May 7, 2026, 2:31 pm


আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক

Published:
2026-05-07 08:00:22 BdST

এটি পরিকল্পিত খুন; সবাই শান্ত থাকুন: শুভেন্দুশুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা


পশ্চিমবঙ্গে সদ্য বিজয়ী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে বুধবার রাতে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই হামলায় চন্দ্রনাথের সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব বেরাও আহত হয়েছেন। 

বুধবার (৬ মে) রাতে কলকাতার পার্শ্ববর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় এই হামলা চালায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। হামলার ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১১টার দিকে চন্দ্রনাথের গাড়ি মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় পৌঁছানোর পর গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। যার মধ্যে তিনটি গুলি চন্দ্রনাথের শরীরে বিদ্ধ হয়। সন্দেহভাজন হামলাকারীরা তার গাড়িটিকে অনুসরণ করছিল এবং সুযোগ বুঝে গতি কমিয়ে আসতেই তারা আক্রমণ চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চন্দ্রনাথকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, বুদ্ধদেবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের সঙ্গী চন্দ্রনাথ রথ বুধবার দিনভর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই ছিলেন৷ তার সাথে বিধানসভাতেও গিয়েছিলেন। রাতে শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে চলে যাওয়ার পর চন্দ্রনাথ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

রাত ১১টা নাগাদ মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ার কাছে মূল রাস্তা ছেড়ে পাড়ার রাস্তায় ঢোকামাত্র উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ির রাস্তা আটকায়৷ এসময় থেমে যায় চন্দ্রনাথের গাড়ি৷ তখনই মোটরসাইকেলে করে আসা একজন দুর্বৃত্ত চালকের পাশের আসনে বসে থাকা চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে পর পর চারটি গুলি চালায়৷ খুব কাছ থেকে গুলি করায় চন্দ্রনাথের বুকেই তিনটি গুলি লাগে। অন্য গুলিতে চালকের আসনে থাকা বুদ্ধদেবের গায়ে লাগে।

অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, চন্দ্রনাথের বাড়িতে ঢোকার মুখেই আততায়ীরা অপেক্ষা করছিল ৷ একটি ছোট গাড়ি আগে থেকেই সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল৷ চন্দ্রনাথকে বহনকারী স্করপিও গাড়িটি তার ফ্ল্যাটের ৫০ মিটারের মধ্যে আসতেই আগে থেকেই অপেক্ষমাণ একটি ছোট গাড়ি তার পথ আটকে দেয়। এসময় পর পর ৪টি গুলি করে বাইকে চড়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চন্দ্রনাথ রথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় হলেও তিনি উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায় বসবাস করতেন। ভবানীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে যে দল মাঠে কাজ করেছিল, চন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব বেরা দুজনই সেই দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

এদিকে, চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে সাথে নিয়ে মধ্যমগ্রামের হাসপাতালে ছুটে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, মৃতের পরিবারের ও আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেবে দল।

শুভেন্দু অধিকারী চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর ঘটনায় বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে আমরা চূড়ান্ত কিছু বলছি না ৷ ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এডিজি এবং আইজি-কে নিয়ে নিজে এসেছিলেন ৷ তাঁরা আমাকে এবং সুকান্তবাবুকে আশ্বস্ত করেছেন ৷ পুলিশ সিসিটিভি-র সূত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে ৷ খুব শিগগরিই দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে বলেও আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে ৷ এটা ঠান্ডা মাথায় পূর্ব পরিকল্পিত খুন ৷’’

উল্লেখ্য, মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর তৃণমূল কংগ্রেসের রথীন ঘোষ মাত্র ২,৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের দিনেই বিজেপি অভিযোগ করেছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বিজেপি সমর্থকের ছদ্মবেশ ধারণ করে রাজ্যে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অন্যতম প্রধান মুখ। তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকারীর এই মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা নিখিল প্রসুন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ড তৃণমূল কংগ্রেসের লালিত সহিংসতার রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। তিনি এই নিষ্ঠুর হত্যার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত দাবি করেছেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.