মৌলবাদীদের ঠেকাতে টার্কিস থেরাপি 

Published: 04 December 2020 17:12

এরদোয়ানের ইসলাম জাগরণের দেশে যদি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হয়, তাহলে বাংলাদেশে এই ভাস্কর্য নির্মাণে মৌলবাদীদের আপত্তির কোন কারণ থাকবে?

বাংলাদেশ যখন মুজিববর্ষে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে আমন্ত্রণ জানায় তখন অনেকেই অবাক হয়েছিলেন।

এরদোয়ান এখন শুধু তুরস্কের নয়, সারা বিশ্বে দক্ষিণপন্থী, মৌলবাদীদের নেতা। তার জাস্টিস এ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট পাটি (একে পার্টি), আদতে একটি মৌলবাদী রাজনৈতিক দল। কামাল আতাতুর্ক যে সেকুল্যার তুরস্ক বানিয়েছিলেন তা ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছেন এরদোয়ান।

সেই এরদোয়ান কেন আসবেন জাতির পিতার জন্ম শতবর্ষের অনুষ্ঠানে? এই প্রশ্ন নিয়ে যখন রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা, ঠিক তখনই তথ্যমন্ত্রী গতকাল বুধবার বৈঠক করলেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে । এই বৈঠকের পর জানানো হলো তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য হবে। 

তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তফা ওসমান তুরানের এই ঘোষণার পর আসলে বোঝা গেল, কেন তুরস্ককে কাছে টানতে চাইছে সরকার।

একটা সময় মৌলবাদীদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল ছিল সৌদি আরব। জামাত সহ বহু ইসলাম পছন রাজনৈতিক দল সে সময় সৌদি সহায়তা পেতো।

সৌদি রাজপরিবার মূলত: ইসলামী উম্মাহর জন্য এ ধরনের সহায়তা দিতেন। কিন্তু এখন সৌদি আরব কট্টর ইসলামপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এখন সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরীর গোপন প্রক্রিয়ায় আছে। তাই মৌলবাদীরা এখন সৌদি আরবকে তাদের অভিভাবক মানে না।

মাহাথির মোহাম্মদের সময় বিভিন্ন দেশে মৌলবাদীদের অর্থ সহায়তা দেয়ার কথা শোনা যেত। মাহাথির মুসলিম বিশ্বের নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু তার সরে যাওয়ার পর, মালয়েশিয়া মুসলিম পৃষ্ঠপোষকতায় মনোযোগী নয়।

এরকম বৈশ্বিক বাস্তবতায়, মুসলিম বিশ্বের নেতা এখন এরদোয়ান। রোহিঙ্গা সংকট থেকে সব ইসলামী ইস্যুতেই সরব এরদোয়ান। বাংলাদেশেও দক্ষিণপন্থী মৌলবাদীরা এরদোয়ানকেই এখন তাদের নেতা মানেন। সেই এরদোয়ানই যখন আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য বানাবেন, তখন মৌলবাদীরা কিসের প্রতিবাদ করবে?

এই ছোট্ট একটি ঘোষণা বুঝিয়ে দিলো, সরকারের কৌশল। মৌলবাদীদের ঠেকাতে তাদের আইডলকেই ব্যবহার করছে সরকার। এরদোয়ানের ইসলাম জাগরণের দেশে যদি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হয়, তাহলে বাংলাদেশে এই ভাস্কর্য নির্মাণে মৌলবাদীদের আপত্তির কোন কারণ থাকবে?

Shamiur Rahman

Related