|

অনিন্দ্য সুন্দর শশীলজ

thumb_L20180201200224
Print Friendly

এফ টি বাংলা

ময়মনসিংহের এই জমিদার বাড়িতে কোনদিন বেড়াতে না গেলেও, অনেকেই বাড়িটি দেখেছেন। আবার অনেকের কাছেই বাড়িটা পরিচিত মনে হবে। কি শুনতে আশ্চর্য লাগছে? আশ্চর্য লাগলেও কথা কিন্তু সত্য।

তাহলে রহস্যটা বলা দরকার তাই না? বলছি শশীলজ জমিদার বাড়ির কথা, এবার বুঝতে পারছেন? না পারলে আরোও খুলে বলি হুমায়ূন আহমেদের ‘অয়োময়’ নাটকের মির্জাবাড়ির কথা মনে আছে? এই শশীলজই হচ্ছে অয়োময় নাটকের মির্জাবাড়ি।

মুক্তাগাছা জমিদার বংশের উত্তরসুরি মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য ১৮ শতকের শেষার্ধে ‘ক্রিস্টাল প্যালেস’ নামে এক মনোরম প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন, যা ‘রংমহল’ নামেও পরিচিত ছিল। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্পে এ প্রাসাদ ধ্বংস হয়ে যায়।

220180201201258

১৯ শতকের শুরুর দিকে মহারাজ সূর্যকান্ত আচার্য একই স্থানে বাইজেন্টাইন ধাঁচের নির্মাণ শৈলীতে শশী লজের নির্মাণ শুরু করেন। ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই সূর্যকান্ত আচার্য মত্যুবরণ করেন। নিঃসন্তান সূর্যকান্তের দত্তক পুত্র শশীকান্ত আচার্য ১৯০৫ সালে এ ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। তাঁর নামানুসারে এ ভবনের নামকরণ হয় ‘শশী লজ’। মহারাজ শশীকান্ত ১৯১১ সালে সৌন্দর্যবর্ধনে কিছু সংস্কার কাজ করে এ ভবনকে করে তোলেন অনিন্দ্য সুন্দর।

জমিদার বাড়ির সদর দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকতেই অবাক হতে হয়। চারিদিকে সাজানো-গোছানো ফুলের বাগান। মাথার উপরে বিশাল বিশাল গাছ। অনেক পুরানো এসব গাছ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

320180201201306

বাগানের প্রায় মাঝখানে শ্বেত মার্বেল পাথরের ভেনাসের পূর্ণাঙ্গ একটি মূর্তি। ১০০ বছরের বেশি সময় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে মূর্তিটি। এককালে এই মূর্তির পদযুগল স্নাত হতো জলের ফোয়ারায়। মূর্তির ঠিক নিচ থেকে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে এবং চারপাশ থেকে আলোক প্রক্ষেপণের ব্যবস্থা ছিল।

মোট ৯ একর জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই শশীলজ। ভবনের প্রধান দরজায় রয়েছে ১৬টি গম্বুজ।

১৯৫২ সালে এখানে মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জাদুঘর স্থাপনের জন্য শশীলজ নিয়ে নেয়।

১৮টি বিশাল বিশাল ঘর নিয়ে শশীলজ জমিদার বাড়ি । বারান্দা ও করিডোর নিয়ে ভবনটি ৫০হাজার বর্গ ফুটের কম হবে না। পুরো ভবনের ফ্লোর মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত। ছাদে উঠার জন্য একটি কারুকাজ করা লোহার প্যাঁচানো সিঁড়ি আছে।

বাড়িটিতে বেশ কিছু স্নানঘর রয়েছে। একটি স্নানঘরে রয়েছে সুড়ঙ্গ। শোনা যায় এই সুড়ঙ্গ পথেই গোপনে মুক্তাগাছা যাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। মুক্তাগাছার জমিদার বাড়িতেও এই রকম একটি সুড়ঙ্গ পথ পাওয়া যায়।

520180201201320

বাড়ির পিছনে রয়েছে সান বাঁধানো পুকুর। পুকুর পাড়ে হাওয়া খাওয়ার জন্য দোতলা ছোট্ট একটি ঘর। সিঁড়িটা বেশ সুন্দর। প্রতি তলায় দুই পাশে কমোড লাগানো ২টি করে টয়লেট। পুকুরের বাঁধানো সিঁড়ির দুপাশ দিয়ে পুকুরের বেশ কিছুটা ভেতরে ২টি গোল স্তম্ভ। পুকুর পাড়েই গোলাকৃতির একটি কাপড় পরিবর্তনের ঘর রয়েছে।

কথিত আছে এক সময় মুক্তাগাছার মণ্ডা শুধুমাত্র মহারাজাদের জন্য তৈরি হতো। রাজারা তাদের ভোজন অতিরিক্ত মণ্ডা নিজেরা ছাড়া কাউকে খেতে দিতেন না। অতিরিক্ত মণ্ডা প্রিয় দুই হাতি শঙ্খ ও সম্ভুকে খাওয়াতেন। শঙ্খ ও সম্ভুর আংশিক কংকাল শশী লজের অদূরে মোমেনশাই জাদুঘরে রাখা আছে।

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাবার যে কোন বাসে উঠে ময়মনসিংহ শহরে নামবেন। সেখান থেকে রিক্সা বা অটো-রিক্সায় চড়ে শশী লজ যেতে পারবেন সহজেই।

-লিপু

Comments