February 23, 2026, 8:39 pm


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2026-02-23 13:48:59 BdST

বিআইডব্লিউটিএ’র সবারই আছে “অবৈধ সম্পদ”


 
  • বিআইডব্লিউটিএ’র সবারই আছে “অবৈধ সম্পদ”
  • সুবিধাবাদী এবং বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের অসাধু চাটুকার শ্রেণির কর্মকর্তারাও এখন বিএনপির নেতা


বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিএক্সউটিএ) অধিকাংশ কর্মকর্তাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অঢেল অবৈধ সম্পদ করেছেন। তারা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, নৌ-বন্দর ইজারা, নদীর ড্রেজিং, নদী থেকে বালু উত্তোলন, জাহাজ চলাচলের অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তারা এখন নতুন সরকারের মন্ত্রী, সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে, বিভিন্ন দপ্তরে থাকা কর্তাব্যক্তিদের পিএস, এপিএসদের সাথে ঘনিষ্ঠতা করে পুনরায় দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়াচ্ছেন। পতিত সরকারের আমলে এটি বড় একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল।

এদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিআইডব্লিউটিএ’র উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো চলছে ধীরগতিতে। অন্যদিকে, আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের নানামুখী তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে প্রকল্পগুলোর কাজ থমকে গেছে। তবে আওয়ামী ট্যাগিংয়ের অধিকাংশ কর্মকর্তা রূপ পাল্টিয়ে সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন। আবার অনেককেই বদলি বা বরখাস্ত করা হয়েছে।

খোদ বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফার বিরুদ্ধেও আওয়ামীপন্থী ট্যাগের অভিযোগ উঠেছে। এজন্য ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। জানা গেছে, নদীর চলাচল ও অবকাঠামো রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১২টি প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। প্রধান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নদীর খাল রক্ষার জন্য বৃহৎ খনন কাজ। এর মধ্যে জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র ও ঝিনাই নদী, কুড়িগ্রামের ধরলা নদী, দিনাজপুরের তোলাই ও পুনর্ভবা নদী, টাঙ্গাইলের বাঁশী নদী, গাইবান্ধার ঘাঘট নদী, গাজীপুরের নাগদা নদী এবং কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন নদী উক্ত খনন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।


অন্য প্রধান প্রকল্পগুলো হলো, ঢাকার চারপাশে একটি বৃত্তাকার পথ নির্মাণ, নদীর সীমানা নির্ধারণের জন্য ীমারেখা পিলার স্থাপন এবং ৩৫টি নতুন খননযন্ত্র কেনার উদ্যোগ। যেটিতে বেশ কয়েক বছর ধরে বরাদ্দ থাকছে না। নতুন সরকার চাচ্ছে ধীরগতিতে চলা কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে।

এদিকে, বিআইডব্লিউটিএর ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সাথে সম্পৃক্ত দুই ডজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অনুসন্ধান করছে বছরের পর বছর ধরে। সূত্র জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে সাত কর্মকর্তারা তাদের অবৈধ সম্পদ বৈধ করতে জাহাজ ক্রয়ে বিনিয়োগ করেছেন, স্ত্রীদের এসব জাহাজের মালিক বানিয়েছেন এবং কোটি কোটি টাকার সম্পদ কিনে দিয়েছেন। আরো ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান টিম মাঠে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। এরা সবাই পতিত সরকারের আমলে বিআইডব্লিউটিএকে লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়ে নিজেরা আলিশান বাড়ি ও পাহাড় সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

দুদকের তথ্যমতে, ২০২১ সালে বিআইডব্লিউটিএ’র একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চারটি পৃথক অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। একই বছরের অক্টোবর মাসে বিআইডব্লিউটিএ’র ২ ডজন কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তদন্ত করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে দুদকে চিঠি পাঠানো হয়। এরপরই দুদক তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নামে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৭ জন কর্মকর্তাসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লাখ বিনিয়োগ করে ‘ডজন রোজ লিমিটেড’ নামে একটি জাহাজ কোম্পানি গঠন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মকর্তাদের স্ত্রীদের নামে শেয়ার ক্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়। একইসঙ্গে তাদের স্ত্রীদের নামে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যাংক ব্যালেন্স করার তথ্য রয়েছে।
দুদক যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের আমলনামা নিম্নে তুলে ধরা হলো।


বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শামীম আক্তারের আমলনামা
বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ১৯৮৯ সালে বিআইডব্লিউটিএ’তে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি চাকরিতে যোগদানের পর স্ত্রীকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী দেখান। শফিকুল ইসলাম ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পরিচালক (সচিব) হিসেবে অবসরে যান।
অবসরে যাওয়ার আগে তিনি ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল স্ত্রী শামীমা আক্তারের নামে ‘রোজ ডজন’ কোম্পানিতে ১৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনেন। রাজধানীর রাজাবাজারে মাসুম ভ্যালী ভবনের দ্বিতীয় তলায় শফিকুলের ১১৫০ বর্গফুট ও কার পার্কিংসহ একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। কুড়িগ্রামের তরকপুরে ২২ শতাংশ জমিতে পুকুর খনন ও টিনসেড বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ধানমন্ডিতে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আছে। এসব সম্পদের মূল্য দেখান ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এছাড়া তার ৮০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, লিজেন্ড-১০ শিপিং লাইন্সে ৪০ লাখ টাকার শেয়ার, এমভি শুভেচ্ছা-১ এ ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার, জেমস্টোনে ১০ লাখ টাকার শেয়ার, একটি জিপ গাড়ি ও ১৫ ভরি সোনাসহ আবসাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিক্স মালামাল রয়েছে।

শফিকুলের স্ত্রী শামীমা আক্তারের বগুড়া সদরের ছয়পুকুরিয়ায় আড়াই শতাংশ জমি ও ৬টি দোকান, ঢাকার পশ্চিম জাফরাবাদে ১২৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, মোহাম্মদপুরে ১২৩০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ‘রোজ ডজন’ কোম্পানিতে তার ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা শেয়ার, জেম স্টোন শিপিং লাইন্সে ৪০ লাখ টাকা, রিলায়াবল অয়েল কোম্পানিতে ৪৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ, একটি প্রাইভেট কার ও ২০ ভরি স্বর্ণসহ আসবাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিক্স মালামাল রয়েছে। শামীমা আক্তার কর দিয়ে ১ কোটি ১৬ লাখ ১৮ হাজার কালো টাকা সাদা করেছেন।
আয়কর নথির অনুযায়ী শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। বাস্তবে তাদের সম্পদের মূল্য আরও অনেক বেশি। এসব সম্পদের মধ্যে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে।


পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাবিহা পারভীনের আমলনামা
রফিকুল ইসলাম ১৯৯২ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। তার স্ত্রী সাবিহা পারভীন একজন গৃহিণী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। রফিকুল ইসলামের স্ত্রীর নামে ২০২০ সালে লিজেন্ড-১০ কোম্পানির মর্নিং ভয়েজ নামীয় নৌযানে ২০ লাখ টাকার শেয়ার কিনেন। রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ১২ জমি শতাংশ রয়েছে। একই থানার ছোট বনগ্রামে ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ জমি রয়েছে।
এছাড়া, রাজধানীর আদাবরে পার্কিংসহ ১৫৬৩ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, বাড্ডায় ২০ জনের সমিতি গঠন করে ১০ কাঠা জমি ক্রয়, রাজধানীর একটি আবাসিক প্রকল্পে ২ কাঠার প্লট ক্রয়, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ভাইয়ের কাছ থেকে ৪০ শতাংশ, মায়ের কাছ থেকে সাড়ে ২৫ শতাংশ জমি পেয়েছেন বলে আয়কর নথিতে উল্লেখ করেন।


তিনি এজমালি সম্পত্তি থেকে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ পেয়েছেন বলে জানান। তার স্ত্রীর নামে সাভারের কাউন্দিয়ায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। তাদের দুজনের ৬৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। আয়কর নথিতে তাদের ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। বাস্তবে এসব সম্পদের মূল্য আরও অনেক বেশি। তাদের দখলে থাকা সম্পদের মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্য রয়েছে।


যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী ও তার স্ত্রীর আমলনামা
গুলজার আলী ১৯৯৪ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি স্ত্রী সালমা হককে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে স্ত্রীর নামে লিজেন্ড শিপিং লাইন্সে ২০ লাখ এবং ২০১৮ সালের এপ্রিলে রোজ ডজন শিপিং কোম্পানিতে ১৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনেন। গুলজার আলীর ৪ শতাংশ জমিতে টিনশেড বাড়ি, একটি আবাসন প্রকল্পে শেয়ারে ১০ কাঠা জমি ক্রয় ও সেখানে বাড়ি নির্মাণে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়, ব্যাংকে ৭৫ লাখ জমা, ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র. ৫ ভরি স্বর্ণসহ কয়েক লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিক্স মালামাল রয়েছে। গুলজার তার স্ত্রী সালমা হকের পৈত্রিক জমিতে ৩০ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ, কেরানীগঞ্জের আটিবাজার এলাকায় তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন।
আয়কর নথি অনুযায়ী গুলজার আলী ও তার স্ত্রীর ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের রয়েছে। বাস্তবে তাদের সম্পদের মূল্য আরও কয়েকগুণ বেশি। এসব সম্পদের মধ্যে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তাদের বেনামে আরও সম্পদ রয়েছে।


উপ-পরিচালক শহীদুল্লাহ ও তার স্ত্রী ফাতেমা পারভীনের আমলনামা
শহীদুল্লাহ ২০০৫ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তার স্ত্রীও একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে রোজ ডজন শিপিং কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেন। এসব শেয়ার ২০২০ সালে বিক্রি করে দেন। তিনি ২০০০ সালের ইস্টার্ন হাউজিংয়ে ৯৩ লাখ টাকায় ২ কাঠা জমি ক্রয় করেন। এছাড়া জোয়ার সাহারা প্রকল্পে ৫ কাঠা জমির ৮ ভাগের ১ অংশের মালিক তিনি। তার ২৮ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৪৮ লাখ টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত, আড়াই লাখ টাকার প্রাইজবন্ডসহ কয়েক লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিকস মালামাল রয়েছে।
এছাড়া স্ত্রীর নামে সাভারের কাউন্দিয়ায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমি, ঢাকার ধানমন্ডিতে ১৬০২বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৩ কাঠা জমি ক্রয় করেছেন। তাদের দুজনের ৬৮ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।


আয়কর নথিতে তাদের সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। বাস্তবে তাদের যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার প্রকৃত মূল্য কয়েকগুণ বেশি। এসব সম্পদের মধ্যে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। এর বাইরে তাদের বেনামি সম্পদও রয়েছে।


উপ-পরিচালক আবু সালেহ কাইয়ুম ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের আমলনামা
আবু সালেহ কাইয়ুম ২০০৫ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। তার স্ত্রী ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। তিনি ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারি ২০ লাখ টাকা দিয়ে স্ত্রীর নামে লিজেন্ড শিপিং লাইন্সের শেয়ার ক্রয় করেন। ২০২২ সালে সেই শেয়ার বিক্রিও করে দেন।
আবু সালেহ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বেতন-ভাতা পেয়েছেন ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে পারিবারিক ব্যয় হয়েছে ৫০ লাখ ১ হাজার টাকা। তার প্রায় ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বিয়ের সময় ১০ ভরি ও তার স্ত্রী ৪৫ ভরি স্বর্ণ উপাহার পেয়েছেন।
আয়কর নথি অনুযায়ী এই দম্পতির সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এসব সম্পদের মধ্যে ২০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের সম্পদের মূল্য এবং অবৈধ সম্পদের পরিমাণ আরও অনেক বেশি।


উপ-পরিচালক আবু বকর ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহানের আমলনামা
আবু বকর সিদ্দিক ১৯৯৫ সালে নির্বাহী সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ২০২০ সালের ডিসেম্বর অবসরে যান। আয়কর নথিতে তাদের ৫ কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদ থাকার তথ্য রয়েছে। বাস্তবে তাদের সম্পদের মূল্য ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এসব মধ্যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ উপায়ে অর্জন করা হয়েছে।


তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জরিনা বেগম ও তার স্বামী মুকবুল আহমেদের আমলনামা
বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জরিনা বেগমের স্বামী মুকবুল আহমেদ। এই দম্পতি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে জরিনা খানম ও তার স্বামী মুকবুল আহমেদ আশুলিয়া মডেল টাউনে ৩ কাঠা জমি রয়েছে। যার মূল্য দেখানো হয় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বাউনিয়া মৌজায় ৪১ দশমিক ২৫ অযুতাংশ জমি, যারা মূল্য দেখানো হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার এবং হাজারীবাগ মনেশ্বর রোডে ১২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার। এছাড়া, তাদের স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র, ইলেক্ট্রনিক্স মালামালসহ মোট সম্পদের মূল্য ২ কোটি ৮২ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৯ টাকা দেখানো হয়। এই সম্পদ অর্জনের বিপরীতে আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩৬ টাকা। অর্থাৎ তাদের অর্জিত সম্পদ থেকে আয়ের পরিমাণ ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩৭ টাকা বেশি।


অভিযোগ রয়েছে, জরিনা খানম ও তার স্বামীর সম্পদের যে মূল্য দেখানো হয়েছে তার প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি।
দুদক সূত্রমতে, বিআইডব্লিউটিএ’র যাদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা বা অভিযোগ রয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান। এরা পতিত সরকারের আমলে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের বেশিরভাগই সম্পদ করেছেন স্ত্রী এবং বেনামে। পতিত সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত থাকলেও তারা অনেকে এখন মুখোশ পাল্টিয়ে বিএনপিপন্থী সেজে গেছেন।
সূত্রমতে, একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নিজের অপকর্ম এবং দুর্নীতি থেকে বাচঁতে মিডিয়ায় পজেটিভ নিউজ করানোর জন্য মোটা দাগের টাকা খরচ করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।


এদিকে, সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে দুদকও দুর্নীতি রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে নড়েচড়ে বসেছে। এর ফলে অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিদায়ঘন্টাও বেজে উঠেছে। কারণ দুদককে স্বাধীন করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শক্তিশালী কমিশন গঠনে দুর্নীতিবাজদের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রমতে, বিআইডব্লিউটিএ’র অধিকাংশ কর্মকর্তা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নতুন সরকার কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তা নিয়ে সর্বত্রই প্রশ্ন উঠেছে। তবে অনেকেই দলীয় পরিচয় বহন করে পদ-পদবী সহ বিভিন্ন সুবিধা নিতে মরিয়া।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.