August 30, 2025, 9:57 pm


মুস্তাফিজ মাহমুদ

Published:
2025-08-30 14:10:08 BdST

রক্তাক্ত নূর ও মব-রাজনীতির মুখোশ


বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায় রচনা করে সর্বাধিক জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই নেতৃত্বের শুরু থেকেই আমরা প্রত্যক্ষ করেছি একটি অযোগ্য ও এনজিও-ধাঁচের প্রশাসনিক কাঠামো। গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জন্ম নেওয়া এ সরকার ক্ষমতার প্রথম দিন থেকেই রাষ্ট্রীয় নীতি নয়, বরং মব-রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে দেশকে অরাজকতার পথে ঠেলে দিয়েছে।

আজকের দিনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ কিংবা ভিপি নূরের উপর পাশবিক হামলায় রক্তাক্ত করার মধ্য দিয়ে যে "মব দমন তত্ত্ব" দাঁড় করানো হচ্ছে, তা কেবল সরকারের ব্যর্থতার মুখোশ ঢাকার করুণ চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

আমি বহুদিন আগে থেকেই সতর্ক করে আসছিলাম- এই সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা কিংবা বিভিন্ন উপদেষ্টামণ্ডলীর অযোগ্য নেতৃত্ব আমাদের ভয়াবহ বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তখন আশপাশের তথাকথিত "মহামেধাবী পণ্ডিত" সমাজ আমাদের সমালোচনাকে ব্যঙ্গ করেছে, আমাদের উপর "দোসর" তকমা জুড়ে দিয়েছে। অথচ আজকের বাস্তবতা প্রমাণ করছে, আমাদের সেই সতর্কবার্তাই ধীরে ধীরে সত্য হয়ে উঠছে। যারা তখন আমাদের কণ্ঠ রোধ করতে চেয়েছিল, তারাই আজ সরকারের সমালোচনায় মুখর। তাই আমি বলি, অন্ধ অনুসরণ নয়, মাথা খাটিয়ে বিচার করতে শিখুন। নইলে সত্য আপনাকে একদিন নির্মমভাবে আঘাত করবে।

আজ নুরুল হক নূরকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে, তা নিছক একটি দুর্ঘটনা নয় বরং একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। নূর বারবার সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের একের পর এক কেলেঙ্কারি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভূমিকা, এনসিপির সমালোচনা ও বৈষম্যবিরোধীদের চাঁদাবাজি- সবকিছুই তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি তিনি অব্যাহতভাবে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন।

তাই স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে- এই সাহসী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্যই কি নূরের উপর হামলা চালানো হলো?

এদেশে নূরের গন-অধিকার পরিষদই একমাত্র দল, যে দলের প্রধানই রক্তাক্ত হয় বারবার। যদিও আজকের ঘটনার জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপর হামলাকারী তাঁর উচ্ছৃঙ্খল কিছু নেতাকর্মীও অনেকাংশে দায়ী।

আমরা অতীতে দেখেছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যখন সরকারের নির্দেশে বা এনসিপির ইঙ্গিতে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনে নেমেছে, তখন কেউ কেউ গুলি খেয়ে প্রাণও হারিয়েছে। সেই দৃশ্য টিভি স্ক্রীনের সামনে বসে মনিটর করেও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আর আসিফ মাহমুদরা সেই হত্যাকান্ডে নিরব ভূমিকা পালন করেছেন। তখন অনেকেই বাহিনীগুলোর নিষ্ঠুরতাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। আজ সেই একই বাহিনীর আঘাতে ভিপি নূর রক্তাক্ত হয়েছেন। দ্বিমুখী এই ভণ্ডামির শিকার হয়েছেন তিনি।

কেবল তাই নয়, নূরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আরেকটি দিক হলো কিছু ভণ্ড সাংবাদিক ও ইউটিউবারের অপ-চিন্তাবিদদের ভূমিকা। ইলিয়াস হোসেন প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন নূরের রাজনীতিকে ধ্বংস করার। আর সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কুখ্যাত অপচিকিৎসক পিনাকীর দুষ্ট রচনা। ফলে সহজেই অনুমান করা যায়—গতকালের ঘটনার নেপথ্যে এইসব কুচক্রী মহলের হাত থাকলেও থাকতে পারে।

সুতরাং এখনই সময়—দেশের মব-রাজনীতি, ষড়যন্ত্রকারী সাংবাদিক ও ছদ্মবেশী বুদ্ধিজীবীদের চক্রান্ত থেকে মুক্তি পাওয়ার। নইলে বারবার এমন রক্তপাত, এমন অরাজকতা ঘটবে, যার শেষ পরিণতি এক ভয়ঙ্কর গৃহযুদ্ধ।

বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছে, শোষণ থেকে মুক্তির জন্য লড়াই করেছে। আজ যদি সেই মানুষই আবার মবের হাতে পিষ্ট হয়, তবে ইতিহাস এই প্রজন্মকে ক্ষমা করে না।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.