May 25, 2024, 9:14 pm


বিশেষ প্রতিনিধি:শরিয়তপুর জেলা:

Published:
2024-04-22 18:32:44 BdST

কিশোর গ্যাং কর্তৃক ছাত্রলীগ সভাপতিকে হত্যার হুমকি


শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলাধীন গোসাইরহাট ইউনিয়নের বটনা গ্রামে ,আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া নেপথ্যে  রবিন লাকুরিয়া,দেশীয় অস্র উদ্ধার,একজন আটক। গত ১৭ এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ রোজ বুধবার দুপুর আনুমান ১.০০ ঘটিকায় সুজন রাড়ি (২০) পিতাঃ শাহজালাল রাড়ির নেতৃত্বে ১৫/২০ জনের একটি কিশোর গ্যাং এর সদস্য নিয়ে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গোসইরহাট ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ মামুন চৌধুরীকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং তাকে হত্যার হুমকি দেয়। তাদের এই মহড়া দেখে এলাকার লোকজনের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয় । এই বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে জানা যায় যে,এই চক্রের সাথে জড়িত রিপন ফকির বলেন, ঘটনার পূর্বের দিন অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল ডামুড্যা উপজেলাধীন পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের চেউয়াতলী বাজার এলাকায় একটি বিয়ে বাড়িতে কিশোর গ্যাং এর সদস্য খলিল রাড়ির সাথে কে বা কাহারা মারামারি করে,তবে তার কোন সঠিক তথ্য তিনি দিতে পারেননি। তারই জের ধরে রবিন লাকুড়িয়ার খালাতো ভাই ও খলিল রাড়ির চাচাতো ভাই সুজন রাড়ির নেতৃত্বে উক্ত মহড়া দেয়। কিন্তু বিয়ে বাড়ির সেই ঘটনার সাথে গোসাইরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ মামুন চৌধুরীর কোন সম্পৃক্ততা আছে কি-না জানতে চাওয়া হলে রিপন ফকির সে বিষয়ে সঠিক কোন উত্তর দেননি। উক্ত ঘটনার সময় গোসাইরহাট থানার এসআই হাবিবুর রহমান সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। মহড়াকারীদের অস্ত্র শস্রের অবস্থা দেখে তিনি প্রথমে নিষেধ করেন।তার নিষেধ অমান্য করায় এবং তিনি একা থাকায় তাদের মোকাবেলা করতে সাহস না পেয়ে তাৎক্ষণিক গোসাইরহাট থানায় ম্যাসেজ পাঠান। খবর পেয়ে এসআই মনির হোসেন কয়েকজন কনস্টেবল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।এলাকার জনগণ ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মহড়াকারীরা দ্রুত ছোটাছুটি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যাওয়ার সময় মনির সরদারের বাড়ির আঙ্গিনায় কিছু দেশীয় অস্ত্র ফেলে রেখে যায়। পরে পুলিশ তা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।এই ঘটনার পরে ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ মামুন চৌধুরী নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মহড়াকারীদের বিচার চেয়ে নেতৃত্বদাকারী
১। সুজন রাড়ি (২০) ২। সোহাগ রাড়ি উভয় পিতাঃ শাহাজালাল রাড়ি ৩। হৃদয় সরদার (২২) পিতাঃ মনির সরদার সাং বটনা
৪। আসাদ শেখ (২১) পিতাঃ জয়নাল শেখ ৫। রুবেল মাঝি পিতাঃ কাদির মাঝি উভয় সাং কামাড্যা ৬। কাঞ্চন লাকুরিয়া (২৫)
৭।কালু লাকুরিয়া(২২) পিতাঃ জৌক্কা লাকুরিয়া ৮। রিপন লাকুরিয়া পিতাঃ সিরাজ লাকুরিয়া সাং খাটরা সর্ব ইউনিয়ন গোসাইরহাট,থানা গোসাইরহাট, জেলা শরীয়তপুর এর বিরুদ্ধে গত ১৮ এপ্রিল ২০২৪ খ্রিস্টাব্দে গোসাইরহাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে (যাহার নাম্বার ৭৯৫) এবং কাদির মাঝির ছেলে রুবেল মাঝিকে গ্রেফতার করা হয়।
