October 2, 2020, 12:19 am


আবু তাহের বাপ্পা

Published:
2020-08-11 06:32:48 BdST

চতুর্মুখী সংকটে স্বাস্থ্যখাত


বিতর্ক এবং সঙ্কট যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না স্বাস্থ্যখাতের। স্বাস্থ্যখাতের সঙ্কট দূর করার জন্য ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে। মহাপরিচালক চলে গেছেন, নতুন মহাপরিচালক দায়িত্ব নিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নতুন সচিব দেওয়া হয়েছে, সিএমএসডি’তে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তারপরেও বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না স্বাস্থ্যখাতের। বরং একটি সমস্যা শেষ না হতেই নতুন সমস্যার মুখে পড়ছে স্বাস্থ্যখাত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে, রয়েছে অভিজ্ঞতার অভাব এবং একের পর এক নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিজেই।

সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চতুর্মূখী সঙ্কটে পড়েছে আর এই সঙ্কটগুলোর উত্তরণ না হলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে স্বাস্থ্যখাতের বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্যখাতে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্বহীনতা এবং অযোগ্যতার কথা বলা হচ্ছে। আর এগুলোর ফলে এখন একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি করে চলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যখাত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যে সমস্ত বিষয় নিয়ে এখন সঙ্কটে আছে স্বাস্থ্যখাত, তাঁর মধ্যে রয়েছে-

চিকিৎসকদের অসন্তোষ বাড়ছে

চিকিৎসকদের নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে শুরু থেকেই সঙ্কট চলছিল। বিশেষ করে চিকিৎসকদের সুরক্ষা সামগ্রী পিপিই দেওয়া নিয়ে বিতর্ক এবং করোনা চিকিৎসা কিভাবে করা হবে তা নিয়ে বিতর্কের পর সাময়িক সময়ের জন্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের এখন হোটেল সুবিধা দেওয়া-না দেওয়া নিয়ে বিএমএ-এর সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে স্বাস্থ্যখাতের।

অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে, এখন এই বিতর্কটি অনভিপ্রেত এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। তাঁরা মনে করছেন যে, হোটেল বাতিল না করে এখন যেহেতু হাসপাতালগুলোর উপর রোগীদের চাপ কমেছে, সেজন্য সরকারিভাবে কোভিড হাসপাতালের সংখ্যা কমিয়ে দিয়ে শুধুমাত্র অল্প কিছু হাসপাতাল রাখাই উচিত।

বেশকিছু হাসপাতাল রয়েছে যেখানে রোগী যাচ্ছে না কিন্তু চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। এটা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

আবাসন সুবিধা বন্ধ না করে বরং যেসকল হাসপাতালগুলোতে এখন রোগীর সংখ্যা কম, সেই হাসপাতালগুলোতে কোভিড চিকিৎসা বন্ধ করে বিতর্কের অবসান করা যেত বলে মনে করেন অনেকে। কিন্তু এই ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভিন্ন পথে হাঁটছে।

দুর্নীতিবাজরা এখনো সক্রিয়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিতর্কিত মহাপরিচালক চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর অনুসারী ‘প্রেতাত্মারা’ এখনো রয়ে গেছেন যারা স্বাস্থ্যখাতে এখনো চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত।

বিশেষ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন লাইন ডিরেক্টর এবং পরিচালক পদে যারা আছেন তাঁরা অধিকাংশই সাবেক মহাপরিচালকের আজ্ঞাবহ এবং অনুগ্রহতুষ্ট। তাঁদের হাত ধরেই স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে।

সেই লাইন ডিরেক্টর এবং পরিচালকদের এখন পর্যন্ত পরিবর্তনের কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এমনকি যারা দুর্নীতিবাজ হিসেবে সক্রিয় ছিল, তাঁরা এখন আবার নতুন করে পরিবর্তিত রূপে আবির্ভূত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বেসরকারি হাসপাতালে সঙ্কট

নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অভিযান বন্ধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জন অসন্তোষের কারণ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

কেউ কেউ বলছেন যে, স্বাস্থ্যখাতের গডফাদারদের বাঁচানোর জন্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই রকম পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ২৩ আগস্টের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের নির্দেশ দিয়েও একটা নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

ভ্যাকসিন বিতর্ক

এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবথেকে বড় কাজ হলো ভ্যাকসিনের ব্যাপারে কাজ করা এবং ভ্যাকসিন গবেষণার পথ উন্মুক্ত করা। কিন্তু সেক্ষেত্রেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ভ্যাকসিন তৈরি করার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একীভূত করা, সমন্বয় করা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা।

এর ফলে বিশ্বে ভ্যাকসিন আসার পরও বাংলাদেশে ভ্যাকসিন প্রথমদিকে আসবে কিনা এবং সব মানুষ পাবে কিনা তাই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এই সঙ্কটগুলো যেন ভবিষ্যতে আবার পুঞ্জীভূত না হয় সেজন্য অনতিবিলম্বে এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা