সামি

Published:
2019-10-09 18:51:21 BdST

মেয়রের পরীক্ষিত কর্মী দাবি করলেন লেদু হাজীলেদু হাজীর অবৈধ সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক


বিশেষ সংবাদদাতা

বন্দর নগরী চট্রগ্রামের আব্দুল নবী লেদু হাজীর অবৈধ সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ‘দি ফিন্যান্স টুডে’ অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত অবৈধ সম্পদের তথ্য আমলে নিয়ে গত সোমবার থেকে কাজ শুরু করে সংস্থাটি। এ বিষয়ে দুদকের চট্রগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একজন সহকারী পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতারণা এবং ইয়াবা ব্যবসার মাধ্যমে শত কোটি টাকার অর্থ সম্পদের মালিক বনে যান চট্রগ্রাম বায়োজিদ বোস্তামি থানা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল নবী লেদু হাজী। লেখাপড়া না জানলেও রয়েছে চাতুর্য এবং ধূর্ততা। এটিকে পুঁজি করে তিনি চট্রগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। বাগিয়ে নেন বায়োজিদ বোস্তামি থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ। মেয়রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি ব্যবহার করে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি। এর মধ্যে শতাধিকের বেশী প্লটের মালিক। বাস্তুহারা লোকদের নাম ভাঙিয়ে নিজে প্লটগুলো প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন।

বায়োজিদ অক্সিজেন মোড়ে লেদু হাজীর রয়েছে আলিশান বাড়ী। এই ভবনে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের শাখা। এই ভবনেরই পঞ্চম তলায় তিনি সপরিবারে বসবাস করছেন। পুরো বাড়িটি তিনি অবৈধভাবে খালের ওপর গড়ে তুলেছেন। এছাড়াও রউফাবাদ কলোনিতে শতাধিক বসত ঘর রয়েছে লেদু হাজির। চট্টগ্রাম শহরে রয়েছে তার চারটি বাড়ি। একজন লেদু হাজির এত সম্পত্তির উৎস কোথায়??? বিভিন্ন অনলাইন টিভি ও পোর্টালে তিনি উপদেষ্টার পদ ভাঙিয়ে নিয়ে আরেকটি মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে রয়েছে লেদু হাজির সখ্যতা। কোটি কোটি টাকার আয়ের পেছনে রয়েছে অজানা এক রহস্য। আর এই উৎস হল কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক শ্রমিকদের দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে।

সাম্প্রতিক সময়ে চলমান সরকারের মাদক, জুয়া ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে বেরিয়ে এসেছে লেদু হাজীর নাম। যার ফলে তিনি এখন ভীত সন্ত্রস্ত। তার এই কোটি কোটি টাকার সম্পদ সবই হয়েছে আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সাথে ফটোসেশনের মাধ্যমে। এছাড়াও একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে লেদু হাজী চট্রগ্রাম মোহামেডান ক্লাবকে ব্যবহার করে মদ ও জুয়ার আসর পরিচালনা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব নিয়ে সম্প্রতি ‘দি ফিন্যান্স টুডে’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত ‘দি ফিন্যান্স টুডে’র প্রতিবেদককে বলেন, অপরাধলব্ধ অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর, রূপান্তর ইত্যাদি মানিলন্ডারিংয়ের আওতায় পড়ে। দুদক সহ বেশ কয়েকটি সংস্থা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ তদন্ত করে। তবে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীনভাবে অর্জিত অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান দুদকের একক এখতিয়ার। তার (লেদু হাজী) বিষয়ে প্রতিবেদনটি কমিশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ইতিমধ্যেই তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ আইনে নেই।

লেদু হাজীর প্রতিবাদ

এদিকে আব্দুল নবী লেদু হাজী প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রতিবাদে তিনি প্রতিবেদনের কোনো কোনো তথ্যকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে অপরাধ লব্ধ অর্জিত বিপুল অর্থ বৈভব সম্পর্কে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি।

প্রতিবাদে লেদু হাজী দাবি করেন, আ জ ম নাছির উদ্দিন চট্রগ্রামের মেয়র হয়েছেন মাত্র ৪ বছর। কিন্তু তিনি মেয়রের অনুসারী বিগত ২৫ বছরেরও অধিক। তিনি মেয়র মহোদয়ের একজন পরীক্ষিত কর্মী। তার সঙ্গে ফটোসেশন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না। কেবল শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে এবং দলের স্বার্থে মেয়রের সাথে দলীয় যে অনুষ্ঠান গুলোতে তিনি থাকেন; সেগুলোই প্রচার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান আব্দুল নবী লেদু। চাঁদাবাজি, দখলবাজি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার অক্সিজেন এলাকায় এশিয়ার বৃহত্তম শিল্প প্রতিষ্ঠান কেডিএস গ্রুপ তথা কেডিএস গার্মেন্টস অবস্থিত। এছাড়া উক্ত এলাকায় অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চাঁদাবাজি করলে এখান থেকেই করতে পারতাম। এসব প্রতিষ্ঠানে আমার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখুন’। ‘বেশ ভূষায় আউলিয়ার মতো, হাজী সাহেব হলেও বাস্তবে তিনি একজন মাদক কারবারি’ শীর্ষক তথ্যে মানহানি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন; ‘এ বক্তব্যে আমার চরম মানহানি হয়েছে’। বিভিন্ন অনলাইন টিভি ও পোর্টালে উপদেষ্টা পদ ভাঙিয়ে নিয়ে মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ে তোলা প্রসঙ্গে প্রতিবাদে তিনি বলেন, ‘নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য কেউ কেউ তাদের মিডিয়ার লোগোর সাথে আমার ছবি সম্পৃক্ত করে প্রচার চালাচ্ছে। উপদেষ্টা হিসেবে এসবে আমার কোন অনুমতি কিংবা সই স্বাক্ষর নেই’। অবৈধ অর্থ সম্পদের তথ্যকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে দাবি করেন। প্রতিবাদের শেষ অংশে তিনি প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুমকি দেন।

প্রতিবেদকের বক্তব্য

প্রতিবাদকারী আব্দুল নবী লেদু হাজীর বিরুদ্ধে সুনির্দিস্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। তদুপরি লেদু হাজীর বক্তব্য নেয়া হয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরেরও বক্তব্য নেয়া হয়েছে।

এছাড়াও লেদু হাজী সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্রগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ‘দি ফিন্যান্স টুডে’র প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চলমান দুর্নীতি, মাদক এবং দলে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠিন ও জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। কেউ দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। আর লেদু হাজী আওয়ামীলীগের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর হাত ধরে দলে প্রবেশ করেছিলো। তিনি মূলত জাতীয় পার্টি থেকে দলে এসেছেন। দখলবাজ, চাঁদাবাজ, অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের দলে কোন স্থান হবে না’।

দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত চট্রগ্রাম গঠনে গনমাধ্যমের সহযোগিতা চান চট্রগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

এছাড়া ‘দি ফিন্যান্স টুডে’র নিজস্ব অনুসন্ধান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারন মানুষও তার অর্থ বিত্ত, দখলদারিত্ব এবং অপরাধ সাম্রাজ্যের বিষয়ে নানা তথ্য উপাত্ত দিয়েছেন। এসবের প্রমান ও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। সুতরাং প্রকাশিত প্রতিবেদনের সকল তথ্যই সঠিক।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা