নিজস্ব প্রতিবেদক
Published:2026-01-01 07:18:03 BdST
জিয়াউর রহমানের পর এবার খালেদা জিয়ার জানাজায় মাদারীপুরের ১১০ বছরের বৃদ্ধ
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিলেন মাদারীপুরের কালকিনির ১১০ বছরের বৃদ্ধ মৌলভী আব্দুর রশিদ।
মৌলভী আব্দুর রশিদ জানান, “আমি জিয়াউর রহমানের ভক্ত ছিলাম। তার দেশপ্রেমে আমি মুগ্ধ হতাম। জিয়ার মৃত্যুর পর আমি তার জানাজায়ও অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখনও লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর তার সেই দেশপ্রেম দেখেছি খালেদা জিয়ার মধ্যে। তিনি কখনও নৈতিকতাকে বিসর্জন দেননি।”
এসময় নিজের বয়স ১১০ বছর উল্লেখ করে তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া হাজারো জেল-জুলুম ও অত্যাচারের শিকার হয়েও কখনও আপস করেননি। তার মতো নেত্রী বাংলাদেশের মাটিতে আর জন্ম নেবে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশ একজন খাঁটি দেশপ্রেমিককে হারালো।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণ করতে না পারলে আফসোস থেকে যেত। তাই এই শরীর নিয়েও অনেক কষ্ট করে চলে এসেছি। আমি তার জান্নাত কামনা করছি।”
এদিকে, বেগম জিয়ার জানাজাকে কেন্দ্র করে বেলা ৩টা নাগাদ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আশপাশ, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও এর আশপাশের এলাকা জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যেই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আবদুল মালেকের ইমামতিতে বুধবার বিকাল ৩টা ৩ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা শুরু হয়। ৩টা ৫ মিনিটে মরহুমার জানাজা সম্পন্ন হয়।
জানাজা শেষে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি ভ্যানে করে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন নিয়ে যাওয়া হয় নিকটস্থ শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে। সেখানে পৌঁছার পর ভ্যান থেকে নামিয়ে লাশবাহী খাঁটিয়া ধরেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী, আল্লামা মামুনুল হক প্রমুখ। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তারা বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ নিজ কাঁধে বহন করে নিয়ে যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছে।
প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পূর্ণ ধর্মীয় বিধিবিধান অনুসরণ করে মরহুমার স্বামী ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশেই বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়। দাফনকালে জিয়া পরিবারের সদস্য, দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শোক ও শ্রদ্ধায় নীরব হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
খালেদা জিয়াকে কবরে নামানোর সময় তার লাখ লাখ অনুসারী, ভক্তবৃন্দ কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় সমাধিস্থলে আবেগঘন মুহুর্ত সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মীদের বুকফাঁটা আর্তনাতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এসময় সকলেই চোখের পানি মুছতে মুছতে বেগম জিয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া পড়তে থাকেন।
দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে গার্ড অব অনার প্রদান করে তিন বাহিনীর সদস্যরা। এসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা মরহুমার প্রতি সশস্ত্র সালাম জানান।
পরে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বেগম জিয়ার সমাধিতে পুস্পস্তবক প্রদান করেন।
সবশেষে জন্মদাত্রী মা বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তারেক রহমান এবং জিয়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এসময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐক্যের প্রতীক এবং দেশের আপামর জনগণের আশাভরসার শেষ আশ্রয়স্থল বেগম খালেদা জিয়ার অকাল প্রয়ানে আজ গোটা জাতি শোকাভিভূত।
তীব্র শীত উপেক্ষা করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উপস্থিত লাখো জনতা, বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, অনুসারী এবং অসংখ্য গুনগ্রাহী পড়ন্ত বিকেলের গোধূলিলগ্নে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিনম্র শ্রদ্ধা এবং গভীর ভালোবাসা নিবেদন করে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানান।
চোখের পানি ফেলে তারা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দুই হাত তুলে দোয়া করেন। এসময় বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে বিএনপির নেতাকর্মীদের অঝোর কান্নার দৃশ্য আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যা উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুয়ে যায়।
উল্লেখ্য, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৬টায় বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার নিজ মাতৃভূমি এবং জনগণের কল্যাণে দেশপ্রেম, সততা এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা এবং আপসহীনতা চির-অম্লান হয়ে থাকবে পৃথিবীর ইতিহাসে। আজ তাঁর প্রস্থান একটি যুগের অবসান ঘটাল।
বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন একজন সাহসী নারী নেত্রী হিসেবে, যিনি কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও একনিষ্ঠভাবে দেশ ও দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের এক শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
