নিজস্ব প্রতিবেদক
Published:2026-03-05 13:30:26 BdST
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের পর দেশটির পরবর্তী শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তেহরানের রাজনৈতিক অলিন্দে বর্তমানে এক উত্তপ্ত ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ৮৮ সদস্যের জ্যেষ্ঠ শিয়া আলেমদের পর্ষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এক ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে চূড়ান্ত রূপ দিচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
বর্তমানে এই দৌড়ে খামেনির পুত্র ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন এবং বুধবার সকালের মধ্যেই তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও কিছু জ্যেষ্ঠ আলেম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এমন ঘোষণা তাঁকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।
পবিত্র নগরী কোওমের একটি সম্ভাব্য সভাস্থলে ইসরায়েলি হামলার ঘটনার মধ্যেই এই গোপনীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ভালি নাসর মন্তব্য করেছেন যে, মোজতবার নির্বাচন মূলত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কট্টরপন্থি অংশের একচ্ছত্র প্রভাবেরই বহিঃপ্রকাশ হবে।
আইআরজিসি-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং দীর্ঘকাল নেপথ্যে থেকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামো পরিচালনার অভিজ্ঞতার কারণে মোজতবাকে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বিশ্লেষক মেহদি রহমাতি মনে করেন, এই পারিবারিক উত্তরাধিকারের সিদ্ধান্তে জনমনে ক্ষোভ বা বিক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে।
যদিও আলিরেজা আরাফি কিংবা ইমাম খোমেনির নাতি সৈয়দ হাসান খোমেনির মতো ব্যক্তিত্বরা আলোচনায় আছেন, তবে সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এই পর্ষদ মোজতবার পক্ষেই রায় দিতে যাচ্ছে বলে প্রবল ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক এক হামলায় খামেনির পরিবারের একাধিক সদস্যসহ মোজতবার স্ত্রী ও মা নিহত হওয়ার মতো শোকাবহ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যে এক ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
