March 12, 2026, 7:28 pm


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2026-03-12 17:53:22 BdST

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনঢাকা-১১ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করলেন বিএনপির কাইয়ুম


সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন ঢাকা-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানি হবে।

এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এর আগে, ৩০-এর বেশি প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।

শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে ওইসব আসনের ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করছেন।

উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনের ফলাফলের কিছু অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করে ভোটের ঘোষিত ফলাফল স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করার জন্য আবেদন করেন বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম।

আরও পড়ুন: ঢাকা-১১ আসনের ভোট বাতিলের আবেদন এম এ কাইয়ুমের

নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে এই লিখিত আবেদন জমা দেন তিনি।

আবেদনে কাইয়ুম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ঘোষিত ফলাফল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (RPO, 1972) এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী বিধিমালার পরিপন্থী গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।’

আইনগত ভিত্তি
১. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ধারা ৩১ ও ৩৭ অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে।

২. ধারা ৪২ ও ৪৩ অনুযায়ী ভোট গণনার সময় প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক এবং গণনার স্বচ্ছতা রক্ষা করা আবশ্যক।

৩. ধারা ৪৪এ ও ৪৪ই অনুযায়ী ফলাফল ঘোষণার পূর্বে সঠিকভাবে ব্যালট গণনা ও আপত্তিকৃক্ত ভোটে নিষ্পত্তি করা আবশ্যক।

৪. ধারা ১১ ও ১৪ অনুসারে, গুরুতর অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত হলে তা আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জযোগ্য এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনযোগ্য।

৫. নির্বাচন কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ ও ১১৯ অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা ও তদারকির পূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়িত্ব বহন করে।

লিখিত অভিযোগে এম এ কাইয়ুম নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং গণনায় বাস্তবিক যে অনিয়মগুলো তুলে ধরেছিলেন তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো।

বাস্তবিক অনিয়মগুলো

১. প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রদত্ত ১৫ থেকে ৫০টি করে বৈধ ভোট অযৌক্তিকভাবে বাতিল (rejected) করা হয়েছে। সকল কেন্দ্রের সম্মিলিত হিসাব অনুযায়ী ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সর্বনিম্ন ৩,৫০০ (তিন হাজার পাঁচশত) ভোট পদ্ধতিগতভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

২. নির্দিষ্ট কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট বৃদ্ধি: বেরাইদ এ কে এম রহমতউল্লাহ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে গভীর রাতে রায় ১,২০০ এবং রামপুরা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রায় ১,৫০০ ভোট অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বেরাইদ এলাকার অন্যান্য সব কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হলেও একটি মাত্র কেন্দ্রে এই বিপুল ব্যবধান সুস্পষ্টভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ ও কারচুপির ইঙ্গিতবাহী। এই দুই কেন্দ্রে মিলিতভাবে প্রায় ২ হাজার ৭০০ ভোটের কারসাজি হয়েছে।

৩. বাড্ডা হাই স্কুল ভোটকেন্দ্রে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের কারণে প্রায় ২ (দুই) ঘণ্টা ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা হয়। এই দীর্ঘ বিরতির ফলে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে আসা বিপুল সংখ্যক ভোটার দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ভোট প্রদান করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এটি ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সুস্পষ্ট বাধা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধারা ৩১-এর পরিপন্থী।

৪. বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গণনার সময় এজেন্টদের বাধা প্রদান/ বহিষ্কার করা হয়েছে।

৫. ফলাফল বিবরণী ও কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের হিসাবের মধ্যে ব্যাপক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়েছে।

৬. আপত্তিকৃত ভোট যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করে ফলাফল চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ব্যালট পেপার পুনর্গণনার আবেদন সমেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

উপরোক্ত অনিয়মগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা, বৈধতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আইনের দৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতিতে ফলাফল পুনর্বিবেচনা ও ভোট পুনর্গণনা করা ন্যায়সঙ্গত ও প্রয়োজনীয় বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন এম এ কাইয়ুম।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.