April 1, 2026, 2:31 am


শাহীন আবদুল বারী

Published:
2026-04-01 01:02:05 BdST

বিশেষ সম্মাননা পেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুওয়ার্ল্ড ওমেন্স সামিট ২০২৬-এ নারী উদ্যোক্তাদের সম্মাননা


আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘ওয়ার্ল্ড উইমেন’স সামিট-২০২৬’ নামে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে সাহস, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের অনন্য উদযাপনে দেশ ও প্রবাসের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ২০ জন বিশিষ্ট নারীকে বিশেষভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত হোটেল শেরাটনে বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ৭ ঘন্টাব্যাপী জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে অর্থনীতি, নেতৃত্ব ও সামাজিক পরিবর্তনের ধারাবাহিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সাপ্তাহিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'অর্থকণ্ঠ' ও আন্তর্জাতিক সাময়িকী 'বিজনেস আমেরিকা' ম্যাগাজিনের যৌথ উদ্যোগে এবং এনআরবি ওয়ার্ল্ড–এর সার্বিক সহযোগিতায় নারীদের নিয়ে এই মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ‘স্বপ্নজয়ী খ্যাতিমান নারী সম্মাননা’ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের মা এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের স্ত্রী সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় যাবৎ দেশের সমাজসেবায় বিশেষ ভূমিকা রাখায় তাকে এই বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি আয়োজকদের এমন একটি ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সম্মাননা প্রাপ্ত নারীদের হাতে স্মারক তুলে দেন। এসময় স্বপ্নজয়ী খ্যাতিমান নারী সম্মাননাজয়ী সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় মন্ত্রী নিজেই দর্শকসারিতে নেমে এসে তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু ১৯৭৯ সালে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে 'সুরভী' নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে মানবতার সেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা 'স্বাধীনতা পদক' অর্জন করেছিলেন। আজকের এই সম্মেলনেও তার সেই নিরলস পরিশ্রমকে বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। তিনি সম্মাননা গ্রহণের পর গনমাধ্যমকে বলেন, এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, “আমরা নারীরা যেন শুধুই নারী নয়, একজন ব্যক্তি হিসেবে বাঁচতে পারি।”

উল্লেখ্য, সাহস, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের এক অনন্য উদযাপনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড উইমেন’স সামিটটি উৎসর্গ করা হয় সেই সব অসাধারণ নারীদের, যাঁদের সাফল্য বিভিন্ন শিল্পখাতকে এগিয়ে নিচ্ছে, সমাজকে শক্তিশালী করছে এবং বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে তুলে ধরছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, "নারী জাগে, নারী জিতে—তার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বজুড়ে"। এই সম্মেলনে দেশের ও প্রবাসের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখা ২০ জন বিশিষ্ট নারীকে বিশেষভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁদের নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পেশাগত উৎকর্ষ আজকের বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে গর্বিত করছে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল একটি বিশেষ সংখ্যা “বিশ্বজুড়ে ১০০ জন সবচেয়ে প্রভাবশালী বাংলাদেশী নারী” ম্যাগাজিনের জমকালো উন্মোচন। প্রকাশনায় দেশ-বিদেশে অসামান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা প্রভাবশালী বাংলাদেশি নারীদের অনুপ্রেরণামূলক জীবনগাথা তুলে ধরা হয়।

এছাড়াও, এই অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল- রেজিস্ট্রেশন ও রিসেপশন, স্বাগত বক্তব্য, অর্থকণ্ঠের ২৬ বছরের পথচলার ওপর প্রামাণ্য উপস্থাপনা, বিভিন্ন পাওয়ার প্যানেল আলোচনা, “স্বপ্নজয়ী নারী সম্মাননা–২০২৬” প্রদান, বিশেষ ম্যাগাজিন উন্মোচন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও গালা ডিনার, এবং নারী উদ্যোক্তাদের সমর্থনে এক্সক্লুসিভ প্রদর্শনী স্টল। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে শেষ হয়।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.