January 12, 2026, 7:56 pm


S M Fatin Shadab

Published:
2026-01-12 16:10:55 BdST

টেকনাফ সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে জেলে আহত, স্থানীয়দের সড়ক অবরোধ


কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত যুবকের নাম মো. হানিফ (২২)। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তের শাহজাহান দ্বীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত হানিফ হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং ফজল করিমের ছেলে।স্থানীয়রা জানান, নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই হানিফ গুরুতর আহত হন।
এর এক দিন আগেই একই সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলিতে এক শিশু আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ সব ঘটনার প্রতিবাদে ও নিরাপত্তার দাবিতে স্থানীয়রা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করেন।


ঘটনার বিষয়ে উখিয়ায় দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (৬৪ বিজিবি) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, নাফ নদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের একটি ঘটনার তথ্য তারা পেয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সীমান্তের কাছাকাছি কিছু এলাকায় স্থলমাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। কোন কোন স্থানে মাইন রয়েছে, তা শনাক্তে কাজ চলছে।তিনি আরো বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করতে সতর্ক করা হচ্ছে।

এদিকে মাইন বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে হোয়াইক্যং সড়কে ক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ শুরু করে। তারা সড়ক অবরোধের পাশাপাশি আগের দিন গুলিতে আহত শিশু হুফাইজা আফনানের উন্নত চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করে।

লম্বাবিল এলাকার হুমায়ূন আহমেদ বলেন, ‘সীমান্তে একের পর এক গুলি ও মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় আমরা চরম আতঙ্কে আছি। এভাবে অনিরাপদ অবস্থায় বসবাস করা সম্ভব নয়। আমরা শান্তি ও জীবনের নিরাপত্তা চাই।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে একজন জেলে আহত হওয়ার বিষয়টি তারা জেনেছেন।

একই সঙ্গে চলমান গোলাগুলির কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সড়ক অবরোধ তুলে নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে তীব্র সংঘাত চলছে। রাখাইন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এসব সংঘর্ষের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়।

এরই মধ্যে সীমান্তের ওপারের সংঘাতের জেরে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ জন সদস্যকে আটক করেছে বিজিবি।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.