31378

01/29/2026

বিটিসিএল কর্মকর্তা আজাদ মিয়ার ৭৫ কোটি টাকার ভয়াবহ প্রতারনার ফাঁদ

S M Fatin Shadab | Published: 2026-01-29 19:04:54

বিটিসিএল কর্মকর্তা আজাদ মিয়ার ৭৫ কোটি টাকার ভয়াবহ প্রতারনার ফাঁদ


মোঃ আলমগীর হোসেন


বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর ডিজিএম (গ্রাহকসেবা) আজাদ মিয়ার ৭৫ কোটি টাকার ভয়াবহ জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে। যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা/সমালোচনার জন্ম দিয়েছে দপ্তরটিতে। অনেকের মতে প্রতারণার নতুন সূত্র আবিস্কার করেছেন তিনি। করেন সরকারি চাকরি, অথচ টাকা নিয়েছেন ব্যবসায়ী সেজে। যাদের থেকে টাকা নিয়েছেন, তাদের না আছে সঠিক ঠিকানা, আর না আছে অর্থনৈতিক সামর্থ্য। কোন দায় নেই, নেই সঠিক উত্তর। সরকারি চাকরি করেন, সময়মতো বেতনও নেন শুধু অফিস করেন না ঠিকমতো। বিটিসিএল সংস্থাপন শাখা-৩ এ কথা বলে জানা গেছে, আজাদ মিয়া ঠিকমতো অফিস না করার কারণে তিনবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরাও তাকে খুঁজছি কিন্তু পাচ্ছিনা। কেন পাচ্ছেনা কারন জানাতে পারলেন না।
এ যেন মগের মুল্লুক, দেখার কেউ নেই। দুর্নীতির করাল গ্রাসে আক্রান্ত বাংলাদেশ। যে যেভাবে পারছে, সে ভাবেই ফাঁকা করছে সরকারি কোষাগার। বিষয়টি এমন “সরকারি মাল, দরিয়া মে ঢাল”। এমনই এক ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এ কর্মরত কর্মকর্তা আজাদ মিয়া। গত ২২-০৭-২৫ তারিখে নোটারীকৃত একশত টাকা মূল্যমানের তিনটি ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের একটি চুক্তিপত্রের কপি দৈনিক “বর্তমানদিন” অনুসন্ধানী টিমের হাতে এসেছে। যার সিরিয়াল নম্বর-গক,৯৯৬৮২০, গক,৯৯৬৮২১ ও গক,৯৯৬৮২২। তাতে দেখা যাচ্ছে, আজাদ মিয়া তার ব্যবসায়িক কাজের জরুরি প্রয়োজনে আপন ভাই মোঃ মাসুম মিয়াকে দ্বিতীয় পক্ষ এবং মোঃ মাহফুজার রহমান ও মোঃ আমির হামজাকে প্রথম পক্ষ বানিয়ে ৭৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, সরকারি চাকরীবিধি অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হয়ে কোন অবস্থাতেই ব্যবসা করতে পারেন না। অথচ, যে দুজন ব্যক্তির নিকট থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন মর্মে উল্লেখ করেছেন চুক্তিপত্রের ঠিকানা মোতাবেক অনুসন্ধান করে একজনের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি এবং একজনের ঠিকানা পেলেও ৭৫ কোটি টাকাতো অনেক দুরের কথা তার পুরো পরিবারের সমস্ত সহায় সম্বল বিক্রি করলে ৫০ লক্ষ টাকার সম্পদ হবেনা। আর এখানেই দানা বেধেছে সন্দেহের। বর্তমানে বিষয়টি টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিনত হয়েছে।
যে কোন মুহূর্তেই বের করতে পারে শত কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে নানারকম চুক্তিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠলেও বিটিসিএল এ নাকি এটাই সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অনিয়মের ঘটনা। কয়েক বছর আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি চেকের মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা লেনদেনের বিষয়টি সারাদেশে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো। পরে জানা যায়, “এটি ছিল তার পদোন্নতি সংক্রান্ত লেনদেনের একটি গোপন অংশ।” সে সময় খবরটি দেশে বেশ আলোচিত সমালোচিত হয়েছিল। এরপর, একজন সচিবের ৩৫ কোটি টাকার