এই বিষয়ে এলাকার জনগণের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, রবিন লাকুরিয়া পিতাঃ সিরাজ লাকুরিয়া,গ্রামঃ খাটরা, ইউনিয়ন ও থানাঃ গোসাইরহাট,জেলাঃ শরীয়তপুর। গোসাইরাট ও ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বেশকিছু কিশোর বয়সী ছেলেদের সংগঠিত করে কিশোর গ্যাং সৃষ্টির নেপথ্যে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। এই কিশোর গ্যাং-এর প্রকাশ্যে নেতৃত্বে আছে রবিন লাকুরিয়ার আপন খালাতো ভাই সুজন রাড়ির নেতৃত্বে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ২০-২৫ জনের একটি দল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি উদ্দেশ্যে বেপরোয়া ঘোরাঘুরি করতে থাকে।এমনকি অনেককে হত্যার হুমকি দিয়ে আতংক ছড়াচ্ছে। যার কারনে এই কিশোর গ্যাং সাধারণ জনগণের কাছে আতঙ্কের বাহিনী বলে পরিচিত।এই বিষয়ে গোসারহাট ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ মামুন চৌধুরী সাথ যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন রবিন লাকুরিয়ার বাহিনী এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি,হত্যার হুমকি ও মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।আমি সুজন রাড়ি ও শুধু তাই নহে, নেপথ্য নেতৃত্বে থাকা রবিন বাহিনীর এই ঘৃণ্য অপকর্মের বিরুদ্ধে পথের কাটা হওয়ায় তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গত ১৭ এপ্রিল ছেনদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক,লোহার রডসহ ইত্যাদি নিয়ে ১৫/২০ জন লোক আমার বাড়ির সামনে দিয়ে মহড়া দেয়। শুধু কি তাই,কিশোর গ্যাং এর সদস্য নিলয় ইসলাম আসাদ নামে একজনের ফেইসবুক আইডি থেকে জনগণকে আতংক করতে তাদের অপকর্মের কাজে ব্যবহৃত অস্রের ছবি পোস্ট করেছে। আবার "একতা ফাউন্ডেশন" নামে একটি সংগঠন তৈরি করছে,যার প্রায় সকল সদস্য কিশোর গ্যাং বাহিনীর সক্রিয় হিসেবে এলাকার এই বিষয়ে গোসাইরহাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুস্পেন দেবনাথ-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিশোর গ্যাং এর মহড়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং পুলিশের মাধ্যমে মহড়ায় ব্যবহৃত দেশীয় অস্র উদ্ধার ও একজন আসামিকে আটক করার কথা সাংবাদিকদের জানান ।এছাড়া রবিন লাকুড়িয়াকেও ব্যক্তিগত ভাবে অপকর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ করেছেন। উক্ত ঘটনার দিন রিপন ফকির,পিতা: আলী হোসেন ফকির, তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে অশোভন আচরন করেন। তিনি রবিন লাকুরিয়ার পক্ষে সাফাইগান। সাংবাদিকগন তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার নাম রিপন ফকির, পিতা: আলী হোসেন ফকির,আমার পিতা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি,আমার দুলাভাই গোসাইরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি স্বরূপ আচরন করতে থাকে।বিষয়টি তখন উপস্থিত সকল সংবাদ কর্মীর নজরে আসে।এ বিষয়ে এলাকার লোক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, রিপন ফকির এ কিশোর গং আর্থিক সহযোগিতা করে থাকে।তার বাবা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চাচতো দুলাভাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে রিপন ফকির মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল ভাবে কথা বলে।মূলত রিপন ফকিরের বাবা আলী হোসেন আওয়ামীলীগ রাজনীতে সংপৃক্ত থাকলেও রিপন ফকির বরাবরই বিএনপি রাজনীতিতে সক্রীয়।

তবে তাকে ফোন করার কারনে কথোপকথনে সাংবাদিকদের উপরে ক্ষোভ প্রকাশের আভাস পাওয়া যায়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় প্রশাসনসহ সর্বোচ্চ পর্যায়ের সকলের সুদৃষ্টি কামনা করছি। তা-না হলে এই কিশোর গ্যাং এর কারনে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হওয়ার আশংকা আছে বলে এলাকার সকলে মনে করেন।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা