January 17, 2026, 4:20 pm


S M Fatin Shadab

Published:
2026-01-17 14:17:54 BdST

"খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি"


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সমাজের সর্বস্তরের নাগরিকরা তাদের হূদয়মথিত শোক, শ্রদ্ধা আর প্রাণোত্সারিত ভালোবাসা জানিয়েছেন নাগরিক শোকসভায়। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার পরিবেশ ছিল অন্যরকম। খালেদা জিয়ার ছেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সেখানে বক্তারা খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবনের ত্যাগ, সংযম, উদারতা, অভাবনীয় দৃঢ়তাপূর্ণ নেতৃত্ব এবং তার প্রতি রাষ্ট্রীয় জিঘাংসা-অবহেলার নানা দিক তুলে ধরেন নানা মাত্রায়।

বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন ক্ষণজন্মা ও অমিত নেতৃত্বের অধিকারী। তিনি সাধারণ রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন রাজনৈতিক আদর্শ। বাংলাদেশে সামরিক এবং বেসামরিক স্বৈরতন্ত্র বিরোধী সংগ্রামে তার অবদান অনন্য। দেশপ্রেমকে তিনি আজীবন লালন করেছেন। তিনি বলতেন, ‘বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, কিন্তু প্রভু নেই, দেশই আমার আসল ঠিকানা’। এ কারণেই শেষযাত্রায় মানুষের এত ভালোবাসা পেয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। খালেদা জিয়া কঠিন সময়েও চরম ধৈর্যের পরিচয় দিতেন। তার মধ্যে রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল। ছিলেন পরমতসহিষ্ণু। জাতির এই সন্ধিক্ষণে যখন তার উপস্থিতি, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। কিন্তু তার আদর্শ চির অম্লান। এ দেশের মানুষ অনন্তকাল তাকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ করবেন। কারণ যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয়, তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে। তার আদর্শই হবে আগামীর বাংলাদেশের চালিকাশক্তি।

এসময় নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বেগম খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শোকসভায় যোগ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়াও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে ব‍্যারিস্টার জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা।

শোকসভা শুরু হয় হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরিকের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর শোকগাঁথা পাঠ করেন নাগরিক শোকসভার সমন্বয়ক ও ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন। শোকসভার আহ্বায়ক ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন।


বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই শোকসভা বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শেষ হয়। শোকসভায় বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, দৈনিক যায়যায় দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) নূরুদ্দিন খান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবির, দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ, অর্থনীতিবিদ ও পাবলিক পলিসি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, ব্রিটিশ আইনজীবী ও মানবাধিকার নেত্রী আইরিন খান, সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের পক্ষে বিশপ সুব্রত বি গোমেজ, আইসিসিবির প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, শিক্ষাবিদ ড. তাসনিম আরেফা সিদ্দিকী, কূটনীতিক আনোয়ার হাশিম, গবেষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, খালেদা জিয়ার চিকিত্সক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক ও ব্যবসায়ী সিমিন রহমান, বিপিকেএস’র সিইও এবং ডিপিআইয়ের প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তার দুলাল, লেখক ও চিন্তক ফাহাম আব্দুস সালাম, ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম বেগম খালেদা জিয়া। ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন অসাধারণ দৃঢ়চেতা। কঠিন সময়েও চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। আমার বিবেচনায় তিনি বিচক্ষণ।’ এসময় সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বেগম খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘এটি দলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি হলে তা হবে এই জাতির পক্ষ থেকে একটি ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি।’

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং পাবলিক পলিসি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘জাতির এই সন্ধিক্ষণে যখন তার উপস্থিতি, পরামর্শ, দিকনির্দেশনা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই উনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। উনি হয়তো চাইছেন আজকের এই চ্যালেঞ্জগুলো আমরা সকলে একত্রে মিলে নীতিনিষ্ঠভাবে, দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা থেকে যৌথভাবে মোকাবিলা করি। এটাই হয়তো উনি চাইতেন।’

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যখন ভুয়া মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন, তখন তার পক্ষে কেউ কথা বলেননি। তার বিচারটি ছিল অদ্ভূত ও জঘন্য। তখন এ নিয়ে বিবৃতি নিয়ে অনেক গণমাধ্যমে গিয়েছি। কিন্তু কেউ তা ছাপাতে সাহস করেননি। চিকিত্সার জন্য বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার সময়ও অনেকের অনুমোদন ও সাহসের অভাব ছিল। আজ মানুষ মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে পারছে। সময়ের ব্যবধানে একজন নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হূদয়ে। আরেকজন বিতাড়িত ভূমিতে। বেগম খালেদা জিয়া সত্ ও সাহসী ছিলেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন তাকে ধারণ করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সততা, দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও রুচির প্রকাশ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অম্লান। বাংলাদেশের ভালো থাকা নিশ্চিত করতে হলে তার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া ও অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হলে তাকে ইন্টারন্যাশনালাইজ করতে হবে।’

সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমান বলেন, ‘আমরা একটি সংকটকালীন মুহূর্তে আছি। যেকোনোভাবেই হোক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেন অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।’

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমি স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করি। বেগম খালেদা জিয়ার আমলে তার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছি। তিনি উত্সাহিত করতেন। গণতন্ত্রে তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। বিগত সরকার তাকে নানাভাবে নির্যাতন করেছে। এতকিছু করার পরও ৭ আগস্ট তিনি আমাদের যে বাণী দিয়েছেন, তা তার উদারতার পরিচয় বহন করে। তিনি বলেছেন, ধবংস নয়। ভবিষ্যতের ভালোবাসা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার কথা বলেছেন। খালেদা জিয়ার এই বাণীকে যেন আমরা লালন করি।’

দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও সংগ্রামের পতাকা আজ তারেক রহমানের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। এটি যেমন গর্বের বিষয়, তেমনি এক গভীর দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জেরও বিষয়। একই সঙ্গে এটি একটি ভয়ের ও শঙ্কার বিষয়ও। কারণ বাংলাদেশের মানুষ সবসময় তারেক রহমানকে তার পিতা ও মাতার সঙ্গে তুলনা করবে। এই তুলনা অত্যন্ত কঠিন যে কোনো মানুষের জন্যই।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পংক্তি উদ্ধৃত করে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘তোমার পতাকা যারে দাও, তারে বহিবারে দাও শক্তি’। তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানিয়ে বলেন, আল্লাহ যেন তারেক রহমানকে এই ঐতিহাসিক পতাকা বহন করার শক্তি ও সামর্থ্য দান করেন।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘মানুষ বেগম জিয়াকে অনন্তকাল স্মরণ করবে। কারণ দেশের জন্য তার ত্যাগ ও নিষ্ঠা অপরীসীম। তিনি এদেশের মানুষ, গাছ, লতাপাতা ও পানি ভালো ভাসতেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হলেও তার আদর্শ চির অম্লান হোক। তার দেওয়া মন্ত্রগুলো ধারণ করলে তার দল এবং দেশ রক্ষা পাবে, অন্যথায় পাবে না। তার মৃত্যুতে সময় এবং আগামীর মৃত্যু হয়নি, বরং খালেদা জিয়া এবং তার আদর্শই হবে আগামীর বাংলাদেশের চালিকাশক্তি।’

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সময়টাকে তিনটি দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে হবে। এক কঠিন মুহূর্তে রাজনৈতিক উত্থান পর্ব। তখন তিনি ছিলেন আপসহীন। সরকার গঠন- এই সময়ে তার সাফল্য ও ব্যর্থতা আছে। আর ২০০৭ সাল থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় দিতে হবে- তিনি নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচিত প্রথম প্রধানমন্ত্রী।’

খালেদা জিয়ার জানাজার প্রসঙ্গ তুলে নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, সেদিন বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বিএনপির এক নেতা লাখ লাখ মানুষকে কথা দিয়েছিলেন যে তাদের রাজনীতি খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক আদর্শে পরিচালিত হবে। এ কথা রাখতে বিএনপিকে অনুরোধও করেন তিনি। নিউ এজ সম্পাদক বলেন, মানুষ ও রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার যে গুণটি আমাকে বরাবরই আকৃষ্ট করেছে, তা হলো তার রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধ। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শালীনতা ও সংযমের ঘাটতি প্রকট ছিল। তখন আমি লক্ষ করেছি তিনি নিরন্তর ও বিনা ব্যতিক্রমে একজন রাজনীতিক হিসেবে নিজের ওপর ও তার পরিবারের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে যে আঘাত ও দুর্ভোগ নেমে এসেছে, সেসবের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কখনোই প্রকাশ্যে নিজের বেদনা, ক্ষোভ কিংবা নিন্দাসূচক কোনো বক্তব্য উচ্চারণ করেননি।

ব্যবসায়ী সিমিন রহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া মানুষ হিসেবে আপসহীন ছিলেন। দেশের অর্থনীতিতে তার অবদান ছিল। তিনি বলতেন, ব্যবসা করতে হবে নৈতিকতার সঙ্গে। আমার বাবা লতিফুর রহমানের কাছ থেকে শুনেছি, বেগম খালেদা জিয়া সঠিকভাবে ব্যবসা করতে বলেছেন। তার জান্নাত কামনা করছি।’

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর ঘটেছে, শিল্পায়ন হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার চিকিত্সক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী হলেও প্রয়োজনীয় চিকিত্সা তিনি পাননি। চিকিত্সায় এ ধরনের অবহেলাতে লিভার ফাংশনের দ্রুত অবনতি উনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটা অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটা উনাকে হত্যা করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট ফাহাম আব্দুস সালাম বলেন, ‘বিএনপি বিশ বছর অত্যাচারের পরও জনগণের ভালোবাসায় টিকে রয়েছে। এর মূল কারণ বেগম জিয়ার দৃঢ়চেতা রাজনীতি।’

নাগরিক শোকসভায় শ্রোতাদের সারিতে স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য রাখেননি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপির কোনো নেতাও বক্তব্য রাখেননি। শোকসভায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ সিনিয়র নেতারা।

এছাড়াও যুগপতের শরিকদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, ন্যাশনাল লেবার পার্টির লায়ন মো. ফারুক রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদেকী, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির এসএম শাহাদাত উপস্থিত ছিলেন। শোক সভায় যোগ দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও মনির হায়দার প্রমুখ।

এদিকে জুমার নামাজের পর থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় জনসমাগম বাড়তে থাকে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে সভাস্থলে প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা হয়। নির্ধারিত কার্ড ছাড়া ভেতরে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় সংসদ ভবনের বাইরে হাজার হাজার বিএনপি সমর্থক ও সাধারণ মানুষ ভিড় করেন। নেতাকর্মীদের কথা মাথায় রেখে বাইরে বড় পর্দার (বিশাল স্ক্রিন) ব্যবস্থা করা হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে স্মরণসভা শেষ হয়।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.