বিশেষ প্রতিনিধি
Published:2026-04-26 23:12:30 BdST
গনধোলাইয়ের শিকার হলেও এমপির পিএসের ফোনে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশপ্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ'র পিয়ন সুমনের গুপ্ত প্রচার
বিআইডব্লিউটিএ'তে গুপ্ত বাহিনীর তান্ডবে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গুপ্ত বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদানকারী অফিস সহায়ক (পিয়ন) ইসরারুল হাসান সুমনকে মতিঝিলের সাধারণ জনতা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলেও সরকারি দলের কোনও এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীর ফোনে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্যিকর কথা বলায় স্থানীয় জনগণ সুমনকে গণধোলাই দিয়েছে। মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে মতিঝিল সিটি সেন্টারের সামনে বিআইডব্লিউটিএ'র অফিস সহায়ক (পিয়ন) ইসরারুল হাসান সুমন তার সাঙ্গপাঙ্গদের কাছে প্রকাশ্যে দিবালোকে জনসম্মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষায় গাল-মন্দ করে। এসময় আশপাশের লোকজন সুমনের পরিচয় জানতে চাইলে সে জনগণের উপর চড়াও হয় এবং নিজেকে বিআইডব্লিউটিএ'র জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা বলে পরিচয় দেয়। উপস্থিত লোকজন সুমনকে বারবার প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজ করা বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু সুমন আরো ক্ষেপে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েও কটাক্ষ করে। এরপর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়।
এর আগে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শোকাহত ব্যানার বিআইডব্লিউটিএ ভবন থেকে ছিড়ে ফেলে সুমন। ঐ সময়ে কর্মচারী সুমনের উপর ক্ষিপ্ত হলে একজন কর্মকর্তায় সহায়তায় তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়। কিন্তু গত ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ করেও পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএ'র কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও ঘটতে পারে। তখন এর দায়বার কে নিবে এনিয়েও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইসরারুল হাসান সুমন হাজিরা খাতায় সই করে আর অফিসে থাকে না। সে নিজেকে শ্রমিক দলের নেতা পরিচয় দিয়ে নানা ধরনের তদবির করে থাকে। তার আচরণে কর্মকর্তারা অতিষ্ঠ হলেও সুমন দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
সুমন তার ফেসবুক আইডি থেকে বিএনপি তথা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করলেও কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। উপরন্তু তার বাড়ি পাবনা হবার সুবাদে একজন অতিরিক্ত পরিচালক তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সুমন বিএনপির একজন সংসদ সদস্যের ভাতিজা পরিচয়ে দাবিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা বিআইডব্লিউটিএ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুমনের বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গুপ্ত কাজ দৃশ্যমান হওয়ায় তাকে হাতিয়া নদীবন্দরে বদলির জন্য ফাইল উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু হঠাৎ একটি ফোনে সুমনের বদলির এই ফাইল আটকে যায়। স্থগিত করা হয় সুমনের বদলির আদেশ।
বিআইডব্লিউটিএ'র সাধারণ কর্মচারীদের কাছে সুমন গুপ্ত সুমন নামেই বেশি পরিচিতি লাভ করেছে। সুমনের বিরুদ্ধে গত ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তারেক রহমানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগও রয়েছে। সেসময় সুমন তারেক রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে সাফাই করে "তারেক রহমান ফেল করবে" বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে।
সুমনের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বিআইডব্লিউটিএ'র সাধারণ কর্মচারীদের ভাবিয়ে তুলেছে। এরকম একজন গুপ্তচরকে কিভাবে সরকারি দলের এমপির পিএস ফোন করে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বি'আইডব্লিউটিএ'র কর্মচারীদের দাবি, সুমনকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক। আর পুলিশ কেন সুমনকে ছেড়ে দিল তাও খতিয়ে দেখা হোক। নইলে এই ধরনের অপরাধীরা আরও দুর্ধর্ষ হয়ে উঠবে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
