January 22, 2026, 1:09 pm


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-01-22 11:14:48 BdST

আমৃত্যু দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে বেইমান, গাদ্দার হিসেবেই বিবেচিত হবেনবিএনপির আদর্শ ছেড়ে বিলুপ্ত ফরহাদ ইকবাল


রাজনীতি আবেগের নয়, আদর্শ ও শৃঙ্খলার জায়গা। এখানে একটি ভুল সিদ্ধান্ত শুধু সাময়িক সমালোচনার কারণ হয় না—অনেক সময় সেটাই একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়। ইতিহাস সাক্ষী, যারা সময়ের পরীক্ষায় ভুল পাশে দাঁড়িয়েছে, রাজনীতি তাদের ক্ষমা করেনি।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিকেরা কখনোই ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারে না। কারণ ধানের শীষ কোনো ব্যক্তি বা সুবিধার নাম নয়—এটি একটি আদর্শ, একটি সংগ্রাম এবং লাখো ত্যাগী নেতাকর্মীর আত্মপরিচয়। যারা এই প্রতীকের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তারা ধীরে ধীরে এই বাংলার রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়েছে। অতীতে বিএনপির অনেক বড়ো নেতাও বেঈমানীর দায়ে দল থেকে ছিটকে পড়ে চিরতরে হারিয়ে গেছেন।

সারা জীবনের অর্জন, কষ্ট, ত্যাগ সব বিসর্জন দিয়ে, বেইমানের খাতায়, নাম লেখালেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত, দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে, বেইমান, গাদ্দার হিসেবেই বিবেচিত হবেন তিনি। এটি বড়ই কষ্টদায়ক ও বেদনাদায়ক। ফরহাদ ইকবালের খেলা এখানেই শেষ। এক সময় রাস্তায় দেখা হলে মানুষের যে সম্মান তিনি পেতেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে, এখন থেকে সেই সম্মান আর পাবেন না। এটাই সময়ের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। পদ চলে গেলে শুধু পরিচয় নয়, অনেক সময় রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও হারিয়ে যায় এটাই নির্মম সত্য। যারা এতদিন ফরহাদের সাথে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ে চলাফেরা করেছেন— তাদের জন্য স্পষ্ট বার্তা হচ্ছে, তিনি এখন আর বিএনপিতে নেই। যারা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের দায়িত্ব বা পদে আছেন তারা অবশ্যই ফরহাদকে বয়কট করে পদ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বার্থেই নৈতিক সিদ্ধান্ত নিবেন।

রাজনীতিতে ব্যক্তির চেয়ে আদর্শ বড়। প্রতিদিন “আমি সদরের ছেলে” বলে চিৎকার করলেই সদরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয় না। বাস্তবতা হলো— ২১ জানুয়ারি ফরহাদ এক ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন রাজনৈতিকভাবে।নৈতিকতা, আদর্শ আর দলীয় শৃঙ্খলাই রাজনীতির আসল শক্তি। যারা আজ এই সত্য বুঝবে না, রাজনীতি কাল তাদের ভুলে যাবে। দলের বিপক্ষে গেলে এবং দলের আদর্শ থেকে ছিটকে পড়লে একজন রাজনীতিবিদের কি হতে পারে তা টাঙ্গাইলবাসী মনে রাখবে। ফরহাদের এই ভুল সিদ্ধান্তের করূণ পরিণতি শুধু তিনিই তুষের আগুনের মতো জ্বলবেন।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালকে দলীয় শৃঙ্খলা বঙ্গের অভিযোগে ২১ জানুয়ারি বহিষ্কার করে বিএনপি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, ফরহাদ ইকবাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী (হরিণ মার্কা) হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে প্রমাণিত হয়েছে ফরহাদ ইকবাল দলের চেয়ে নিজের স্বার্থ রক্ষায় লিপ্ত রয়েছেন।

টাঙ্গাইল সদরের বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন ফরহাদ ইকবাল ২০২২ সালে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তিনি দলের পতাকা বহন করে ২০২৪ সালের ৫ আস্টের পর বিরোধী শিবিরের লোকজনকে মামলা থেকে বাঁচিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। হঠাৎ আলাদীনের চেরাগ বুনে যান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দীর্ঘ ১৩ বছর পর ২০২২ সালের ১ নভেম্বর টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন হাসানুজ্জামিল শাহীন এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল। এরপর থেকে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু দলের নেতাকর্মীরা তাকে বার বার পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে বললেও এই বিষয়ে তিনি বরাবরই অনাগ্রহ প্রকাশ করে এসেছেন। বৃহৎ এই দলটিকে ফরহাদ ইকবাল পকেট কমিটি বানিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একক আধিপত্য বিস্তার করেন। এতো বড় একটি দলের টাঙ্গাইল জেলা সদরে একটি কার্যালয়ও নেই। দলের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল এর দায় এড়াতে পারেন না বলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

এখন তিনি দলের কান্ডারী সেজে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন। যারা ফরহাদ ইকবালকে দলের দুর্দিনের নেতা বলেন, তাদের কাছে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, ফরহাদ ইকবাল দলের জন্য কি এমন করেছেন তার স্পষ্ট জবাব দিবেন কি? বরং দলীয় কোন্দলের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ফরহাদ ইকবাল। তিনি পতিত সরকারের আমলে ঘাপটি মেরে ছিলেন। দলের নেতাকর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হয়েছে। কিন্তু ফরহাদ ইকবালের গায়ে কোন আচর লাগেনি।

জানা যায়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিটি থানা, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের দলীয় প্রার্থীর জন্য ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইতে আদেশ জারি করেছেন। তিনি বিনয়ী আচরণ করতে বলেছেন সর্বস্তরের মানুষের সাথে। শুনতে বলেছেন মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা। তারেক রহমান ইতোমধ্যে দেশের অসহায় মানুষের জন্য নানা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যেসব জেলা, উপজেলায় বিএনপির রাজনৈতিক কোন্দল রয়েছে সেদিকেও কড়া দৃষ্টি দিয়েছেন। ত্যাগী ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা কেন পিছিয়ে আছেন সেদিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করছেন তারেক রহমান।

ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির ভঙ্গুর রাজনীতি এবং দলীয় কোন্দলের কারণে দলের সূচনীয় অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তারেক রহমান সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন সময়ে টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে মনোনয়ন দিয়ে গেছেন। তাই যারা বিএনপিকে মনে প্রাণে বিশ্বাস ও ধারণ করেন,তারা ১২ ফেব্রুয়ারী টুকুকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করবেন। আর যারা সুবিধাবাদি তারাই ধানের শীষের বিরোধিতা এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির পুর্নাঙ্গ কমিটি নেই প্রায় তিন বছর। তৃনমুল নেতাদের সাথে জেলা নেতাদের বিস্তর দুরত্ব সৃষ্টির মূল হোতা ছিলো ফরহাদ ইকবাল। তিনি দলের নেতাকর্মীদের লুন্ঠিত করে একক আধিপত্য বিস্তার করে ছিলেন। নেতায় নেতায় দ্বন্দ লাগিয়ে রাখতেন। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে জেলা বিএনপির অফিস নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অফিস নেয়ার জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ে কতিপয় নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির পাশাপাশি ৫ আগষ্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আওয়ামী দোসরদের অর্থের বিনিময়ে রক্ষা করার অভিযোগ রয়েছে শীর্ষ এই নেতার বিরুদ্ধে। দোসরদের দলে ভেরানো, মামলা বানিজ্যসহ নানা কারণে টাঙ্গাইলে বিএনপির রাজনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘদিনের পরিক্ষীত ও ত্যাগী নেতাদের অবমুল্যায়ন। এই সব কিছুই সামাল দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। আজ তাকে বহিরাগত আখ্যা দিয়ে ফরহাদ ইকবাল সদরের ছেলে বলে চিৎকার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

ফরহাদ ইকবালের কাছে সদরের মানুষের প্রশ্ন, "শুনেছি আপনার আদি বংশ সিরাজগঞ্জের চৌহালী। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে চরে এসে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন আপনার বাপ-দাদার বংশ"। আর সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর দাদা মোসাদ্দেক আলী তালুকদার ১৯৪৬ সালে টাঙ্গাইলের আকুরটাকুর পাড়ায় বসতভিটা গড়ে তোলেন। যেসময় টাঙ্গাইল সদর ছোট্ট একটি শহর ছিলো। টুকুর শৈশব কৈশব কেটেছে টাঙ্গাইল শহরে। প্রাইমারী স্কুল জীবন এবং এসএসসি পাশ করেছেন টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী স্কুল থেকে। টাঙ্গাইল সদরে রাজনৈতিক এবং পারিবারিক ভাবে ফরহাদের চেয়ে টুকু শতগুণ এগিয়ে। টাঙ্গাইল সদরের সচেতন ভোটাররা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী "ধানের শীষ প্রতীকে টুকুকে ভোট" দিয়ে ফরহাদের মিথ্যাচারের জবাব দেবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরহাদকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে জামায়াত সহ বিএনপির শীর্ষ এক রাজনৈতিক নেতা। ওই নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পেছনে উঠে পড়ে লেগেছেন। বিষয়গুলো বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবগত হওয়ার পর টুকুকে শক্ত হাতে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির রাজনীতিকে সামলানোর নির্দেশ দেন। তারেক রহমানের নির্দেশনা পেয়ে টুকু দলের নেতাকর্মীদের পাশে ঝাপিয়ে পড়ার এটাই একমাত্র কারণ।

ফরহাদের উপর ক্ষুব্ধ তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বলেন, ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জেলার তৃনমূলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা যে আশায় বুঁক বেঁধেছিল তা অল্প দিনেই ভেঙ্গে যায়। সারাদেশে আওয়ামী লীগের নির্যাতন আর দুঃশাসনের যে চিত্র তার থেকে বাদ যায়নি টাঙ্গাইল জেলাও। আওয়ামী শীর্ষ গডফাদার ও সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে ফরহাদ গংদের সহযোগিতায় পালিয়ে যায়। কিন্তু আওয়ামী গডফাদাররা তাদের দোসরদের রেখে যায়। দোসররা সামাজিক ও সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে এখনো বহাল তবিয়তে। অভিযোগ উঠেছে, ৫ আগষ্ট রাত থেকেই আওয়ামী দোসরদের রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদকসহ কতিপয় শীর্ষ নেতা।

গত ১৭ বছর জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, মনোনয়ন বানিজ্য, বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের খুন ও হত্যাসহ গায়েবি মামলা দায়ের, বালু ঘাট নিয়ন্ত্রন সকল কিছু পরিচালনা করেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবর্ষন ও হামলা চালানো হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জোয়াহের ইসলামের নেতৃত্বে চলে এসব অপকর্ম। আর সকল অপকর্মের সিপাহশালা ছিলেন একজন আওয়ামী দোসর সাংবাদিক এবং ফরহাদ ইকবাল। বিএনপির এই শীর্ষ নেতার শেল্টারে আওয়ামী লীগের সকল অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জোয়াহেরের অন্যতম ওই সহযোগীকে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পুনঃপ্রতিষ্টিত করার গুরুতর অভিযোগ থাকলেও বিএনপি দলীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ এক নেতা এই অপকর্মের সাথে সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনিই ফরহাদ ইকবালকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন।

টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ গডফাদার ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুকের নাম শহীদ স্কুলছাত্র মারুফের মামলা থেকে বাদ দেয়ার মূলে ফরহাদ ইকবালের নাম উঠে এসেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে। প্রায় তিন কোটি টাকার বিনিময়ে সর্বপ্রথম শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানী করে ফরহাদ ইকবাল গংরা। আর নেপথ্যে ছিলেন একজন আওয়ামী দোসর সাংবাদিক। চারজন নেতা মিলে তিন কোটি টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। এই বিষয়টি বিভিন্ন গনমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পতিত সরকারের পতনের পর দল গোছাতে ব্যস্ত না থেকে জেলা বিএনপির শীর্ষ এই নেতা অবৈধ অর্থের দিকে ঝুঁকে পড়েন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলে নেতৃত্ব দেন। ফলে তৃনমুল, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে এতোসব কুৎসিত অভিযোগ উঠলেও বিএনপির শীর্ষ এক নেতার শেল্টারে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেন। তারা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন । এড. ফরহাদ ইকবাল মানুষের কাছে বলে বেড়াতেন তারেক রহমান তাকে ফোন করে সিগনাল দিয়েছেন। যেকারণে ফরহাদ ইকবালের সমর্থকেরা সন্ধ্যা নেমে আসলেই শহরে মিছিল বের করতেন। তাদের এই মিথ্যাচার বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টির ফাঁদ ছিলো।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু এই প্রতিবেদককে বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হাসিনার পতনের পর টাঙ্গাইলে বিএনপির ভঙ্গুর রাজনীতির হাল ধরেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ফলে তাকে ঘিরে নতুন করে আশায় বুঁক বাঁধে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পপরীক্ষিত নেতাকর্মীরা। দলকে পুনরায় সুসংঠিত ও বঞ্চিত, ত্যাগী নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ শুরু করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

টাঙ্গাইল সদরের বিস্তির্ন চরাঞ্চল থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজের পাশাপাশি সভা-সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপির তথা তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা তুলে ধরছেন ভোটার ও সাধারন মানুষের কাছে। নিরলস পরিশ্রম আর চেষ্টার মাধ্যমে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইলে বিএনপিকে শক্তিশালী করেছেন।

সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী টুকুকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করবেন। তিনি এমপি হলে সদরের উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখতে পারবেন। একই সাথে সন্ত্রাস, মাদক এবং চাঁদাবাজ মুক্ত টাঙ্গাইল গড়তে পারবেন বলে আস্থা রাখতে শুরু করেছেন ভোটার ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.