সামিউর রহমান লিপু
Published:2026-05-07 05:52:32 BdST
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তাএবার গরুর হাটে চাঁদাবাজি হবে না: মীর শাহে আলম
আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে কোরবানির পশুর হাটে চাঁদাবাজি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, পশু আনা-নেওয়ার পথে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং গাবতলী বাস টার্মিনালে প্রবেশের নতুন রাস্তা নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন। এসময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দিতে পারি, কোরবানির পশু পরিবহনে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটবে না। আর যদি ঘটে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোরভাবে তা দমন করবে।”
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী যানজট নিরসন, পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা, মহাসড়ক–রেলপথ–নৌঘাটের ব্যবস্থাপনাসহ চামড়ার মূল্য নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘ সভা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সভায় প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু অনুশাসন জারি করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—রেললাইন ও মহাসড়কের মধ্যে কোনো পশুর হাট বসানো যাবে না। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্ধারিত স্থানের বাইরে যেখানে–সেখানে কোনো হাট বসবে না। নির্দেশ অমান্য করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিটি করপোরেশন পদক্ষেপ নেবে।"
তিনি আরও বলেন, "প্রতি বছর গাবতলী হাটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। এতে ঢাকার ভেতর ও বাইরে যাতায়াতকারী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে নতুন একটি সার্ভিস সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই রাস্তার কাজ শেষ হলে গাবতলী-আমিনবাজার এলাকায় যানজট অনেকটাই কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।”
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ঈদের ৭ থেকে ১০ দিন আগে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও হাটের ইজারাদারেরা আবার বৈঠক করবেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নির্বিঘ্নে পশু কেনাবেচা নিশ্চিত করাসহ যানজট নিরসনের চেষ্টা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।"
হাট ব্যবস্থাপনা নিয়েও সতর্কবার্তা জারি করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, "নির্ধারিত সীমানার বাইরে এবং অননুমোদিত স্থানে কেউ হাট বসাতে পারবে না। হাটের সীমানার বাইরে গিয়েও পশু রাখা যাবে না। এই বিষয়ে দুই সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা এই ব্যাপারে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করবে।"
সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, "হাটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বিজিবি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে হাটের অভ্যন্তরে অনেকগুলো ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। এর পাশাপাশি ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলও দায়িত্ব পালন করবে, যাতে হাটগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।"
তিনি আরও বলেন, "ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে পশু কেনাবেচা করতে পারেন, সেই বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করতে চাই। কেউ যাতে জাল টাকা ব্যবহার করতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করার জন্য অধিকাংশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা মেশিন নিয়ে হাটে উপস্থিত থাকবেন। এজন্য মাঠপর্যায়ে কড়া নজরদারি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা চালু রাখা হবে।"
পশুর সংখ্যা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "অনেক সময় নির্ধারিত সংখ্যার চেয়েও বেশি পশু হাটে চলে আসে, যা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করে। গাবতলী হাটে ১ লাখ গরু আসার কথা থাকলেও কখনো ১ লাখ ৩ হাজার হয়ে যায়। এগুলো আগে থেকে জানা যায় না। তবুও আমরা চেষ্টা করবো এই বিষয়ে।"
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও বাজারের সামগ্রিক চাপের মধ্যে নতুন করে হাটে চাঁদাবাজি ঠেকাতে সরকারের এই অবস্থান সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোক্তারা বলছেন, কঠোর নজরদারি থাকলে ঈদে পশু কেনাবেচা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
