|

রসিক নির্বাচনে ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ ভোট পড়েছে: ইসি

রসিক নির্বাচনে ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ ভোট পড়েছে: ইসি
রসিক নির্বাচনে ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ ভোট পড়েছে: ইসি
Print Friendly

এফ টি বাংলা

উৎসমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। চলছে ভোট গণনা। এবার রসিক নির্বাচনে ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ ভোট পড়েছে বলে  প্রাথমিকভাবে  ধারণা করেছেন নির্বাচন কমিশন।

সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে দীর্ঘ সারি পেরোতে হলেও ভোটারদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস।

৩০ নম্বর ওয়ার্ডের খাসবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন শামিম পারভেজ। ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এবার যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা নজিরবিহীন। আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছি।”

প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

বেলা ১২টায় ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাহিগঞ্জ বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায় নারী ভোটারের দীর্ঘ লাইন। সেখানে কথা হয় শাহনাজ পারভীন রেশমার সঙ্গে।

তিনি বলেন, “ভোট দেওয়ার জন্য ১১টায় এসেছি। ১২টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ভোট দিয়ে বাসায় ফিরে রান্না-বান্না করতে হবে।”

এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান জানান, এখানে মোট ভোটার দুই হাজার ১৪৫ জন। বেলা ১২টা পর্যন্ত ৪৮ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। এরমধ্যে ৩০ শতাংশ নারী ভোটার।

২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একসঙ্গে ভোট দিতে আসেন পাঁচ তরুণ; এটাই তাদের ভোট দেওয়া। আর শুরুর অভিজ্ঞতায় সন্তোষ ঝরেছে তাদের কণ্ঠে।

তাদেরই একজন মুতাসির আলম বলেন, “আমরা পাঁচ বন্ধু। প্রথম ভোট দিলাম। খুব ভালো লাগছে। আমরা যাদেরকে ভোট দিয়েছি তারা সকলেই হয়তো জিততে পারবেন না। কিন্তু আমাদের কাছে তারা যোগ্য, সৎ মনে হয়েছে বলেই ভোট দিয়েছি।”

সকালে ভোট দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মেয়র পদের প্রার্থী সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ফলাফল নিয়ে শঙ্কার কথা বলেছেন বিএনপির প্রার্থী। তবে ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তাদের সবাই।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেছেন, নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট নিয়েছেন তারা। পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফেয়ার ইলেকশন এলায়েন্সের (ফেমা) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রদীপ কুমার পাল দুপুরের পর বলেন, “আমরা ১২টি ভোট কেন্দ্র পর্যেবেক্ষণ করেছি। এসব কেন্দ্রের বুথে বুথে গেছি। নির্বাচন স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ হচ্ছে।”

ভোট গ্রহণের  ১৩ মিনিট পরই একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষ হয়েছে। এই অনন্য রেকর্ড ঘটেছে রংপুরের বেগম রোকেয়া কলেজ কেন্দ্রে। সেখানে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করে ভোট নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের পছন্দের মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছেন।

নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রে এক হাজার ১২২টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি। সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে এবার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন। যা গত বছরের চেয়ে ৩৬ হাজার বেশি। এরমধ্যে পুরুষ এক লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৬ জন। নারী এক লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ জন।

-লিপু

Comments