেঙে যায়। অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শহরের কোনো সড়কের পাঁচ থেকে ১০ টনের ওপরে ভার নেওয়ার সক্ষমতা নেই। কিন্তু বাস্তবে ৪০ টনের যানবাহনও চলাচল করে।

রাজধানীর রামপুরা-আমুলিয়া সড়কের ভার বহনের ক্ষমতা পাঁচ টন। সেই রাস্তায় চলে ৩০-৪০ টন পণ্যবাহী লরি-ট্রেইলর। ফলে অল্প দিনেই রাস্তাটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কে ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞাসংবলিত সাইনবোর্ড দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রামপুরা ব্রিজ থেকে বনশ্রীর পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রামপুরা-ডেমরা সড়কটি মিশেছে ঢাকা-ডেমরা হাইওয়েতে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক বিভাগের বসানো সাইনবোর্ডগুলোতে লেখা রয়েছে, ‘ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ। ’ তবে তা অমান্য করে চলছে ১০ থেকে ২০ চাকার লরি ও ট্রেইলর। সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগকে চিঠি দিয়েও জানানো হয়।

গত ২০ এপ্রিল বিষয়টি জানিয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ঢাকা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মেহেদী ইকবাল এ চিঠি দিয়েছেন। তাতে বলা হয়, গত বছর ডেমরা-আমুলিয়া-রামপুরা সড়কটি হালকা ও মাঝারি ওজনের যানবাহনের জন্য নির্মাণ করা হয়। চালু হওয়ার পর থেকেই সড়কটিতে ভারী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি, ফুয়েল ট্যাংকারসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচল শুরু করে। ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও লাগানো হয়েছে। তার পরও ভারী যান চলছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও গর্ত সৃষ্টি হয়ে ভেঙেচুরে গেছে। ’ তবে এতেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এ সড়কে বর্তমানে ভারী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রাস্তাগুলোতে ২০ টন ভারী যানবাহনও চলাচল করে। কিন্তু রাজধানীর কোনো সড়কই এ ভার সহ্য করার ক্ষমতা দিয়ে তৈরি করা হয়নি। আমাদের সড়কগুলোর সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ১০ টন ভারী যানবাহনের চাপ নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। শহরের প্রবেশ মুখে আমরা ওজন পরিমাপ যন্ত্র বসিয়ে যানবাহন প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। ’

-লিপু

Comments