31929

02/19/2026

প্রথম রোজাতেই চড়া পেঁয়াজের দাম, কেজিতে বাড়ল ১০-১৫ টাকা

সামিউর রহমান লিপু | Published: 2026-02-19 17:41:37

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীর বাজারে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম। সরবরাহ সংকট ও চাহিদার অজুহাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মালিবাগ বাজার, শান্তিনগর বাজার, ধানমন্ডি কাঁচাবাজার ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। রমজান মাসের প্রথম দিনেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আকারে একটু ছোট পেঁয়াজ আবার ৫৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। তবে কোনো দোকানেই ৬০ টাকার নিচে ভালো মানের পেঁয়াজ মিলছে না। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

পেঁয়াজ বিক্রেতা হাসান মাহমুদ বলেন, আজকে নয়, গত দুই-তিন দিন ধরেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। মৌসুমের শেষের দিকে সরবরাহ কমে যাওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং চাহিদা বাড়ার কারণে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। রমজানকে কেন্দ্র করে পাইকারি পর্যায়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক বিক্রেতা জানান, আগের তুলনায় মোকামে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কয়েক দফা বেড়েছে; ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা ছাড়া তাদের হাতে বিকল্প নেই। রমজানের প্রভাবও পাইকারি বাজারে দেখা যাচ্ছে।

'সরবরাহ না থাকায় দাম বৃদ্ধি'

ঢাকার একাধিক বাজারের পেঁয়াজ আড়তমালিক ও খুচরা বিক্রেতাদের 'সরবরাহ না থাকায় দাম বৃদ্ধি'র এমন দাবির যৌক্তিকতা খুঁজতে ঢাকার নিকটবর্তী রাজবাড়ী জেলার পাইকারী বাজারে গিয়ে দেখা গেলো পুরোই ভিন্নচিত্র। রাজবাড়ীর সদর ও বালিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। দুই দিন আগে প্রতিমণ পেঁয়াজের দাম ছিল ২ হাজার টাকা।

আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ীতে পেঁয়াজের দরপতনে ক্ষতির মুখে কৃষক

উল্লেখ্য, রাজবাড়ী জেলা পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের মধ্যে তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ পেঁয়াজের যোগান দেয় রাজবাড়ী জেলা। জেলার পাঁচ উপজেলায় কমবেশি পেঁয়াজের আবাদ হলেও পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালীতে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয়। তবে বাম্পার ফলন সত্বেও দুই দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলার পেঁয়াজচাষী মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা জানান, 'রাজবাড়ীতে মুড়িকাটা ও হালি নামের দুই ধরনের পেঁয়াজ হয়। মুড়িকাটা পেঁয়াজের পর বাজারে হালি পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার মাশালিয়া হাটে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার টাকায়, আজ সকাল থেকে দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। ভয়াবহ দরপতনে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।'

রাজবাড়ী সদর উপজেলার কৃষক হামিদ ব্যাপারী অভিযোগ করেন, 'পেঁয়াজের বাজারে সিন্ডিকেট চলে। ঢাকা থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে আমরা ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ক্ষতি করছি। দাম কমে পেঁয়াজ বাজারে না পাঠিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।'

মাশালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী শেখর দাস জানান, 'আমরা প্রতি মণ পেঁয়াজ ক্রয় করছি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। মূলত পরিবহন খরচের কারণে খুচরা বাজারে দাম বেশি। সরকারের উচিত হতো রাজবাড়ীর হাট বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ করা।'

ঢাকার বাইরে দাম না পাওয়ায় কৃষক যখন ক্ষতির মুখে তখন ঢাকায় পেঁয়াজের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাজার করতে আসা অনেক সাধারন মানুষ। মারুফ হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, রমজান এলেই ব্যবসায়ীদের ক্রেতাদের পকেট কাটার ধান্দা থাকে। গত সপ্তাহে আমি ১০০ টাকার নিচে দুই কেজি পেঁয়াজ কিনেছি, আর আজকে দাম চাচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

রিকশাচালক মো. শুক্কুর আল আমিন বলেন, ভ্যানগাড়ি থেকে দুই দিন আগে ৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। আমার ছোট পরিবার, সপ্তাহখানেক চলে যাবে। তারপর তো বেশি দামেই কিনতে হবে। রোজার সময় দাম বাড়বে এটা তো জানতামই, ব্যবসায়ীরা রোজা আসলেই দাম বাড়িয়ে দেয়।


Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman

Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81