April 7, 2026, 1:54 pm


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2026-04-06 09:53:03 BdST

ডুপ্লিকেট এনআইডি, জালিয়াতি ও মানহানির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাদিনাজপুর নারী চেম্বারের সভাপতি ও তথ্যপ্রযুক্তি লীগনেত্রী শাহিনুর ঢাকায় আটক


ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত একটি তদন্তকে কেন্দ্র করে দায়ের করা জালিয়াতি ও মানহানির মামলায় দিনাজপুর মহিলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটকের পর তাকে গুলশান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দাউদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টীম বিকেল ৪টার দিকে শাহিনুরকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদের কক্ষ হতে আটক করে। ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গুলশান থানার নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, জান্নাতুল সাফা শাহিনুর দিনাজপুর থেকে পালিয়ে ঢাকায় এসে রবিবার (৪ঠা এপ্রিল) সকালে এসেট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক রবীন্দ্রনাথ মাহাতের কক্ষে আত্মগোপনে ছিলেন।

একই সূত্র মতে, গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী আজ (সোমবার) তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তী জামিনের বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযোগটি বাংলাদেশ পেনাল কোডের ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৭১ ও ৫০০ ধারার আওতায় দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ধারায় যথাক্রমে জালিয়াতি, সরকারি নথি জালকরণ, জাল নথি ব্যবহার এবং মানহানির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এসেট প্রকল্পের সাবেক উপ-প্রকল্প পরিচালক ও মামলার অভিযোগকারী খন্দকার খালেদ অভিযোগ করেন যে, মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুর ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এসেট প্রকল্পের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন এবং একাধিক আর্থিক অনিয়ম করায় তিনি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করেন। তার দাবি অনুযায়ী, তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি অভিযুক্তের ডুপ্লিকেট এনআইডি শনাক্ত করেন এবং পর্যবেক্ষণ করেন যে মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুর ডুপ্লিকেট জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রকল্পের সাথে জালিয়াতি করে চুক্তি করা, ব্যাংক একাউন্ট চালু ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ মহিলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের লাইসেন্স গ্রহন করেছেন।

দিনাজপুর মহিলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোসাঃ জান্নাতুল সাফা শাহিনুরের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং জালিয়াতির ঘটনায় বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-প্রকল্প পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা খন্দকার খালেদ রিয়াজ। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শাহিনুরের সাথে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্পাদিত এসেট প্রকল্পসহ অন্যান্য সকল  চুক্তি বাতিল এবং বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের লাইসেন্স বাতিলের জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ একগুচ্ছ সুপারিশমালা যুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

এই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশসমুহ অনুমোদন করার পর কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মোঃ আক্কাস আলী এসেট প্রকল্পের সাথে জান্নাতুল সাফা শাহিনুরের সম্পাদিত সকল চুক্তি বাতিল এবং বাণিজ্য মন্ত্রনালয় থেকে  জালিয়াতি করে লাইসেন্স গ্রহণ করায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী এসেট প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান  শাহিনুরের সাথে সম্পাদিত চুক্তিটি বাতিল করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শাহিনুর অভিযোগকারীকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে শিক্ষা উপদেষ্টার নিকট একটি মিথ্যা মানহানিকর অভিযোগ দাখিল করেন যা পরবর্তীতে তিনি অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গ্রুপে প্রচার করেন। এছাড়া, শাহীনুর একটি তদন্তপত্র গোপনে প্রকল্পের অথবা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা হতে অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং গ্রুপে প্রকাশ করেন।

এছাড়া অনুসন্ধানে জানা যায়, খন্দকার খালেদ রিয়াজ এসেট প্রকল্পের কমর্রত থাকাকালীন দুইজন উদধর্তন কর্মকর্তা তাকে মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ লিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে। এই ঘটনায় সরকারী চাকরীতে তার সুনামহানি হয়। পরে, খন্দকার রিয়াজ বাদী হয়ে ঢাকা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালককে বিবাদী করে অভিযোগ দাখিল করেন।

বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেেটের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত শুরু করার পরে এসেট প্রকল্পের অজ্ঞাতনামা কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা মানহানি মামলার বিবাদীদের নির্দেশে জান্নাতুল সাফা শাহিনুরকে ডেকে তাকে পুনরায় কাজের অনুমোদন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে খন্দকার খালেদ রিয়াজের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার জন্য প্রভাবিত করেন।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, শাহীনুর ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেবর দিনাজপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দিনাজপুরের একাধিক স্বনামধন্য প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালকসহ তদন্তকারী কর্মকর্তা খন্দকার খালেদ রিয়াজের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেন। এরপর, প্রতিশ্রুতি মোতাবেক প্রকল্প পরিচালক ও উপ-প্রকল্প পরিচালক দিনাজপুর মহিলা চেম্বারের সভাপতি শাহীনুরের সাথে পুনরায় চুক্তি করেন ২০২৫ সাল্ব ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বেআইনিভাবে প্রায় ২ কোটি টাকার কাজ দেন।

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য দ্য ফিন্যান্স টুডের পক্ষ থেকে এসেট প্রকল্পের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান এবং উপ-প্রকল্প পরিচালক রবীন্দ্রনাথ মাহাতের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাদের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.