June 9, 2026, 1:49 am


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:
2026-06-08 23:37:48 BdST

সালিসি বৈঠকে যুবদলের হামলা, ছুরিকাঘাতরাজধানীর মৌচাকে প্রকাশ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত


রাজধানীর রমনা থানাধীন মৌচাকে সালিশি বৈঠকে দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক এবং মহানগর দক্ষিণের সদস্য বিল্লাল হোসেন তালুকদার (৫৭) নিহত হয়েছেন। তার বাবার নাম মৃত ইউনুছ তালুকদার।

নিহত বিল্লাল রমনা থানাধীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। তার বাবার নাম মৃত ইউনুছ তালুকদার। বিল্লান মালিবাগের বাগানবাড়ি এলাকায় স্বপরিবারে বসবাস করতেন। তিনি ইট, বালু সিমেন্টের ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন।

সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে মৌচাক মার্কেটের পিছনে আনারকলি মার্কেটের সামনে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সোয়া ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিল্লালকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা তার ভাগনে মো: মোবারক হোসেন আকাশ ও মো: লাবলু মোল্লা জানান, সন্ধ্যায় আনারকলি মার্কেটের সামনে কয়েকজন মিলে প্রথমে মোবারককে মারধর করে। এই ঘটনার পর মোবারক তার মামা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে ডেকে আনেন। রাত ৮টার দিকে আনারকলি মার্কেটের সামনে ওই মারামারির ঘটনায় সালিশি বৈঠক হচ্ছিল।

তিনি বলেন, সালিশি বৈঠক চলাকালে রমনা থানা যুবদলের আহবায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু ও সদস্য সচিব মো. লুৎফুর রহমানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় বিল্লালের। এক পর্যায়ে বাবুর নেতৃত্বে ‘অজ্ঞাত ১০-১২ জন’ অনুসারী বিল্লালের উপর হামলা করে। এসময় অজ্ঞাত হামলাকারী বিল্লালের বুকে ছুরিকাঘাত করে। এতে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিল্লাল। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিল্লালের বুকের ডান পাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হামলাকারীরা। ঘটনাটি রমনা থানায় জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, এই ঘটনার পর দিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি রমনা থানা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি।

উল্লেখ্য, নিহত বিল্লাল রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

উক্ত হামলায় সোহাগ পরিবহনের মালিকের ভাইসহ অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সোহাগ পরিবহনের মালিক মো. ফারুক তালুকদার সে সময় অভিযোগ করেছিলেন, বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বেই হামলা চালানো হয়েছিল।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.