চুক্তিসহ একাধিক চেকের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি মিডিয়ার নজর কাঁড়লেও বহাল তবিয়তে রয়ে যায় তারা। মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য প্রমানসহ যতই দুর্নীতিবাজদের সামনে আনা হোকনা কেন, তাদের কিছুই হয়না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অতীতে দুর্নীতিবাজদের দৃশ্যমান কোন শাস্তি না হওয়ায় বিচার হীনতার সংস্কৃতি এখনো চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন আজাদ মিয়া। বাবা দরগার পীর, স্থানীয় মানুষের মতে অনেক ভালো মানুষ। আজাদ মিয়ার বড় ভাই মাসুম মিয়া ছিলেন স্থানীয় মসজিদের মোতওয়াল্লি। এখন ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে একটা দোতলা পুরাতন বিল্ডিং, একটা টিনের ছাপড়া ঘর, চারিপাশে ওয়ালের বাউন্ডারি। এই বাড়ীতেই জন্ম হয়েছে আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের জন্ম দেওয়া আজাদ মিয়ার। পিতা-খাজানুর বাবু মিয়া, মাতা-সৈয়দা আয়শা বানু, গ্রাম- দরগা পাড়া, থানা-শাহাজাদপুর, জেলা- সিরাজগঞ্জ। তার দাপ্তরিক পরিচিত নং-(২৩৪০), তাকে গত ২৮ নভেম্বর ২০২৪ খ্রিঃ টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর হতে বিমুক্ত করে ০১-১২-২০২৪ তারিখে বিটিসিএল এ পদায়নসহ সংযুক্ত করা হয়। আজাদ মিয়ার বর্তমান পদবী-ডিজিএম (গ্রাহক সেবা) বিটিসিএল, বরিশাল। “৫ জি’র উপযোগীকরণে বিটিসিএল এর অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন” প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গত ২২-০৫-২০২৫ তারিখে সাইদ মাহমুদ, জি এম (এইচআর-১) কর্তৃক স্বাক্ষরিত চিঠিতে মোঃ শামীম ফকির, ব্যবস্থাপক (সিটি) বরিশালের স্থলে নিযুক্ত হন। এর আগে তিনি ৮ জুলাই ২০২৫ সাল থেকে ১৭-০৭-২০২৫ পর্যন্ত বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। ষ্টাম্পে উল্লেখিত চুক্তিপত্রে লিখা হয়েছে ২২-০৭-২০২৫ হইতে ১৮ মাস পর হতে ২৩-০১-২০২৭ তারিখের মধ্যে একত্রে বা কিস্তিতে অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে আলোচনা সাপেক্ষে পরিশোধ করিতে পারিবেন। স্টাম্পে দেখা যাচ্ছে আমীর হামজার নামে পাচঁ কিস্তিতে পরিশোধের জন্য ঘইখ শাজাদপুর ব্রাঞ্চের ৫টি চেক দেওয়া হয়েছে। চেক নম্বরগুলো (১) শ৯২২০০৩৫, ১৫ লক্ষ টাকা। (২) ক৯২২০০৩৬, ১৭ লক্ষ টাকা। (৩) ক৯২২০০৩৭, ১৮ লক্ষ টাকা। (৪) শ৯২২০০৩৮, ১৩ লক্ষ টাকা ও ক৯২২০০৩৯, নম্বরে-১২ লক্ষ টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আজাদ মিয়ার বিষয়ে একাধিকবার বিটিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মামুনুর রশীদের সাথে সাক্ষাতের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি সেই সাথে আজাদ মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান বিষয়টি আমার কাছেও এসেছে কোন কুচক্রীমহল আমার সম্মানহানী করার উদ্দেশ্য নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ এ ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। এবিষয়ে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কিনা জানতে চাইলে সঠিক উত্তর না দিয়ে প্রতিবেদককে এড়িয়ে যান। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আগামী পর্বে প্রতারণার কুশীলব ও চক্রের সমস্ত বিষয় অনুসন্ধানে উঠে আসবে।


Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman

Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81