April 14, 2026, 7:24 pm


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-04-14 15:35:22 BdST

সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রতিমন্ত্রী টুকুর


দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারাকে এগিয়ে নিতে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেন, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকা এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, আজকের দিনটি কৃষকদের জন্য আশার ও সম্ভাবনার দিন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, সারাদেশে একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হলেও টাঙ্গাইল সদরকে উদ্বোধনের জন্য বেছে নেওয়ায় জেলার মানুষ গর্বিত ও আনন্দিত।
 
তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। তাদের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন।

কৃষক কার্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; বরং কৃষকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা সহজে ভোগ করতে পারবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। 

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের মাটি একটি ঐতিহ্যবাহী সংগ্রামের মাটি। এই মাটি থেকেই মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কৃষকদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন এবং জমিদার প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন।

তিনি বলেন, সেই ঐতিহাসিক মাটিতেই আজ কৃষক কার্ডের উদ্বোধন হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য নতুন আশার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। কৃষকদের দীর্ঘ সংগ্রাম ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়কে সামনে রেখে এই উদ্যোগ তাদের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলার কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, জেলার উর্বর জমি, বনাঞ্চল ও চরাঞ্চল কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি যমুনা নদীকেন্দ্রিক মৎস্য সম্পদও স্থানীয় মানুষের জীবিকার একটি বড় উৎস।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত ১৭ বছরে এ অঞ্চলে কোনো উন্নয়ন হয়নাই। তবে এবার আপনার প্রতি আস্থা রেখে টাঙ্গাইলের জনগণ ধানের সিসকে বিজয়ী করেছে। 

যমুনা নদীর ভাঙনকে এ অঞ্চলের কৃষকদের বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা গেলে কৃষকরা  আরও নিরাপদে চাষাবাদ করতে পারবে। 

প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। দেশের জনগণ তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে এবং তার দিকনির্দেশনায় জাতি আজ আরও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোটের পরপরই ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে, কৃষকদের ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের দীর্ঘদিনের চাহিদা অনুযায়ী খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ ও উদ্বোধন করা হয়েছে, যা কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শী। এসময় কৃষক কবির হোসেন ও কৃষাণী জুলেখা বেগমও বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করেন।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.