June 6, 2026, 8:12 am


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-06-04 20:50:55 BdST

দেশে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী টুকু


ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পবিত্র ঈদুল আজহায় সারাদেশে মোট ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী কোরবানিকৃত গবাদিপশুর প্রাথমিক হিসাব ও সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই বছর দেশি পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও কোরবানির সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ।

প্রাথমিকভকাবে ধারণা করা হচ্ছিল, এবারের ঈদুল আজহায় গত বছরের তুলনায় পশু কোরবানি কম হয়েছে। তবে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এই বছর পশু কোরবানি বেড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪১৮টি।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী কোরবানির পশুর বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

বিভাগভিত্তিক কোরবানির চিত্র

মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এবারের ঈদুল আজহায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু কোরবানী হয়েছে। এছাড়া, রাজশাহী বিভাগে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি, রংপুর বিভাগে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি, খুলনা বিভাগে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি, বরিশাল বিভাগে ৪ লাখ ১৬০টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি, সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু কোরবানী হয়েছে।

মোট কোরবানি

এবার দেশে মোট ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি পশু কোরবানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের (২০২৫ সাল) তুলনায় ২ লাখ ৩১ হাজার ৪১৮টি বেশি।

পশুর ধরন

জবাইকৃত পশুর মধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৮টি এবং ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ৪৫ লাখ ২ হাজার ২৩৩টি। এছাড়াও অন্যান্য পশু কোরবানি হয়েছে ১ হাজারটি।

চাহিদা ও জোগান

এই বছর কোরবানিযোগ্য পশুর মোট চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে পশুর প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। কোরবানি শেষে দেশে এখনও ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সীমান্তপথে অবৈধ পশুর প্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতার কারণে এবারও দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই শতভাগ চাহিদা পূরণ সম্ভব হয়েছে এবং খামারিরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমে কোরবানির চাহিদা পূরণ হওয়া প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাণিসম্পদ খাতে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশ পশু সম্পদে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর এই উদ্বৃত্ত উৎপাদনকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিদেশে মাংস রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

যেসব খামারি তাঁদের পশু বিক্রি করতে পারেননি, যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের বিষয়ে সরকারের ভাবনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, এই বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সরকার তা বিবেচনা করবে।

দেশে গরুর সংখ্যা বাড়লেও মাংসের দাম কমছে না। এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পশুর খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। সরকার খাদ্যের দাম কমানোর চেষ্টা করছে। পশু খাদ্যের উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে মাংসের দামও কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

টুকু বলেন, ঘাস উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এজন্য অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮৩৫ জন ক্ষুদ্র খামারিকে ঘাস উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, "ঘাস সঠিকভাবে উৎপাদন করতে পারলে পশুর খাদ্য ব্যয় কমবে এবং দুধ উৎপাদনও বাড়বে। একই সঙ্গে খামারিদের ফিডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ঘাসভিত্তিক পশুপালনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় একটি পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন কোরবানির ঈদ উদযাপনে সরকার বদ্ধপরিকর ছিল বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এই বিষয়ে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করায় সকল খামারি, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ দেশবাসীকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.