July 19, 2024, 11:59 pm


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2024-06-25 11:58:00 BdST

আছাদুজ্জামান মিয়ার তথ্য ফাঁস, এক পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করায় গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত উপ–পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো. জাহাংগীর আলমের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

জিসানুল হক গাজীপুর মহানগর পুলিশের বৈধ আড়ি পাতা শাখায় (এলআইসি) কর্মরত ছিলেন। সাবেক ডিএমপি কমিশনারের ব্যক্তিগত তথ্য তিনি প্রকাশ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জিএমপির সিটিএসবি অ্যান্ড প্রটেকশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জিসানুল হকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৯(১) এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী সরকারি চাকুরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা সমীচীন মর্মে বিবেচিত হওয়ায় এতদ্বারা তাকে সরকারি চাকুরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

এর আগে, গত ১৯ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে জিসানুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করার সুপারিশ করে একটি চিঠি দেয় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। এতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, গত ১২ জুন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) থেকে জাওয়াদ নির্ঝর নামের একটি ফেইসবুক আইডির একটি পোস্টে ডিএমপি’র সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াকে নিয়ে একটি পোস্ট পাওয়া যায়।

পোস্টের কমেন্ট সেকশনে জাওয়াদ নির্ঝর নামের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের লিংক উদ্ধৃত থাকে। টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রবেশ করলে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ইএসএএফ ফর্ম সম্বলিত একটি টেলিগ্রাম পোস্ট পাওয়া যায়। এর কিউআর কোড পর্যালোচনায় ইএসএএফটি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এলআইসি শাখার এনটিএমসির এনআইপি সার্ভার থেকে এএসআই মো. আরিফ হোসেনের আইডি থেকে ডাউনলোড হয়।

এতে আরও বলা হয়, জিএমপির ডিবির (দক্ষিণ) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনের দাখিলকরা অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, জিসানুল হক তার সরকারি মোবাইল নাম্বারের হোয়্যাটসঅ্যাপ থেকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি এলআইসি শাখায় কর্মরত এসআই পরিমল চন্দ্র দাসের ব্যক্তিগত হোয়্যাটসঅ্যাপে আছাদুজ্জামান মিয়ার মোবাইল নম্বরের এনআইডি চেয়ে মেসেজ দেন। এ প্রেক্ষিতে পরিমল চন্দ্র দাস সরকারী নিপ সেবা হটলাইন নাম্বারে এনআইডি সরবরাহের বার্তা দেন। বার্তা পেয়ে ওই দিন রাত ৮টা ৩৯ মিনিটে এলআইসিতে ডিউটিরত এএসআই মো. আরিফ হোসেন তার নিপ আইডি থেকে ইএসএএফ ডাউনলোড করে হটলাইনের হোয়্যাটসঅ্যাপের মাধ্যমে এসআই পরিমল চন্দ্র দাসের হোয়্যাটসঅ্যাপ নাম্বারে পাঠান।

চিঠিতে বলা হয়, পরদিন পরিমল চন্দ্র দাস এটি জিসানুল হকের সরকারি মোবাইল নাম্বারের হোয়্যাটসঅ্যাপে পাঠান। উক্ত লগইন জিএমপির এলআইসিতে রক্ষিত রেজিস্টারেও পাওয়া যায়।

স্পর্শকাতর তথ্য সরকারি উদ্দেশ্য ব্যতীত সংগ্রহ করা অপেশাদার সুলভ আচরণ এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড হিসেবে পরিগণিত। এই অবস্থায় জিসানুল হকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্বলিত প্রতিবেদন প্রেরণ সাপেক্ষে বর্ণিত কর্মকর্তাকে চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্তপূর্বক রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন তিনি বাংলাদেশ সার্ভিস রুল অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রসঙ্গত, আছাদুজ্জামান মিয়ার বিপুল সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রাইবার অ্যাপলিকেশন ফরম বা ইএসএএফ ছড়িয়ে পরে। ওই ফরমে একজন ফোন গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, আঙুলের ছাপসহ বিস্তারিত তথ্য থাকে। এই তথ্য ফাঁসের পেছনে জিসানুল হক জড়িত বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা