Shamiur Rahman
Published:2026-02-26 16:21:26 BdST
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি
বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকার এবং সেদেশের প্রভাবশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) উভয়ের পক্ষ থেকেই অভিনন্দন জানানো হয়েছে, যা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন কূটনৈতিক মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে ঢাকা ও নেপিদোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সংলাপ আরও শক্তিশালী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনাটি ঘটেছে যখন ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ)-এর চেয়ারম্যান তথা আরাকান আর্মির প্রধান ত্বান ম্রাত নাইং প্রথমবারের মতো সরাসরি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন, যেখানে তিনি বিদ্যমান সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও আরাকানের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি নতুন পথ তৈরির সুযোগ উম্মোচিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
ত্বান ম্রাত নাইং তাঁর বার্তায় রোহিঙ্গা সমস্যার একটি বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার গভীর ইচ্ছা পোষণ করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার এখন কেবল মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গেই নয়, বরং রাখাইন রাজ্যের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক আরাকান আর্মির সঙ্গেও একধরণের কার্যকর ও কৌশলগত যোগাযোগ স্থাপনে সফল হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এবং অবিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে আসা এই দ্বিমুখী অভিনন্দন বার্তাগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি প্রতিবেশী দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রতিফলন। বিশেষ করে গত বছরের কক্সবাজার সংলাপ এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ভিটায় ফেরার জোরালো দাবির প্রেক্ষাপটে এই উন্নয়নটি অত্যন্ত সময়োপযোগী; কারণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এখন রোহিঙ্গাদের মতামত গ্রহণ ও তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার এখন রাখাইন রাজ্যের সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকার, আরাকান আর্মি এবং জাতিসংঘসহ সকল প্রভাবশালী বৈশ্বিক অংশীজনদের সঙ্গে একটি নিবিড় ও বহুমুখী আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
