February 24, 2024, 3:31 pm


বিশেষ প্রতিবেদক

Published:
2023-12-08 19:21:13 BdST

আদর্শের আলোয় উদ্ভাসিত শিখর


সাইফুজ্জামান শিখর। ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের আদর্শে লালিত হয়ে বড় হয়েছেন। পিতা পঁচাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জাগরুক থাকবেন।

পঁচাত্তর পরবর্তীতে যারা আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিল, আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে যারা সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন, সাইফুজ্জামান শিখরের বাবা তার অন্যতম।

পঁচাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশের বন্ধুর পরিবেশে রাজনীতি করে তিনি যেমন আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের একজন যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন, তেমনই তার পরিবারও আওয়ামী লীগের আদর্শে লালিত হয়েই বিকশিত হয়েছে।

এক এগারোর সময় ছাত্রলীগের এই নেতা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছিল। যে সময় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বিভ্রান্তির জালে আটকা পড়েছিলেন। কেউ কেউ হয়েছিলেন সংস্কারপন্থী। সেই সময় যারা আওয়ামী লীগ সভাপতির প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য এবং আওয়ামী লীগকে অখণ্ড রাখার সংগ্রামে নিজেদেরকে নিয়োজিত রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে শিখর অন্যতম। আর এ জন্যই ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার পর শিখর হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব।

সহকারী একান্ত সচিব পদটি মূলত রাজনৈতিক পদ। এই পদে যারা থাকেন তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংগঠনের যোগসূত্র তৈরি করেন। সে এই কাজ সফলভাবেই পালন করেছিলেন। এরপর তিনি আবার রাজনীতির মাঠে ফিরে আসেন এবং এমপি নির্বাচনে প্রার্থী হন, নির্বাচিত এমপি হন। এবার তিনি মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে তিনি আদর্শচ্যুত হননি, স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি। 

আওয়ামী লীগ এবার মোট ৭১ জন বর্তমান সংসদ সদস্য মনোনয়ন পাননি। তাদের মধ্যে ৬৩ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে দাঁড়িয়েছেন। আর যারা স্বতন্ত্র হননি, তাদের কেউ কেউ ঘরে বসে আছেন, এক ধরনের হতাশা তাদেরকে গ্রাস করেছে।

কিন্তু শিখর যেন অন্য ধাতুতে গড়া। আদর্শ তার ধমনীতে। আর, এ কারণেই মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েননি। বরং জাহাঙ্গীর কবির নানক বা বাহাউদ্দিন নাসিমের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। তিনি তার আসনে যিনি প্রার্থী হয়েছেন সেই সাকিব আল হাসানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন, তার সাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন এবং সেই অনুযায়ী তিনি নির্বাচনের মাঠে কাজও শুরু করে দিয়েছেন। এটাই হল আদর্শিক রাজনীতি।

আদর্শের রাজনীতিতে চড়াই-উৎরাই থাকবে। সবসময় আপনি পুরস্কৃত হবেন এমনটি নয়৷ কখনও আপনার পরীক্ষার সময়, কখনও আপনাকে কঠিন সময় পার করতে হবে, কখনও সুবিধাবাদীদের জন্য পিছু হঠতে হবে। কিন্তু, সব কিছুকে মাড়িয়ে যিনি আদর্শের পতাকা ঊর্ধে তুলে ধরবেন, তিনি সত্যিকারের রাজনীতিবিদ।

এবার নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার পর আদর্শের আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছেন শিখর। তিনি প্রমাণ করেছেন, আদর্শই রাজনীতিতে শেষ কথা। কিছু পাওয়া না পাওয়ার হিসাবটা সাময়িক।

শিখর যেভাবে মনোনয়ন না পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, সেই একই প্রতিক্রিয়া যদি আওয়ামী লীগের সকল মনোনয়নবঞ্চিতরা দেখাতেন, তাহলে এই রাজনৈতিক দলটি অন্যরকমভাবে বিকশিত হত। কিন্তু শিখরের মতো কয়জনই আছেন যারা আদর্শের আলোয় উদ্ভাসিত?

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা