ঝালকাঠির চাঞ্চল্যকর মিলন হত্যা মামলা
রাজধানীর মালিবাগ ও মোহাম্মদপুরে র্যাবের অভিযানে হত্যা মামলার ২ আসামী গ্রেফতার
গত ২৫ জুন রাত সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে এবং পরদিন ২৬ জুন রাত সোয়া ১২টার দিকে রামপুরা থানার মালিবাগ বাজার রোডের ১০৬২/ সি নং বাড়ীর নিচতলার একটি ভাড়া বাসা থেকে আলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঝালকাঠির রাজাপুরের চাঞ্চল্যকর মিলন হাওলাদার হত্যা মামলার দুই এজাহারভুক্ত আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। হত্যার ঘটনার আড়াই মাস পর রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও রামপুরা থানাধীন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে থেকে আসামীদের গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩ এর একটি অভিঝানিক দল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, মিলন হত্যা মামলার ৪নং ও ৭নং আসামিদ্বয় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের আদাখোলা এলাকার বাসিন্দা মো. বেল্লাল হাওলাদারের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুল হাওলাদার (২৫) এবং একই এলাকার মো. বাদল হাওলাদারের ছেলে মো. আলিম হাওলাদার (২৩)।
পুলিশ ও র্যাব সূত্র জানায়, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার বাসিন্দা মো. মিলন হাওলাদার (২৫) হত্যার পর থেকেই এই দুই আসামি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পৃথক দুইটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৫ জুন রাত সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ জুন রাত সোয়া ১২টার দিকে রামপুরা থানার মালিবাগ বাজার রোডের ১০৬২/ সি নং বাড়ীর নিচতলার একটি ভাড়া বাসা থেকে আলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত মিলন হাওলাদার পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। প্রায় আট বছর আগে একই গ্রামের রোজিনা বেগমের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দেড় বছর আগে তারা পরিবারকে অমতে বিয়ে করেন। এ বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। এরই মধ্যে রোজিনার পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ আরও তীব্র হয় এবং ভিকটিমকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে তদন্তে জানা যায়।
গত ৪ এপ্রিল দুপুর ১:৪৫ মিনিটে ইরাজাপুর থানাধীন আদাখোলা এলাকার আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান হিজবুল্লাহ জামে মসজিদের সামনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মিলন হাওলাদারের ওপর হামলা চালায় আসামিরা। প্রাণ বাঁচাতে তিনি মসজিদে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় রাজাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় রাজাপুর থানার অধিযাচনের ভিত্তিতে র্যাব-৩ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
রাজাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মালেক হাওলাদার জানান, “মিলন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাদের ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মামলার দুই গুরুত্বপূর্ণ আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Shamiur Rahman
