'ইমিউনিটি পাসপোর্টে' করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার.

Published: 26 April 2020 17:04

লকডাউন তুলে নিয়ে অর্থনীতি সচল করতে মরিয়া বিভিন্ন দেশের সরকার। এসব দেশের সরকার বিশেষ একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে।

NEWS DESK

লকডাউন তুলে নিয়ে অর্থনীতি সচল করতে মরিয়া বিভিন্ন দেশের সরকার। এসব দেশের সরকার বিশেষ একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে। এই বিশেষ অনুমতিকে বলা হচ্ছে, ‘ইমিউনিটি পাসপোর্ট’ বা ‘ঝুঁকিমুক্ত ছাড়পত্র’। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, এ ধরনের ছাড়পত্র দিলে কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, কারও শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধী (অ্যান্টিবডি) ক্ষমতা থাকলেই যে তিনি দ্বিতীয়বার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন না, এখনও তার কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে কাউকে ‘ইমিউনিটি পাসপোর্ট’ বা ‘ঝুঁকিমুক্ত ছাড়পত্র’ দেওয়া হলে তারা ভাববে তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে গেছে। ফলে সতর্কতামূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন তারা বোধ করবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সুস্থ হয়ে ওঠা কোভিড-১৯ রোগীরাও এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই তাদের কাজে ফেরার অনুমতি দেওয়া হলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এ ছাড়া শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি যে করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করবে, তার পক্ষে এখনও চ’ড়ান্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সংস্থাটি আরও বলছে, আক্রান্তের শরীরে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও অনেকের রক্তে এই অ্যান্টিবডির মাত্রা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম মাত্রায় থাকতে পারে। ফলে তার আবার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

একই সঙ্গে সংস্থাটি মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার আরও একটি উপাদানের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরেছে। সেটি হচ্ছে টি-সেল, যা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোষগুলোকে নির্মূল করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, একজন মানুষের শরীরে কতো টি-সেল উৎপন্ন হচ্ছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার কারণে আসলেই প্রতিরোধ ক্ষমতা হয়েছে কিনা তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ এখনও বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। তাই ‘ইমিউনিটি পাসপোর্ট’ বা ‘ঝুঁকিমুক্ত ছাড়পত্র’ দিলে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জার্মানি, ইতালি এবং ব্রিটেন অ্যান্টিবডি পরীক্ষা শুরু করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরীক্ষার ব্যাপকতা বাড়লে তাদের হাতে নির্ভরযোগ্য তথ্য আসবে। যার ভিত্তিতে তারা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন। এই মুহূর্তে বিজ্ঞানীদের হাতে যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত নেই।

করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠাদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষার পর কাজে ফেরার জন্য ‘ইমিউনিটি পাসপোর্ট’ বা ‘ঝুঁকিমুক্ত ছাড়পত্র’ দিতে চায় লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি।

সুইডেনে কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে না রেখে মানুষকে আরও মুক্তভাবে চলাফেরা করতে দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে তারা এটাও স্বীকার করছেন যে, আরও বেশি মাত্রায় অ্যান্টিবডি পরীক্ষা হলেই বোঝা যাবে একবার আক্রান্ত ব্যক্তির কতটা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে।

বেলজিয়ামে গড় আক্রান্তের সংখ্যা খুবই বেশি। সেখানে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘ইমিউনিটি পাসপোর্ট’ বা ‘ঝুঁকিমুক্ত ছাড়পত্র’ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু হলে অনেকে হয়তো নিজেদের সংক্রমণের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে চাইবেন। যাতে তাদের রক্তে অ্যান্টিবডি গড়ে ওঠে। তবে সেটাও এক ধরনের বিপদ সৃষ্টি করতে পারে।

Akhi Malek

Related