August 31, 2025, 8:14 pm


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2025-08-31 14:00:25 BdST

নিজস্ব প্রতিবেদক জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটে“র প্রশাসনিক কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম তুহিনের এতো সম্পদের উৎস কোথায় ?


তৌহিদুল ইসলাম তুহিন”

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

তৌহিদুল ইসলাম তুহিন” প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। তৌহিদুল ইসলাম তুহিন দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা যার বেতন সর্বচ্চ ৩৮ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

স্ত্রী নুসরাত জাহান ঢাকার সিদ্বেশ্বরী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা তার বেতন ৩০/৩৫ হাজার টাকা। দুজন মিলে প্রতিমাসে ৭০/৭৫ হাজার টাকা আয় করেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই চাকুরির বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর তাহলে সর্বসাকুল্যে তাদের  ১ কোটি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আয় হয়েছে। অথচ তারা আফতাব নগরে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছে। চড়েন দামি গাড়িতে, গাড়ির মূল্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নুসরাত জাহান দামি গাড়িতে চড়ে স্কুলে যাতায়াত করেন, ড্রাইভার এর বেতন ও জ্বালানী খরচ হয় নূন্যতম ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তৌহিদুল ইসলাম তুহিন দম্পত্তির দুই মেয়ে কলেজে পড়ালেখা করেন তার খরচ রয়েছে আনুমানিক ৫০/৬০ হাজার টাকা। স্বামী স্ত্রী মিলে যা আয় করেন তা দিয়ে হয়তো তাদের গাড়ির জ্বালানী খরচ ও ড্রাইভার এর বেতন হয়।দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ আসে কোথা থেকে? তাহলে স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে দশম গ্রেডের চাকুরীরত তৌহিদুল ইসলাম তুহিন এতো সম্পদের মালিক হলো কি করে? এর উৎসই বা কোথায়? সুত্রে জানা গেছে তৌহিদুল ইসলামের মুগদা মেডিকেলে বদলীর আদেশ হওয়া সত্বেও কিভাবে বহাল তবিয়তে বক্ষব্যাধী হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন?

আমাদের অনুসন্ধান ও বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে আফতাবনগরে আলিশান ভবনের ১৮০০ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটের প্রায় ২৫-৩০ লাখ টাকা খরচ করে দৃষ্টিনন্দন ডেকোরেশন ও আসবাপত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে।

বনশ্রীর তিতাস রোডে রয়েছে ১৪৫০ স্কয়ার ফিটের আরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট। মূলত এই ফ্ল্যাটটি তিনি প্রথম দিকে কিনেছেন। পরবর্তীতে আফতাব নগরে আলিশান ফ্ল্যাট কিনে রামপুরা বনশ্রীর ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিয়ে দেন। তিনি আফতাব নগর সেভেন স্টার টাওয়ার এর ১০ম তলার জি/৯  ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। ফ্ল্যাট মালিকদের তালিকা থেকে তার নামটি ৪৩ নং সিরিয়ালে পাওয়া যায়।

অতি সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মরত কর্মকর্তাদের সাথে যৌথ ভাবে ডেভেলপার ব্যবসায় পুঁজি বিনিয়োগ করেছে বলে জানা গেছে।

আফতাবনগর এর শেষ প্রান্ত জেলা ঢাকা, থানা খিলগাঁও, মৌজার উত্তর নন্দীপাড়া-৬৪৫০ নং আমমোক্তারনামা দলিলে সি,এস  ও  এস,এ-৩৬৬ আর,এস-৪৯১,ঢাকা জরিপে ২৮২১ নং দাগে ০৮৯৭ অযুতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেছে। এছাড়াও ৫১৯  ও ৪২২ নং আমমোক্তারনামা দলিলে যথাক্রমে ১৬০০ শতাংশ ও ০৬৩৬ অযুতাংশ সহ সর্বমোট ৩১৩৩ অযুতাংশ জমি ক্রয় করেছে। যেখানে তৌহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ রয়েছে।

একটি হাসপাতালের দশম গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা যার সর্বসাকুল্যে বেতন ৩৮/৪০ হাজার টাকার মত হয় সে কিভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন ? শুধু  ফ্ল্যাট, প্লট ও জমিই নয় তার নামে বেনামে রয়েছে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ফিক্সট ডিপোজিট সহ নগদ অর্থ, এছাড়া গ্রামের বাড়ী জয়পুরহাটের আঙ্কেলপুরে রয়েছে অগাধ সম্পত্তি এর উৎস কোথায়?

তথ্যসুত্র থেকে প্রাপ্ত বক্ষব্যাধী হাসাপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে হাসপাতালের সমস্ত কেনাকাটা টেন্ডার,ঔষধ ক্রয় সব কিছু সিন্ডিকেটের সাথে মিলে মিশে কোটি কোটি টাকার কমিশন পেয়েছে। হাসপাতাল সুত্র থেকে জানা গেছে সমস্ত দুর্নীতির সিন্ডিকেট এর নেপথ্য নায়ক এই তৌহিদুল ইসলাম তুহিন। জুলাই বিপ্লবের পর তার প্রভাব আরো বহুগুন বেড়ে গিয়েছে বলে সুত্রে জানা যায়। এছাড়া হাসপাতালের সমস্ত কাজ হয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তার নেপথ্য কলকাঠি নাড়েন প্রশাসনিক কর্মকর্তা তৌহিদুল।

 

চলবে..

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.