বিশেষ প্রতিবেদক
Published:2026-02-21 02:48:43 BdST
সাড়ে ৪ হাজার পিস ট্যাবলেট উদ্ধার, জব্দ তৈরির সরঞ্জামগাজীপুরে বাসার ভিতর ইয়াবার কারখানা
গাজীপুরে বাসার ভিতর গড়ে তোলা ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এসময় আটক করা হয় একজনকে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম তৌহিদুল ইসলাম (৩২)।
এই অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও তৈরির যন্ত্রপাতি।
তৌহিদুল ইসলাম গাজীপুর চৌরাস্তা থানার বড়বাড়ী কাজীবাড়ী পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় টঙ্গী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী উপপরিদর্শক মো. আবু নাসের।
ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়।'
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের গোয়েন্দারা ক্রেতা সেজে টঙ্গী পূর্ব থানার বসুন্ধরা কাজীবাড়ি পুকুরপাড়ে খলিলুল্লাহ রোডের তোহিদুজ্জামানের ভাড়া বাসায় যান। এসময় তোহিদুজ্জামান তাঁদের কাছে পাঁচ হাজার ইয়াবা বিক্রি করতে রাজি হন। একপর্যায়ে তোহিদুজ্জামানকে আটক করা হয় এবং তাঁর পাশের টেবিলে রাখা ইয়াবা ও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম দেখতে পেয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা।
তিনি জানান, বড়বাড়ী এলাকার ২৪/এ নম্বর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আমরা রীতিমতো চমকে উঠি। কারণ সেটা শুধু ঘরই ছিল না, ছিল রীতিমতো ল্যাবরেটরি। ঘরের ভিতরেই সাজানো ছিল ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম। ’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে দুটি জিপারযুক্ত পলিপ্যাকেট থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ঘরের ভিতর রাখা ২২টি প্যাকেট থেকে আরও ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে। যার ওজন ৪৮৯ গ্রাম। এই কারখানার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান চলছে।’
এই অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ট্যাবলেট তৈরির ছাঁচ, রাসায়নিক মিশ্রণের উপকরণ, বিপুল পরিমাণ সাদা পাউডার, পলিপ্যাকেট, মোড়কজাত করার সরঞ্জাম, ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র, মোবাইল ফোন সেট ও নগদ অর্থ।
জিজ্ঞাসাবাদে তোহিদুজ্জামান জানান, 'গাজীপুরের পুবাইলে তিনি একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিজে কেমিস্ট হিসেবে চাকরি করতেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ডায়েসে ট্যাবলেট বানানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চার মাস আগে তিনি ইয়াবা প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন।'
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বড়বাড়ী এলাকার এই ঘরটি ব্যবহার করা হচ্ছিল ছোট আকারের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে। ইয়াবা তৈরির কাঁচামালের একটি অংশ আনা হতো মিয়ানমার থেকে। বাকিগুলো স্থানীয় মার্কেট থেকে সংগ্রহ করতেন তৌহিদুল।
সূত্র মতে, জব্দকৃত কাঁচামাল দিয়ে অন্তত ২০ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি উৎপাদন করা সম্ভব ছিল। ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল শেষ হয়ে এলে ৫০০ পিস ইয়াবা গুঁড়া মিক্সিং করে তৌহিদুল ৫ হাজার ইয়াবা বড়ি তৈরি করে ফেলতেন। এসব ইয়াবা তিনি গাজীপুর, ঢাকা ও সাভারে তাঁদের চক্রের সদস্যদের কাছে পাইকারি বিক্রি করতেন।
এই অভিযানের নেতৃত্বদানকারী মেহেদী হাসান বলেন, ইয়াবা প্রস্তুত ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
