February 6, 2023, 11:49 am


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2022-12-04 21:19:16 BdST

রাস্ট্রীয় কৃচ্ছতা সাধন নীতির গুরুতর লংঘনবিআইডব্লিউটিএতে প্রকল্পের নামে যথেচ্ছা অর্থ অপচয়


আনুমানিক দশ হাজার কোটি টাকা ব‍্যয়ে বিআইডব্লিউটিএর অধীনে বাস্তবায়নাধীন পুরাতন ব্রম্মপুত্র, ধরলা, তুলাই ও বংশি নদী প্রকল্প, ৩৫টি ড্রেজার ও অন‍্যান‍্য সহযোগী জলযান ক্রয় প্রকল্পের অফিসের জন‍্য রাজধানীর মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয় সংলগ্ন গাউছে পাক ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় ২০১৯ সাল হতে ৮০০০ বর্গফুটের একটি ফ্লোর প্রতিবছর ৬০ লক্ষ টাকা উক্ত প্রকল্প হতে ভাড়া পরিশোধ করা হচ্ছে।

এছাড়াও উক্ত ভাড়াকৃত ফ্লোরে সিবিএর কথিত সহসভাপতি কর্তৃপক্ষের নিম্নমান সহকারি পদে কর্মরত আক্তারুজ্জামান এর মাধ‍্যমে ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন এবং অত‍্যাধুনিক এসি সরবরাহ কাজ বাবদ ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে আত্মসাৎ করা হয়েছে ৩ (তিন) কোটি টাকা।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় করে, প্রকল্প অফিস করে অর্ধ কোটি টাকা প্রতিবছর ভাড়া পরিশোধ করা হলেও চার নদী প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী( ড্রেজিং) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশল (যাঃ) ও প্রকল্প পরিচালক মজনু একদিনের জন‍্যও প্রকল্প অফিসে বসেন নাই। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে।

যেখানে সরকার আর্থিক সংকটে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হিমসিম খাচ্ছে সেখানে এই সকল কর্মকর্তারা বিপুল পরিমাণ সরকারী অর্থ অপচয় করছেন। এদের প্রত‍্যেকেরই বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয়ে বিলাসবহুল আলিশান দুইটি করে অফিস কক্ষ রয়েছে। অথচ অনেক কর্মকর্তা আছেন যাদের বসার মতো ছোট একটি কক্ষও নাই।

বিএনপি-জামাতপন্থি কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম তালুকদার ক্ষমতার অপব‍্যবহার করে এভাবেই সরকারী কোটি কোটি টাকা অপচয় করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন।

এছাড়াও বালাসি-বাহাদুরাবাদ নৌ পথের ড্রেজিং সাইটের তথ‍্যমতে জানা যায় চলতি অর্থ বছরে মধুমতি ড্রেজার এবং হাউজবোট দিয়ে উক্ত নৌপথ ড্রেজিং করে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। ড্রেজার সুতাং এবং হাউসবোট ড্রেজিং করে উদ্ধার করতে হলে আনুমানিক দশ কোটি টাকা খরচ করতে হবে। দুইটি ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং করে নৌপথ উদ্ধার করতে হলে কমপক্ষে ত্রিশ কোটি টাকা সরকারের অপচয় হবে। ড্রেজিং কাজে অনভিজ্ঞ বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদার দায়িত্ব নেয়ার পর হতেই অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং এবং সঠিকভাবে মনিটরিং না করার জন‍্য এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯ টি ড্রেজার বেইজ নির্মাণ করে আসবাবপত্র সংগ্রহ করা হলেও কিছু ড্রেজার বেইজে নামমাত্র অল্প সংখ‍্যক যন্রকৌশলের কর্মকর্তা কর্মচারী পদায়ন করা হলেও পুরকৌশল বিভাগের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী এখনো ঐসকল বেইজে পদায়ন করা হয়নি।

প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) রকিবুল ইসলাম তালুকদার ক্ষমতার অপব‍্যবহার করে খুলনা, বরিশাল, চট্রগ্রাম, আরিচা, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, শিমুলিয়া, ময়মনসিংহ, মাদারীপুরসহ অন‍্যান‍্য জেলার প্রকৌশলীদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন‍্য বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয় কুক্ষিগত করে রেখেছেন। ফলে বিভিন্ন ড্রেজার বেইজের আসবাবপত্র সহ অন‍্যান‍্য মূল‍্যবান জিনিষপত্র নষ্ট হয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে। পাশাপাশি সঠিকভাবে ড্রেজিং কাজ মনিটরিং করা হচ্ছে না। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে, বিআইডব্লিউটিএর ৩৫ টি ড্রেজার ও আনুসঙ্গিক জলযান ক্রয় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (যাঃ) এবং উপ পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) মোবারক হোসেন মজুমদার সহ চারজন কর্মকর্তা বিদেশ ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় করে বর্তমানে ইউরোপে অবস্থান করছেন।

সরকারী অর্থের এই যথেচ্ছা অপচয়ের বিষয়টি নৌপরিবহনমন্ত্রী, নৌপরিবহন সচিব এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতিকে অবহিত করে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। 

বিষয়টি গোপনে সরেজমিনে তদন্ত করে দায়ী ব‍্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করে সরকারী অর্থ অপচয় রোধ করার জন‍্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয়েছে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা