February 14, 2026, 5:54 pm


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2026-02-14 15:52:00 BdST

পহেলা ফাল্গুন ও ভ্যালেন্টাইনস ডে; বসন্ত-ভালোবাসা একাকার আজ


শীতের জীর্ণতা ও শুষ্কতাকে বিদায় জানিয়ে প্রকৃতি আজ এক অপূর্ব সাজে সজ্জিত হয়েছে, যেখানে ঝরে পড়া পাতার মর্মর ধ্বনি ছাপিয়ে চারদিকে অনুরণিত হচ্ছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তায় গাছে গাছে কচি পাতার সবুজ সমারোহ এবং শিমুল-পলাশের রক্তিম আভা নীল আকাশের উজ্জ্বল রোদ্দুরের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা মানুষের হৃদয়ে সঞ্চার করছে এক অনাবিল আনন্দ ও প্রেমের অনুভূতি। আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের প্রথম দিন—যার সাথে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের অদ্ভুত এক মেলবন্ধন ঘটে যাওয়ায় বাঙালির হৃদয়ে উৎসবের আমেজ আজ দ্বিগুণ হয়ে ধরা দিয়েছে। বাংলা পঞ্জিকার পরিবর্তনের ফলে বসন্তবরণ ও ভ্যালেন্টাইনস ডে এখন একই দিনে উদযাপিত হওয়ায় ‘সোনায় সোহাগা’ এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বাসন্তী রঙের শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে সজ্জিত তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ প্রকৃতির এই আগুনরাঙা রূপের সাথে নিজেদের ভালোবাসাকে ভাগ করে নিচ্ছে। দখিনা হাওয়ার উদাস করা পরশে ইট-কাঠের যান্ত্রিক এই ঢাকা নগরীও আজ প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে; বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রমনা পার্ক এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো স্থানগুলো মানুষের বাঁধভাঙা ভিড়ে মুখর। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যেমন শুভেচ্ছা বার্তায় ভেসে যাচ্ছে, তেমনি বাস্তব জীবনেও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের বর্ণিল আয়োজনে মুখরিত হচ্ছে চারিদিক। জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ এবার প্রথমবারের মতো তাদের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বকুলতলা থেকে সরিয়ে আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে নিয়ে গেছে, যেখানে শাস্ত্রীয় সংগীত, সমবেত কণ্ঠস্বর, নৃত্য এবং আবির বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বসন্তকে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মতো পেশাজীবী সংগঠনগুলোও সংগীত ও আড্ডার মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করছে। সব মিলিয়ে প্রকৃতি ও মানুষের মনের গহিনে আজ বসন্ত ও ভালোবাসা একাকার হয়ে এক নতুন জীবনের জয়গান গাইছে, যা আমাদের সংস্কৃতি ও মননশীলতাকে নতুন করে শাণিত করছে।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.