June 24, 2024, 2:25 am


অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

Published:
2024-05-23 19:02:47 BdST

আইন ও এস্টেট পরিচালক পদ সৃজনে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অসম্মতি তবুও পরিচালক আরিফ উদ্দিন!


 

  • বিআইডব্লিউটিএ অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে দুদকের ভূমিকা নমনীয়!

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:

বিআইডব্লিউটিসি সাবেক চেয়ারম্যান সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের চার্জশীট প্রদানের পর কপালে ভাঁজ পড়তে দেখা গেছে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তাদের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বর্তমান মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর সর্বপ্রথম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ভাষায় তার “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেছে। ঐ সময় প্রতিটি মন্ত্রনালয় ও তার অধিদপ্তর সমূহের দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তাদের মাঝে কিছুটা ভীতি দেখা গেলেও পরবর্তীতে আস্তে আস্তে ধরে নিয়েছে যে দুর্নীতি করলে এ দেশে কিছুই হবে না। কিন্তু দুর্নীতিবাজদের সেই আশায় গুড়ে বালি ঢেলে দিচ্ছে, “দুর্নীতি দমন কমিশন”। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাঘা বাঘা দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রীদের যেমন পুনরায় মন্ত্রী সভায় স্থান না দেওয়াই তার প্রাথমিক নমুনা। এর পর বড় বড় আমলাদের ও রেহাই দিচ্ছে না দুদক। এর ফলে সাধারন জনগনের মাঝে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

বিআইডব্লিউটিসি সাবেক চেয়ারম্যান সহ যাদের বিরুদ্ধে দুদক চার্জশীট রয়েছে তাদের আইনের আওতায় নিবে এটাই জনপ্রত্যাশা। কিন্তু “আলোর নীচে অন্ধকার” যে প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতাধর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে আবেদন করে এখনও চাহিদা মাফিক কাগজ পত্র পায়নি তার নাম বিআইডব্লিউটিএ প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন অধিকাংশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রজেক্ট ডিরেক্টর, এমনকি পাইলট পর্যন্ত দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। সকল ধরনের নিয়োগ, বদলী, টেন্ডার এ এদের হস্তক্ষেপ এ যেন এক মগের মুল্লুক।

দুর্নীতি দমন কমিশন ও এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করেও তাদের আইনের আওতায় নিতে পারে নাই। জনমনে প্রশ্ন তাহলে কি “বিআইডব্লিউটিএ সকল ক্ষমতার উর্ধ্বে”? এ নিয়েই আমাদের এ বারের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ আংশিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ'র সবচেয়ে বেশী ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হিসেবে সকল মহলে নিকট পরিচিত তিনি বিআইডব্লিউটিএ অফিসার্স এসোসিয়েশন এর সাধারন সম্পাদক এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন।

বিআইডব্লিউটিএ অতিরিক্ত পরিচালক এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন বহু আলোচিত ও সাহসী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নদীর তীর ভূমিদস্যু কবল থেকে উদ্ধারে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা রেখে যেমন আলোচিত একজন কর্মকর্তা তেমনি পেছন দরজা দিয়ে সমঝোতার অভিযোগও কম নেই তার বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ, অর্থবিত্ত ,ক্ষমতাধর অধিকারী এই আরিফ উদ্দিন। সারা দেশের জনগণ তাকে চিনে। তার সাহসী ভূমিকা যেমন প্রশংসিত ঠিক তেমনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ও প্রবল। ক্ষমতাধর এ কর্মকর্তা মুল দায়িত্বের বাইরেও অনুমোদন বিহীন পরিচালক পদ (চলতি দায়িত্ব) নিয়ে বসে আছেন এই অভিযোগ বিআইডব্লিউটিএ জুড়ে।

আরিফ উদ্দিন:

পুরো নাম এ.কে.এম.আরিফ উদ্দিন। পিতা: করিম হাজী.গ্রাম-রায়পুর.থানা-সুজানগর, পাবনা। বর্তমানে তিনি বন্দর ও পরিবহন শাখা অতিরিক্ত পরিচালক ও ল্যান্ড এন্ড এস্টেট এর পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত। চৌকষ এ কর্মকর্তা অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও পাবনা জেলার সন্তান হিসেবে নিজেকে আরও সুপার পাওয়ার হিসেবে মনে করে থাকে এ বক্তব্য বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের । তার গ্রামের বাড়ী:-রায়পুর, সুজানগর, পাবনাতে খোঁজ নিয়ে ও আমাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একজন আরিফ উদ্দিনের ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হয়ে উঠার কথা। তথ্য সূত্র যতটুকু পাওয়া গেছে স্ত্রী শামীমা, ছেলে সাদ ও মেয়ে আরিন। সাদ ও আরিন দুজনই দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষারত আছে। 

দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান:

স্বারক নং- ০০.০১.২৬০০.৬০৩.০১.২৩৪.২৩-৩২১৭ এ দুর্নীতি দমন কশিনের উপ-পরিচালক মো: হাফিজুল ইসলাম ( অনু ও তদন্ত-২) টিমের পক্ষ থেকে ০৩/০৯/২০২৩ ইং তারিখে পরিচালক ( প্রশাসন) বিআইডব্লিউটিএ বরাবরে এ পত্রে “আরিফ হাসনাত” যুগ্ম পরিচালক বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নানাবিধ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এর সুষ্ঠ অনুসন্ধানের জন্য নিম্নবর্নিত রেকর্ডপত্র সংগ্রহপূর্বক চিঠি প্রদান করে।

উক্ত স্বারকের নামের স্থলে আরিফ হাসনাত লেখা রয়েছে কিন্তু যুগ্ম পরিচালক আরিফ হাসনাত নামক কোন কর্মকর্তা বিআইডব্লিউটিএ পাওয়া যায়নি।

দুদকের চাহিদা পত্রে যে সমস্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে তা হলো বিআইডব্লিউটিএ আওতাধীন নারায়নগঞ্জ পোর্ট হইতে ১/১/১৯-৩১/১২/২২ তারিখ সময়ে সদরঘাট পোর্ট হতে ১/১/২০২০-৩১/১২/২২ তারিখ সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক খাতের হিসেবের বিবরনী এ ছাড়াও জনাব আরিফ হাসনাত, যুগ্ম পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএ এর ব্যক্তিগত নথি, উত্তোলিত বেতন ভাতার বিবরন (শুরু হইতে জুন/২৩ সময় পর্যন্ত) দায় দায়িত্ব সম্পর্কীত অফিস আদেশ সমূহ তার নিজ স্ত্রী/সন্তান/ভাই গনের নামে ব্যবসা/শেয়ার পরিচালনায় আবেদন এবং অনুমোদন সংক্রান্ত সমুদয় রেকর্ডপত্র।

“দ্য ফিন্যান্স টুডে” ও অনুসন্ধানে জানা গেছে যে চাহিদা পত্রের সমুদয় কাগজপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে কাছে হস্তান্তর করা হয় নাই। এ কারনে কচ্ছব গতিতে এগোচ্ছে অনুসন্ধান কার্যক্রম। বিআইডব্লিউটিএ'র অনুসন্ধান ও তদন্তে দুদকের কেন ধীরগতি সে তথ্য বের করতে আমাদের অনুসন্ধানী টিম কাজ করছে। এমন কি সুপার পাওযার বিআইডব্লিউটিএ'র কর্মকর্তাদের যে কারনে চার্জশীট ভুক্ত আসামীরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়? আর অনুসন্ধানের নামে চলে দুদকের সাপ লুডু খেলা। দীর্ঘদিন অনুসন্ধান কার্যক্রমে দুদকের প্রতি সাধারন জনগনের আস্থা কমে আসবে।

বিআইডব্লিউটিএ ক্ষমতাধর কর্মকর্তা এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন এর ব্যাপারে দ্য ফিন্যান্স টুডে দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অনেক অজানা তথ্য। যা দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে সহায়ক হবে।

ঢাকার ৩০১ এলিফ্যান্ট রোডে তার স্ত্রীর শামীমার নামে রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ী, বারিধারা বসুন্ধরাতে ব্লক সি তিনি প্রসাদ তম ফ্লাটে বসবাস করে পাশে ১টি ফ্লাট ক্রয় করে ভাড়া দেওয়া। এছাড়াও তার নামে ও তার পরিবারের নামে পাবনাতে রয়েছে অসংখ্য সম্পত্তি, সুজানগর পাবনাতে রয়েছে অঢেল সম্পদ। পূর্বাচলে প্লট, বসুন্ধরা অংশীদারিত্বে ১টি বিল্ডিং এর কাজ চলমান। এমন তথ্য জানা গেছে। যা দুদকের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসবে। এ ব্যাপারে তথ্য ও প্রমান সংগ্রহে আমাদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। 

 গনমাধ্যম শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কর্মকান্ড ও অর্জিত সম্পদ কতটুকু বৈধ তা বিশ্লেষন করতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশন যদি দেশের কল্যানে জনআস্থা রেখে পরিচালিত হয় তাহলেই সুশানের পথ সুগম হবে বলে বিশিষ্ঠ জনেরা মনে করেন।

নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের স্মারকের চিঠিতে আইন ও এস্টেট পরিচালক পদ সৃজনে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অসম্মতি। 

সূত্র: নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের স্মারক নং- ১৮.০০.০০০০.০১৯.১৮.০১৩.২১-২৯৫, তারিখ:২৬ ডিসেম্বর ২০২৩।

পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে:

উপযুক্ত বিষয় ও সুত্রস্থ পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মো: মশিউর রহমান তালুকদার উপসচিব স্বাক্ষরিত পত্রে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর সাংগঠনিক কাঠামোতে এস্টেট ও আইন বিভাগের জন্য অর্থ বিভাগ থেকে ১৬/০৮/২০২৩ তারিখের ১৬৮নং স্মারকের মাধ্যমে ১২টি পদ সৃজনে সম্মতি প্রদান করা হয়েছে। পদগুলোর মধ্যে ০২টি উপপরিচালক [উপপরিচালক (এস্টেট)-০১টি, উপপরিচালক (আইন)-০১টি] এর পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতনভাতা প্রদানের জন্য সরকারের বাজেট সহায়তার উপর নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে, পদ সৃজনে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত পরিচালক পদ এবং পরিচালকের সহায়ক পদ হিসেবে ব্যক্তিগত সহকারী এবং অফিস সহায়ক পদ সৃজনে অর্থ বিভাগের অসম্মতি (Non-concurrence) জ্ঞাপন করা হয়।

আইন ও এস্টেট পরিচালক পদ সৃজনে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অসম্মতি জানিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় থেকে বিআইডব্লিউটিএ কে পত্র:

নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় টি শাখা ১৫ এপ্রিল ২০২৪ এর স্মারক নং- ১৮.০০.০০০০.০১৯.১৮.০১৩.২১.১০৩ এ বিআইডব্লিউটিএ সাংগাঠনিক কাঠামোতে এষ্টেট ও আইন বিভাগের জন্য বছর বছর সংরক্ষনের ভিত্তিতে অস্থায়ী ভাবে ০৩ পদ সৃষ্টিতে সম্মতি জ্ঞাপন সংক্রান্ত একটি পত্র দেন। উক্ত পত্রে অর্থ বিভাগের সূত্র: পত্র নং-০৭.০০.০০০০.১২৬.০০.০০৮ (অংশ-১) ২২.৭৯ তারিখ ২১.৩.২০২৪ এক পত্রে বিআইডব্লিউটিএ সংগাঠনিক কাঠামোতে এষ্টেট ও আইন বিভাগের জন্য ০৩ (তিন) ক্যাটাগরির ০৩ (তিন) টি পদ পরিচালক এর ০১ টি, সাঁটলিপিকারের (ব্যক্তিগত সহকারী) ০১টি এবং অফিস সহকারী ০১টি, রাজস্বখাতে অস্থায়ী ভাবে সৃজনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রনালয়ের সম্মতি প্রদানের জন্য অর্থ বিভাগ,অর্থ মন্ত্রনালয় গত ১৬-১২-১০২৩ তারিখ অনুরোধ করা হয়। তদপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ পদ সৃজনে সরকারের আর্থিক সংশ্লেষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রম্ভাবিত পরিচালক পদ এবং পরিচালকের সহায়ক পদ হিসেবে ব্যক্তিগত সহকারী এবং অফিস সহকারী এবং অফিস সহায়ক পদ সৃজনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেছে।

অথচ বিআইডব্লিউটিএ ওয়েব সাইট ঘেঁটে করে দেখা গেছে ল্যান্ড এস্টেট বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে এ.কে.এম আরিফ উদ্দিন এর নাম রয়েছে। এবং পরিচালক হিসেবে তিনি যাবতীয় গাড়ী সুবিধা সহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। অর্থ মন্ত্রনালয় থেকে পরিচালক পদ সৃজনের কোন সম্মতি নাই।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য পরিচালক প্রশাসন ওয়াকিল নেওয়াজকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করে নাই। তাহলে প্রশ্ন মন্ত্রনালয় যেখানে পরিচালক পদ সৃজনে অনুমতি দেয় নাই যেখানে বিআইডব্লিউটিএ কিভাবে পরিচালক পদ সৃজন করলো? কার ইশারায় ও কি বিধিতে চলে বিআইডব্লিউটিএ?

আরিফ উদ্দিনের বেতন কত? তার পরিবারের বিআইডব্লিউটিএ চাকুরী পাওয়ার পূর্বে কি পরিমান সম্পত্তি ছিল? তা থেকেই বের হয়ে আসবে সম্পদ কি বৈধ না অবৈধ।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.


Popular Article from FT বাংলা