প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্পে হরিলুট; অবশেষে কর্মকর্তা বরখাস্ত

Published: 07 August 2020 22:08

প্রকল্পের কাজ শুরু না করেই মেসার্স সারিকা ট্রেডার্স বরাদ্দের মোট ১ কোটি ১১ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৫ টাকা ১৩টি বিল ভাউচারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক গলাচিপা শাখার হিসাব নম্বরে (চলতি-৪৩১০২০০০০১৫০৫) নিয়ে নেয়

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১ কোটি ১২ লাখ টাকার কাজ না করে উত্তোলনের দায়ে পটুয়াখালির কলাপাড়ার প্রকল্প কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ১০টি কমিউনিটি সেন্টার ও ৬টি ঘাটলা নির্মাণের কাজ শুরু না করেই বিল বাবদ ১ কোটি ১১ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৫ টাকা তুলে নিয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এ বিল তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। 

এ ঘটনায় গণমাধ্যমে খবর হওয়ার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ঠিকাদার সব টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এর সঙ্গে প্রকল্প কর্মকর্তার যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ ব্যয় নির্বাহের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। ওই বরাদ্দে কলাপাড়া উপজেলায় খাজুরা, চালিতাবুনিয়া, গোড়া আমখোলা, ছোট বালিয়াতলী, ফতেপুর, লক্ষ্মীবাজার, নিশানবাড়িয়া, গামুরিবুনিয়া, নীলগঞ্জ ও নিজশিববাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য প্রতিটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৯ লাখ ৮০ হাজার ১১৩ টাকা। এ ছাড়া নিশানবাড়িয়া ও গামুরিবুনিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি ঘাটলা নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮৩৫ টাকা। নীলগঞ্জ ও গোড়া আমখোলাপাড়া আশ্রয়ণের দুটি ঘাটলার নির্মাণ ব্যয়ে বরাদ্দ ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮৩৫ টাকা এবং খাজুরা ও ফাসিপাড়ায় দুটি ঘাটলা নির্মাণ ব্যয় বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮৩৫ টাকা।

প্রকল্পের কাজ শুরু না করেই মেসার্স সারিকা ট্রেডার্স বরাদ্দের মোট ১ কোটি ১১ লাখ ১৭ হাজার ৬৩৫ টাকা ১৩টি বিল ভাউচারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক গলাচিপা শাখার হিসাব নম্বরে (চলতি-৪৩১০২০০০০১৫০৫) নিয়ে নেয়। প্রকল্প ব্যয়ের বিলের ভাউচারের মাধ্যমে কলাপাড়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে বরাদ্দের এই টাকা হস্তান্তর হয়।

প্রকল্পের কাজের বিপরীতে বিলে কলাপাড়ার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিবুর রহমান এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তপন কুমার ঘোষের স্বাক্ষর রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই প্রকল্পের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরাই এ ব্যাপারে কিছু জানেন না।

Shamiur Rahman

Related