April 18, 2024, 2:26 pm


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2024-03-05 01:43:40 BdST

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দুর্নীতির নমুনা!


সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একজন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সর্বসাকুল্যে বেতন পান ৭০-৭৫ হাজার টাকা। চাকুরী জীবনের শুরু থেকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদায়ন পর্যন্ত একজন প্রকৌশলী ২৫ বছরে যদি গড় হিসেবে ৬০ হাজার টাকা বেতন উত্তোলন করে তাহলে ২৫ বছরে সর্বোচ্চ ১,৮০,০০,০০০/ (এক কোটি আশি লক্ষ টাকা) বেতন উত্তোলন করতে পারে।  যদি ৫০ হাজার টাকা করে আয় করে তাহলে ২৫ বছরে ১,৫০,০০,০০০/ (এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা) আয় করার সুযোগ রয়েছে। এর বেশী হওয়ার কথা নয়।

কিন্তু বাস্তবিক অর্থে যদি ঢাকাতে ঐ প্রকৌশলীর আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট থাকে তাহলে এর হিসাব মিলানো একজন গনমাধ্যমকর্মীর পক্ষে সম্ভবপর নয়। এমনটাই হয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং  প্রধান প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে।

অতি সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একজন সাবেক প্রধান প্রকৌশলীকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করে একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে। শুধু একজন প্রধান প্রকৌশলীই নন, এরকম ডজন ডজন নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে তত্বাবধায়ক এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর অবৈধ সম্পদ আহরণের তথ্য 'দ্যা ফিন্যান্স টুডে' এবং জাতীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা 'গোয়েন্দা ডায়েরি'র অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান মেয়াদে সরকার গঠনের পূর্বে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব পোষণ করেছেন। এমনকি সরকার গঠনের পর ১ম বক্তব্যেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করার কথা পুনঃব্যক্ত করেছেন। সরকারপ্রধানের এমন কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী বাহিনী স্বউদ্যোগে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযানে নেমেছে। একইসাথে গনমাধ্যমও কিছুটা আশার সঞ্চার করে দুর্নীতিবাজদের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি তার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করলে ভিতরে ভিতরে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আতংকিত হয়ে পড়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক দপ্তরে রীতিমতো ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম একটি খাত হলো সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। দেশের রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট নির্মানে এই মন্ত্রণালয় কাজ করে থাকে। সরকারের শত শত কোটি টাকার মেগা প্রকল্প এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তাই দেশের বড় বড় রাঘববোয়ালদের দৃষ্টিও এই মন্ত্রণালয়কে ঘিরে একটু বেশীই।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের সদস্যরা  প্রভাবশালী হওয়ায় এই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাপটও একটু বেশী। গনমাধ্যমকে এরা তোয়াক্কা করতে চায় না অধিকাংশ সময়। গনমাধ্যমে প্রকাশিত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদও পেশী শক্তির ভয় দেখিয়ে দাবিয়ে রাখতে চায়।

চলতি মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে কঠোর মনোভাব; তা বাস্তবায়ন করতে গেলে গনমাধ্যমে প্রকাশিত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। 

আমাদের আজকের অনুসন্ধানে উঠে আসা অসংগতি যদি দুর্নীতি দমন কমিশনের সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালনা করা হয় তাহলে সত্যিকার অর্থেই প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশিত সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবে।

কেস স্টাডি

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মেইনট্যানেন্স সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল হাসান বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত।

তথ্যসূত্র মতে, তিনি রাজধানীর ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ১২/এ তে নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। ধানমন্ডির ১৫/এ সড়কের ৫০ নং বাড়ি স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের অধীনে নির্মিত ভবন উক্ত অভিজাত এলাকার সবচেয়ে বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট।

উক্ত বিলাসবহুল এপার্টমেন্টের প্রতিটি ফ্ল্যাটের মূল্য বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী আনুমানিক ২,৫০,০০০/- থেকে ৩,০০,০০০০/- (আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা)।

একজন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তো দূরের কথা; একজন প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষে চাকুরী জীবনের সমস্ত বেতন দিয়েও এই জাতীয় একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করা সম্ভব নয়।

উক্ত ভবনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আরও একজন অতিরিক্ত প্রকৌশলীর নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও মৌলভীবাজার সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমও বসবাস করেন।

তথ্যসূত্র মতে, জাহাঙ্গীর আলম উক্ত ভবনে স্বপরিবারে ভাড়া থাকেন। উক্ত ফ্ল্যাটের ভাড়া, সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ আনুমানিক ৫০,০০০/- ব্যয় করা হয়।

দ্যা ফিন্যান্স টুডের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জিকরুল হাসান ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী; যিনি অত্যন্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তি বাস্তবে ধানমন্ডির এই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে তারা থাকেন না। তারা থাকেন মূলত ধানমণ্ডি ১২/এ এবং লালমাটিয়ার সি ব্লকে। 

সরকারের একজন কর্মকর্তা কিভাবে এত দামী সম্পদের মালিক হলেন তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।এর বাইরেও তাদের আর কি কি সম্পদ আছে তা দ্যা ফিন্যান্স টুডের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে; যা আগামী পর্বে প্রকাশিত হবে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা