30969

01/12/2026

চীন-বাংলাদেশের ওপর নজর রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ভারতের নতুন নৌঘাঁটি

S M Fatin Shadab | Published: 2026-01-11 11:42:04

বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে নৌ-উপস্থিতি জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় নতুন একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী। চীনের নৌ তৎপরতা বৃদ্ধি, পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে উদ্ভূত আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’।

প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হলদিয়ার এই স্থাপনাটি পূর্ণাঙ্গ নৌঘাঁটি নয়; বরং এটি একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে। এখানে মূলত ছোট আকারের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। বিদ্যমান হালদিয়া ডক কমপ্লেক্স ব্যবহার করেই ঘাঁটিটি দ্রুত কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি বিশেষ জেটি ও প্রয়োজনীয় উপকূলীয় পরিকাঠামো নির্মাণ করা হবে।


দ্রুতগতির নৌযান মোতায়েন

নতুন এই ঘাঁটিতে ‘ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট’ এবং ৩০০ টন ওজনের ‘নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট’ মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব নৌযান ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। এগুলোতে সিআরএন-৯১ কামান থাকছে এবং ভবিষ্যতে নাগাস্ত্রার মতো টহলদারি যান যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা নজরদারি ও আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াবে।


সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়তে থাকা এবং সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।

ভারত–বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চলের অগভীর জলরাশি ও বেশি নৌযান চলাচলের কারণে দ্রুতগতির এই নৌযানগুলো নজরদারি, প্রতিরোধ ও আটক কার্যক্রমে বেশি কার্যকর বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

চীন প্রসঙ্গ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা

চীনের নৌবহর সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে দেশটির অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে হলদিয়ার এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব আরো বেড়েছে।


একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কও ভারতকে উদ্বেগে ফেলেছে।
ছোট তবে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হলদিয়ার এই নৌ স্থাপনাটি আকারে তুলনামূলক ছোট হবে। এখানে প্রায় ১০০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক অবস্থান করবেন। এটি কোনো স্বতন্ত্র নৌকমান্ড হিসেবে কাজ করবে না। তবে কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান হওয়ায় এবং হুগলি নদীপথের দীর্ঘ যাত্রা এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুবিধা থাকায় এটি কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে।


ভারতের পূর্ব উপকূলে বর্তমানে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দপ্তর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হালদিয়ার জন্য জমি আগেই নির্ধারিত ছিল, তবে নানা কারণে নির্মাণকাজ বিলম্বিত হচ্ছিল।

এই উদ্যোগ ভারতীয় নৌবাহিনীর বৃহত্তর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল ১২০টি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট ও ৩১টি নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট কেনার অনুমোদন দেয়।

প্রায় ১০০ টন ওজনের এসব নৌযানে সাধারণত ১০ থেকে ১২ জন সদস্য কাজ করতে পারেন। উপকূলীয় টহল, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, বন্দর নিরাপত্তা ও বিশেষ অভিযানে এসব নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman

Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81