সস্তায় মিলছে নতুন গাড়ি, কমছে রিকন্ডিশনের ক্রেতা

Published: 18 February 2020 02:02

দেশে বাড়ছে নতুন গাড়ির বাজার। গত এক দশক আগে মাত্র ১০ শতাংশ বাজার প্রতিনিধিত্ব থাকলেও এখন ব্র্যান্ড নিউ কার, ইউটিলিটি যানবাহন এবং মাইক্রোবাস বিক্রি দেশের মোট বাজারের ২০ শতাংশ ধরে ফেলেছে।

এফটি বাংলা

রিকন্ডিশন গাড়ির চাইতে সস্তা হওয়ায় দেশে এখন নতুন গাড়ি বিক্রি বাড়ছে। গত এক দশক আগে মাত্র ১০ শতাংশ বাজার প্রতিনিধিত্ব থাকলেও এখন ব্র্যান্ড নিউ কার, ইউটিলিটি যানবাহন এবং মাইক্রোবাস বিক্রি দেশের মোট বাজারের ২০ শতাংশ ধরে ফেলেছে। আগামী পাঁচ বছরে নতুন গাড়ির বিক্রি মোট বাজারের ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে এমন আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।   

বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারের বড় অংশই নিয়ন্ত্রণ করতো রিকন্ডিশন গাড়ি। কিন্তু সেই প্রবণতা কাটিয়ে উঠে দেশে এখন বাড়ছে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি বিক্রয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারে নতুন গাড়ি বিক্রি মোট বাজারের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, অটোমোবাইল বাজারে গত এক দশকে নতুন গাড়ি বিক্রি ১০ থেকে বেড়ে  ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এতদিন যেসব ক্রেতারা সুলভ মূল্যের কারণে রিকন্ডিশন গাড়ি কিনতেন তারা এখন প্রথম পছন্দ হিসেবে নতুন গাড়ি কেনার দিকেই ঝুঁকছেন।
 
গত তিন বছর ধরে দেশে রিকন্ডিশন গাড়ি বিক্রির সংখ্যা কমে, যার বিপরীতে নতুন গাড়ি বিক্রি অর্জন করে টানা প্রবৃদ্ধি। এই সময়ে নতুন গাড়ি বিক্রি আগের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বাড়ে। দেশের বাজারে মোটরকার বিক্রয়কারীদের দেওয়া সামষ্টিক তথ্যে এই সংখ্যা উঠে এসেছে।

ওই তথ্য সূত্রে দেখা যায়, দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া প্রতি একশ গাড়ির মাঝে এখন ১৯টি গাড়িই নতুন। ২০১৬ সালে এধরনের গাড়ির বাজার প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। 

এসব কিছুর নেপথ্যে প্রভাব ফেলেছে সংশোধিত আমদানি নীতিমালা। নতুন নীতিমালার আওতায় কমেছে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি আর জাপান থেকে আমদানি করা রিকন্ডিশন গাড়ির মাঝে মূল্য ব্যবধান। বিক্রেতাদের দাবি, এর পাশাপাশি ভোক্তাদের পছন্দ এবং রুচির পরিবর্তনও নতুন গাড়ির বাজার চাঙ্গা করছে।  

বাজার প্রবণতায় পরিবর্তনের কারণ

নতুন গাড়ি বিক্রি বাড়ার পেছনে ভোক্তা সক্ষমতাই প্রধান কারণ। মূল্য ব্যবধান সামান্য হওয়ায় পুরোনো রিকন্ডিশন গাড়ির চাইতে ভোক্তারা নতুন গাড়ি কেনাকেই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। 

বিক্রেতাদের জন্যেও নতুন গাড়ি আমদানি ও বিক্রি অনেকটাই ঝামেলা মুক্ত। জাপান থেকে নিলামে কেনা রিকন্ডিশন গাড়ি শোরুম থেকে কেনার পর অনেক ভোক্তাই নানাবিধ যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হন। নতুন গাড়ি কিনলে এই সমস্যা যেমন থাকে না, তেমনি বিক্রয় পরবর্তী সময়ে নানা প্রকার সার্ভিসিং সেবাও পাওয়া যায়। বিক্রেতারা জানান, সব মিলিয়েই একটু বেশি টাকা খরচ করে হলেও ভোক্তারা এখন টেকসই গাড়ির নিশ্চয়তা পেতেই বেশি আগ্রহী। 

দেশের বাজারে অন্যতম বৃহৎ গাড়ি আমদানিকারক নাভানা লিমিটিডের জ্যেষ্ঠ উপ-ব্যবস্থাপক মো. লুৎফুল করিম বলেন, ক্রয় সক্ষমতা বাড়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির চাকরিজীবীরা এখন একবার ব্যবহৃত স্মার্টফোন বা কম্পিউটারও কেনার চেষ্টা করেন না। 

এছাড়াও বার্ষিক বাজেট নীতির প্রভাবে ভোক্তারা আগের চাইতে রিকন্ডিশন গাড়ি কেনা অনেক বেশি কমিয়েছেন। টানা দুই বছর ধরে সরকার জাপান থেকে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি মূল্যে অনুমোদিত অবচয়ের অংক কমায়। এটা আমদানিকারকদের নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি গাড়ির দামও বাড়ায়। 

ইতোপূর্বে অবচয় খরচ হিসেবে মোট আমদানিমূল্যের ৪৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হতো, যা এখন ৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। 

Shamiur Rahman

Related