June 9, 2026, 2:53 am


সামিউর রহমান লিপু

Published:
2026-06-08 23:37:48 BdST

সালিসি বৈঠকে যুবদলের সন্ত্রাসী হামলারাজধানীর মৌচাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ছুরিকাঘাতে নিহত


রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নিহত বিল্লাল হোসেন তালুকদার

রাজধানীর রমনা থানাধীন মৌচাকে সালিশি বৈঠকে দ্বন্দ্বের জেরে যুবদলের সন্ত্রাসী হামলায় ও ছুরিকাঘাতে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক এবং ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) কমিটির সদস্য বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) নিহত হয়েছেন। তার বাবার নাম মৃত ইউনুছ তালুকদার।

সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে মৌচাক মার্কেটের পিছনে আনারকলি মার্কেটের সামনের গলিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় বিল্লালের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত সোয়া ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত বিল্লাল রমনা থানাধীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি মালিবাগের বাগানবাড়ি আবাসিক এলাকার ৫১২ নম্বর বাসায় স্বপরিবারে বসবাস করতেন। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার এবং মালিবাগে তার বালু-সিমেন্টের ব্যবসা ছিলো।

ঢাকা মেডিকেলে নিহত বিল্লালের স্বজনদের আহাজারি 

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় আনারকলি মার্কেটের সামনে কয়েকজন মিলে প্রথমে বিল্লালের ভাগ্নে মো: মোবারক হোসেনকে মারধর করে। এই ঘটনার পর মোবারক তার মামা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে ডেকে আনেন। রাত ৮টার দিকে আনারকলি মার্কেটের সামনে ওই মারামারির ঘটনায় সালিশি বৈঠক হচ্ছিল।

নিহত বিল্লালের ভাগ্নে মো: মোবারক হোসেন আকাশ ও মো: লাবলু মোল্লা বলেন, সালিশি বৈঠক চলাকালে রমনা থানা যুবদলের আহবায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু ও সদস্য সচিব মো. লুৎফুর রহমানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় বিল্লালের। এক পর্যায়ে তাদের নেতৃত্বে ‘অজ্ঞাত ১০-১২ জন’ সন্ত্রাসী বিল্লালের উপর হামলা করে। এসময় হামলাকারীরা বিল্লালের বুকে ছুরিকাঘাত করে। এতে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিল্লাল। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিল্লালের বুকের ডান পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হামলাকারীরা। ঘটনাটি রমনা থানায় জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির রমনা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাজাহার বলেন, সালিশকে কেন্দ্র করে বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

রমনা থানা সূত্রমতে, এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাজুড়ে থানা পুলিশের টহল অভিযান জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মৌচাক ও আনারকলি মার্কেটের সামনে ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে। এনিয়ে  দ্বন্দ্ব ও পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

রমনা থানা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত; মূল অভিযুক্ত বাবু বহিষ্কার

রমনা থানা যুবদলের আহবায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু

রাজধানীতে প্রকাশ্যে যুবদল নেতার অনুসারীদের সন্ত্রাসী হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর কমিটির নেতা নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগ ও বাগানবাড়ি সহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। 

এদিকে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য দিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে রমনা থানা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাতেই যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বে) নুরুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক নিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে রমনা থানা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

যুবদলের সদ্যগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন আজ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, নিহত বিল্লাল রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

উক্ত হামলায় সোহাগ পরিবহনের মালিকের ভাইসহ অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সোহাগ পরিবহনের মালিক মো. ফারুক তালুকদার সে সময় অভিযোগ করেছিলেন, বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বেই হামলা চালানো হয়েছিল।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.