July 15, 2024, 5:47 am


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2023-05-30 18:09:28 BdST

কঠোর অবস্থানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়সংবাদ প্রকাশের পর বদলী আতংকে দিন কাটছে দুর্নীতিবাজদের


একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জর্জরিত পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চলমান নানা অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে গনমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ।

ইতোমধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের ব্যাপারে প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহন শুরু হয়ে গেছে। আর সরকারের ঊর্ধতন মহলের এই কঠোর অবস্থানের ফলে রীতিমতো আতংকিত দুর্নীতিবাজ চক্রের সবাই। 

এই কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে ২৯শে মে, ২০২৩ইং তারিখে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ইউনিটের সহকারী প্রধান মতিউর রহমানকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক পদে বদলীর আদেশ জারি করা হয়। আগামী ১লা জুলাই, ২০২৩ এ সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে উক্ত প্রজ্ঞাপনে। অন্যথায় তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি 'দি ফিন্যান্স টুডে'তে  "অনিয়ম, দুর্নীতির কালো ছায়ায় ঢেকে আছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর" শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদনে যে কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার নাম প্রকাশিত হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই মতিউর রহমান। 

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে অদৃশ্য ইশারায় চলছিলো নিয়োগ, বদলি আর পদোন্নতির তুঘলকি কারবার। জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়ায় দফতরের কর্মকর্তাদের মাঝে বেড়েছে অসন্তোষ। অন্যদিকে বদলির ক্ষেত্রেও টাকা ছাড়া কোনো কাজ হচ্ছে না। বদলি সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে খোদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করেই ঘুষ বাণিজ্যের ফন্দি-ফিকির করেন ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

এই সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে সচিব ও মহাপরিচালক এদের কাছে অসহায়। কখনো কখনো সচিব, মহাপরিচালকের দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত কার্যকর হতে দেয়া হয় না।

অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) খান মোহাম্মদ রেজাউল করিম, উপপরিচালক (পার) ও বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী, বহুল আলোচিত সহকারী পরিচালক (পার্সোনেল -১ ) আব্দুল মান্নান এবং সহকারী পরিচালক (সমন্বয়) মতিউর রহমান এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। 

এসকল কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সুনাম ক্ষুন্ন হতে হতে তলানিতে এসে ঠেকেছে।

এতে করে মাঠ প্রশাসনের ভেতরে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরকারের ঊর্ধতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ চাইছেন এখানে কর্মরত অনেকেই।

তবে আশার কথা হচ্ছে, দেরীতে হলেও টনক নড়েছে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাওয়ার আগেই দুর্নীতিবাজ এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ নেয়া শুরু হয়েছে। এখন চক্রের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়; সেটাই দেখার অপেক্ষায় সবাই।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা