05/29/2026
বিশেষ প্রতিবেদক | Published: 2026-05-28 07:36:12
আজ ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের প্রথম দিনে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত “ক্লীন সিটি-গ্রীন সিটি” পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুততম সময়ে পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের দিন ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর সব বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। এক্ষেত্রে, পশুর বর্জ্য অপসারণে সচেতনতা ও করণীয়সমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো।
➤ পশুর উচ্ছিষ্টাংশ, নাড়িভুঁড়ি ও রক্ত যেখানে-সেখানে না ফেলে সিটি কর্পোরেশন থেকে সরবরাহকৃত বর্জ্য ব্যাগে বা বস্তায় ভরুন।
➤ ব্যাগ বা বস্তায় ভরা বর্জ্য সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশিত নির্দিষ্ট স্থানে বা ডাস্টবিনে ফেলুন, যাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুত অপসারণ করতে পারেন।
➤ পশুর রক্ত বা উচ্ছিষ্টাংশ কোনো অবস্থাতেই ড্রেন, সুয়ারেজ লাইন বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না। এতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে।
➤ কোরবানির স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং জীবাণুনাশক হিসেবে পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্লিচিং পাউডার বা স্যাভলন ব্যবহার করুন।
যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতার অভাবে কোরবানির পশুর রক্ত ও নানা উচ্ছিষ্ট থেকে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের সম্ভাবনা রয়ে যায়। পশুর এসব বর্জ্য বিভিন্ন রোগবালাই ছড়ায়। তাই পশু কোরবানির পর স্থানটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে আমাদের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।
পশু জবাইয়ের জন্য বসতবাড়ি থেকে যথাসম্ভব দূরবর্তী কোনও পরিষ্কার স্থান বেছে নেওয়া উচিত।পশুর রক্ত যেন গর্তেই জমা হয়, ছড়িয়ে না পড়ে। গর্ত মাটি দিয়ে এমনভাবে ঢেকে দিতে হবে যেন রক্তের পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে না পারে। বর্জ্য গর্তে মাটিচাপা দিতে হবে। চামড়া ছাড়ানো ও মাংস সংগ্রহের পরে জায়গাটি ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং পরিমাণ মতো ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিতে হবে, যাতে ঐ জায়গার দুর্গন্ধ জনদুর্ভোগের কারণ না হয়।
জবাইকৃত পশুর রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, গোবর, হাড়, খুর, শিং ইত্যাদি সঠিক ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার অভাবে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়সহ জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজর দিতে হবে সুনির্দিষ্টভাবে।
অনেক সময় আমরা কোরবানির পশুর খাওয়ার অযোগ্য অংশবিশেষ যত্রতত্র ফেলে রাখি। নগর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর না হলে সেসব অংশ পচে বিকট দুর্গন্ধ ছড়ায়। পরিবেশ দূষণ করে মারাত্মকভাবে। নালা বা নর্দমায় ফেলা বর্জ্য থেকে ছড়ায় নানা ধরনের রোগের জীবাণু। অতিরিক্ত বর্জ্যের চাপে নর্দমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অল্প বৃষ্টিতেই নর্দমার পানি আটকে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তখন সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভাকে এসব বর্জ্য অপসারণে হিমশিম খেতে হয়।
গ্রামে কোরবানি পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছিষ্ট বর্জ্য জমির কোনো এক স্থানে গর্ত করে পুঁতে রাখে। যার ফলে দুর্গন্ধ ছড়ায় না, বরং পরবর্তী সময়ে ঐ উচ্ছিষ্ট জৈব সারে রূপান্তরিত হয়ে জমিতে ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক সারের চাহিদা কমে যায়। কিন্তু শহরে কোরবানির পর আরও যে বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে সেটি হলো উচ্ছিষ্টাংশ যাতে কুকুর এদিক সেদিক নিয়ে যেতে না পারে। কেননা ঐ উচ্ছিষ্ট যদি চিপা অলিগলিতে পড়ে তাহলে তা পচে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
শহরের মানুষ যদি গ্রামের মানুষের মতো একত্রে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির ব্যবস্থা করতে পারে, তাহলে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকারীদের জন্য সুবিধা হয় ঐ বর্জ্য অল্প সময়ে এবং সহজে অপসারণ করতে। যত খোলামেলা জায়গা হবে তত সহজে সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি এসে বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করতে পারবে। আর যেখানে গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে না সেখানে প্লাস্টিক বা পলিথিনের বস্তায় ভরে উচ্ছিষ্ট বা বর্জ্য ডাস্টবিনে রাখতে হবে।
এছাড়া নিম্নাঞ্চলে কোরবানির পশু জবাই এমনকি হাটে পশু বিক্রি করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে পশুর বর্জ্য পানিতে মিশে না যায়। বন্যাকবলিত এলাকায় যথাসম্ভব উঁচু জায়গায় কোরবানি করে বর্জ্য উঁচু জায়গাতেই গর্ত করে পুঁতে দিতে হবে।
সর্বশেষ কথা হচ্ছে—আমরা কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে যত সচেতন হতে পারব তত বেশি আমাদের পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। রোগবালাই থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবো।
Editor & Publisher : Md. Motiur Rahman
Pritam-Zaman Tower, Level 03, Suite No: 401/A, 37/2 Bir Protik Gazi Dastagir Road, Purana Palton, Dhaka-1000
Cell : (+88) 01706 666 716, (+88) 01711 145 898, Phone: +88 02-41051180-81