February 6, 2023, 12:55 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2022-12-08 20:45:30 BdST

গনপূর্তে বদলী বানিজ্যে বিএনপি-জামাত সিন্ডিকেট


বৈশ্বিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার যখন ব্যস্ত ঠিক তখনি গনপূর্ত অধিদপ্তরে একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বদলী বানিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এসেছে। 

প্রশাসনের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি জামাতপন্থী একটি সিন্ডিকেট দক্ষ কর্মকর্তাদের ঢাকার বাহিরে বদলি করে দিয়ে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে নিজস্ব বলয়ের কর্মকর্তাদের সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে, এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য আজ গনপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মুখে মুখে। এর ফলে বর্তমান সরকারের চলমান নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

সরকারী কর্মকর্তাদের বদলী একটি নিয়মিত রুটিন কাজ। কিন্তু স্মারক নং- ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৩.২২.১২৫৪ তাং- ০৬/১২/২০২২ ও স্মারক নং- ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৩.২২.১২৬১ তাং- ০৭/১২/২০২২ তে একযোগে ১৪ জন দক্ষ কর্মকর্তাকে ঢাকার বাহিরে বদলী করা হয়েছে মূলতঃ সিন্ডিকেটের সদস্যদের ঢাকায় আনার জন্য।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার প্রশাসনে 'পীর' খেতাব প্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা। বিএনপি জামাত সিন্ডিকেটের সাথে রয়েছে তার বিশেষ সখ্যতা। তার সাথে যোগ হয়েছে বিএনপির এক পদধারী নেতার সন্তান। অভিযোগ রয়েছে যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি শামীম আখতারের এক ধরনের বিশেষ অনীহা রয়েছে।

যদিও বাস্তবিক অর্থে কাগজে কলমে উক্ত অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে শামীম আখতারের রাজনৈতিক কূট কৌশলের মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ন স্থানে বদলীর সাথে উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাপারে কিছুটা মিল পাওয়া যায়।

গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে শামীম আখতারের ঘনিষ্ট একজন নির্বাহী প্রকৌশলী এই বদলীর পিছনে কলকাঠি নাড়ছেন। বদলীর এই তালিকা স্বাভাবিক বলে জানা গেলেও প্রতিটি বদলীর নেপথ্যে বিপুল অংকের টাকা লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরকম কিছু তথ্য প্রমান ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। 

গনপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেটের নাটের গুরু প্রধান প্রকৌশলীর কাছের একজন মুরিদান, অপর ২ জন নির্বাহী প্রকৌশলী। শুধু বদলী বানিজ্যই নয়, টেন্ডার বানিজ্য করেও এই সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 

উল্লেখ্য যে, এই সিন্ডিকেটের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শামীম আখতারের বিরুদ্ধে দুদকে একটি তদন্ত চলমান রয়েছে। এই বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী শামীম আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।

গনপূর্ত অধিদপ্তর একটি গুরুত্বপূর্ন অধিদপ্তর। এখানে দক্ষ ও সাহসী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের একজন প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ না হলে দুর্নীতির সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা