শাহীন আবদুল বারী
Published:2026-03-03 13:19:50 BdST
জনগণের সেবায় নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী টুকু
বিএনপি সরকারের খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর একের পর চমক দেখাচ্ছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিষ্ঠার সাথেই দায়িত্ব পালন করছেন। মানুষের সেবায় নিয়োজিত করেছেন নিজের জীবন। তার নির্বাচনী আসন টাঙ্গাইল-৫ সহ সমগ্রদেশে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। প্রতিদিন দাপ্তরিক কাজ শেষে ছুটে যাচ্ছেন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে। নিজ নির্বাচনী আসনের ভোটারদের দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছেন। জাতীয় এই নেতা রাজপথে যেভাবে নিজের জীবন বিলীন করে ছিলেন, সেটিকে সামনে রেখেই উৎসবমুখর পরিবেশে দেশ গড়ার প্রত্যয় ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
বিগত সরকারের আমলে খাদ্য, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয় বেশ অবহেলিত ছিলো। দায়িত্বপ্রাপ্তরা ছিলেন দুর্নীতিতে ব্যস্ত। পতিত সরকারের যেসব কাজ মানুষের চোখে পড়েনি তা ইতোমধ্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষে সম্ভব হয়েছে। তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারী প্রতিমন্ত্রী হবার পর প্রথমেই সমগ্র দেশব্যাপী রমজান উপলক্ষে দশ পরিবারের জন্য সুলভ মূল্যে খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করেন।
টুকুর এই সফলতা অর্জনের পেছনে সহযোগিতা করেন খাদ্য, কৃষি এবং মৎস ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন। ১২ লাখ প্রান্তিক কৃষকদের দেড় হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। প্রতিজন কৃষকের দশ হাজার টাকা কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করেছেন সরকার। এই মুহুর্তে সুদ সহ ১০ হাজার টাকা করে ঋণ মওকুফ করার কৃষকদের মাঝে হাসি ফুটেছে। সামনে কৃষকদের জন্য আরো চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। কৃষি নির্ভর এই দেশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ইরি ধানের বীজ রোপণ করে দরিদ্র মানুষের দু'বেলা দুমুঠো ভাতের ব্যবস্থা করে ছিলেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি উদ্বৃত্ত খাদ্য বিদেশে রপ্তানির উপযোগী করে তুলতে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে জানান খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ এলাকায় খরিপ-১ মৌসুমে পাট ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে পাট বীজ, সার ও কৃষি সরঞ্জাম বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী টুকু।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইল সদরের একটি বৃহৎ অংশ চরাঞ্চল। চর এলাকার উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। কারণ চরে অনেক পতিত জমি রয়েছে। এসব জমি চাষাবাদের আওতায় আনা গেলে প্রান্তিক কৃষকরা উপকৃত হবেন, পাশাপাশি আশেপাশের জেলা গুলোতেও খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি আমরা উদ্বৃত্ত খাদ্য বিদেশে রপ্তানি করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। সেই লক্ষ্যেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় এই প্রথম চরাঞ্চলে সেচযন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাট বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কৃষকরা যেন সঠিকভাবে সার পায়, সে জন্য সর্বোচ্চ তদারকি করা হচ্ছে। সার পেতে কারও কোনো অসুবিধা হবে না বলেও জানান তিনি। প্রান্তিক কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকার ভবিষ্যতেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
পবিত্র রমজান মাসে নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রমজান জুড়ে তৃণমূল পর্যায়ে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষ যাতে সুলভমূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস কিনতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ন্যায্যমূল্যে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে। এসুযোগ পাচ্ছে দেশের দশ লাখ পরিবার। রমজানের পরেও যাতে সরকার সুলভ মূল্যে খাদ্য বিতরণ করেন এ দাবি জানিয়েছেন সুবিধা পাওয়া মধ্যভোগিরা।
খাদ্য,কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ প্রতিবেদককে বলেন, রমজান মাসে সারা দেশের জেলা পর্যায়ে প্রায় ১০ লাখ পরিবারের মাঝে ন্যায্যমূল্যে ডিম, দুধ ও মাংস সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার দুধ ৮০ টাকা, প্রতি ডজন ডিম ৮৪ টাকা, ড্রেসিং করা মুরগির মাংস প্রতি কেজি ২২৫ টাকা এবং গরুর মাংস ৬৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
সারা দেশে মাসব্যাপী এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পর্যায়ক্রমে সব জেলাতেই এ উদ্যোগ বিস্তৃত করা হচ্ছে। যাতে মানুষ তাদের খাদ্য তালিকায় প্রয়োজনীয় প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে পারে।পোল্ট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রতিনিয়ত তদারকির মধ্য দিয়ে খাদ্য ও কৃষিতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সৃষ্ট কৃত্তিম সঙ্কটের সমাধান করা হবে। ইতোমধ্যে বাজার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রনের দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা কাজ করে যাচ্ছেন। মনিটরিং তথা নিয়মিত তদারকির মাধ্য সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, আমি আমার জায়গা থেকে জনগনকে দেয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টার করবো ইনশাআল্লাহ।
প্রতিবেদকের সাথে আলাপ চারিতায় সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়গুলোতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ের অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে গত ১মার্চ হঠাৎ করে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু( এমপি)।
প্রায় তিন ঘণ্টা বিভিন্ন প্রাণী, চিকিৎসা কেন্দ্র ঘুরে দেখার পর প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রাণীদের খাবার, স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা সংক্রান্ত খোঁজখবর নেন। প্রতিমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।
এসময় তিনি বলেন, জাতীয় চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে।
খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (এমপি) বলেছেন, আমরা আন্তরিকতা দিয়ে জনগণেরস সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই।
সোমবার (০২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এর ক্রিস্টাল বলরুমে আয়োজিত প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে তারা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম। তাদের সেই সামর্থ্য ও যোগ্যতা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রাণিসম্পদ খাত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কৃষি কার্ড বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সম্প্রতি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রান্তিক কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা অর্থনৈতিক স্বস্তি পাবেন।
সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে মজবুত করতে পারলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও সম্ভব হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
