শাহীন আবদুল বারী
Published:2025-08-30 18:37:01 BdST
গরিবের পৌনে দুই'শ কোটি টাকাএমপি কামাল-মাসুদদের পেটে
ছবি: সংগৃহীত
পরিবারের অভাব মুছানোর জন্য ভিটেমাটি, ধার-দেনা এবং সুদে টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় চাকরি করতে দালালের মাধ্যমে ফাইভএম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে ৫লাখ টাকা দিয়ে ছিলেন ময়মনসিংহের রাকিব। ৯,৩৭২ জন বিদেশ যেতে ইচ্ছুক ৩৩টি এজেন্সিতে টাকা দিয়ে এখন রাস্তার ফকির। টাকা দিয়েও কোন দিন মালিকের সামনে যেতে পারেনি তারা। অফিসের পিয়ন, ম্যানেজার পর্যন্তই ছিলো তাদের ঠিকানা। উপরন্ত বিদেশ যেতে কেন দেরি হচ্ছে তা জানতে চাইলে তাদের উপর নেমে আসতো নানা খড়গ। ভুক্তভোগীদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারি হলেও পাষন্ডরা ঘুরে বেড়ান দামি গাড়িতে। গরীবের টাকায় থাকেন গুলশান-বনানীতে। হাসিনা সরকার পতনের পর অধিকাংশ এজেন্সির মালিক পলাতক আছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
গত ২৮ আগস্ট ৩৩ টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে বনানী থানায় সিআইডির সাব এক্সইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় একশত কোটি ৭৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ৩৩ টি রিক্রুটিং এজেন্সি আত্নসাত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট হতে ২০২৪ সালের ৩০মে পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মামলায় উল্লেখিত টাকা আত্নসাত করে। সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে আসছে গরীবের সব টাকাই কানাডা,লন্ডন সহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে।
প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ গ্রহন সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং অনুসন্ধানকালীন আসামীরা হলেন, ১) লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (৬২), সাবেক এমপি (ফেনী-৩) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিঃ, পিতা- এন.এ. চৌধুরী, মাতা- নুর উন নেছা খানম, স্থায়ী- বাড়ী নং- ১৫৩, লেনঃ ১, ডিওএইচ এস, বারিধারা, থানা-ভাটারা, ঢাকা, ২) জেসমিন মাসুদ (৫৮) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ওয়ান প্লাস ওভারসিস ও পরিচালক ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল, স্বামী- মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, স্থায়ী- বাড়ী নং- ১৫৩, লেনঃ ১, ডিওএইচ এস, বারিধারা, থানা-ভাটারা, ঢাকা, ৩) তাসনিয়া মাসুদ (৪২) ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ওয়ান প্লাস ওভারসিস ও পরিচালক ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল, পিতা- মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, স্থায়ী- বাড়ী নং- ১৫৩, লেনঃ ১, ডিওএইচ এস, বারিধারা, থানা-ভাটারা, ঢাকা, ৪) মোঃ সালাউদ্দিন মোরশেদ ভুইয়া (৪৫), পরিচালক ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল, পিতা- আবদুল আজিজ ভূইয়া, মাতা- মনোয়ারা বেগম, স্থায়ী-বাড়ী- ১৪৪৮, জাফর খান রোড, থানা-কুমিল্লা কোতোয়ালী জেলা- কুমিল্লা, ৫) নুর মোহাম্মদ আব্দুল মুকিত (৪৫), পরিচালক ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল, পিতা- মোসলেম উদ্দিন, মাতা- আনোয়ারা বেগম, স্থায়ী-বাসা-৪৭৩, মহল্লাঃ ১ম কান্দিরপাড়, গ্রামঃ বাদুরতলা ডাক্তার পাড়া, থানা-কুমিল্লা কোতোয়ালী, জেলা- কুমিল্লা, ৬) মেহবুবা আফতাব সাথী (৪০), পরিচালক, ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল, স্থায়ী-বাড়ী-১০, রোড-২/২, ব্লক-এফ, থানা-বনানী, ঢাকা, ৭) মোঃ রুহুল আমিন (স্বপন), সত্তাধিকারীঃ ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, আর এল-৫৪৯, স্থায়ী ঠিকানা: প্লট-২১৮৫/এ, ব্লক-আই (এক্সটেনশন) বসুন্ধারা বানিজ্যিক এলাকা, মাদানী এভিনিউ, থানা- ভাটারা, ঢাকা, ৮) নিজাম উদ্দিন হাজারী (সাবেক এমপি) (৫৯), সত্তাধিকারীঃ স্নিগ্ধা ওভারসিস লিঃ, আর এল-১৫৫১, স্থায়ী ঠিকানা: ১০/১-২, (৯ম তলা, পূর্ব পার্শ্ব) পল্টন চাইনা টাউন, ৬৭/১,৬৮, নয়া পল্টন, থানা- পল্টন, ঢাকা, ৯) কাশ্মেরী কামাল (৫৮), সত্তাধিকারীঃ অরবিটাল এন্টারপ্রাইজ, আরএল নং-১১৩, স্থায়ী ঠিকানা: ৫৯/৬১, গুলশান সাউথ এভিনিউ, লোটাস কামাল টাওয়ার-২, গুলশান-১, থানা-গুলশান, ঢাকা, ১০) কেএম মোবারক উল্লাহ (শিমুল) (৪৬), সত্তাধিকারীঃ আদিব এয়ার ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, আরএল-১০২৪, স্থায়ী ঠিকানা: রিজ আহম্মেদ স্কয়ার (ফ্লোর-১২) ৫০/১, ভিআইপি রোড, শান্তিনগর, থানা-পল্টন, ঢাকা, ১১) বেনজির আহম্মেদ (সাবেক এমপি) (৫৮), সত্তাধিকারীঃ আহম্মেদ ইন্টারন্যাশনাল, আরএল-১১৪৬, স্থায়ী ঠিকানা: ৫৫/১, পুরানো পল্টন, থানা-পল্টন, ঢাকা, ১২) সায়েম মোহাম্মদ হাসান, সত্তাধিকারীঃ আগা ইন্টারন্যাশনাল, আরএল-৫৩০, স্থায়ী ঠিকানা: আল-রাজী কমপ্লেক্স, ১৬৬-১৬৭, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরনী, পুরানো পল্টন, বিজয়নগর, থানা-পল্টন, ঢাকা, ১৩) মনসুর আহম্মেদ কালাম (৫৬), সত্তাধিকারীঃ আকাশ ভ্রমন, আরএল-৩৮৪, স্থায়ী ঠিকানা: ১১৭/২-৩, ডিআইটি এক্সটেনশন রোড, ফকিরাপুল, থানা- মতিঝিল, ঢাকা, ১৪) শাহ জামাল মোস্তফা (৪৬), সত্তাধিকারীঃ আমিয়াল ইন্টারন্যাশনাল, আরএল-১৩২৬, ভেনচুরা অগ্নিবিনা, স্থায়ী-বাড়ী-৩৮, রোড-১২, ব্লক-ই, থানা- বনানী, ঢাকা, ১৫) এমএম সোবহান ভুইয়ান (হাসান) (৪৭), সত্তাধিকারীঃ বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আরএল-৩৫১, স্থায়ী ঠিকানা: ৮২, শান্তিনগর (পুরাতন-৪০/৩, নয়াপল্টন), থানা-পল্টন, ঢাকা, ১৬) রফিকুল ইসলাম (৫৩), সত্তাধিকারীঃ ব্রাদার ইন্টারন্যাশনাল, আরএল-১৫৭১, স্থায়ী- আইসিএল সিলভার রেইন বিল্ডিং, ফ্ল্যাট-৩/সি, ৪৮, বিজয়নগর, থানা-পল্টন, ঢাকা, ১৭) রেহেনা আরজুমান হাই (৩৫), সত্তাধিকারীঃ গ্রীনল্যান্ড ওভারসিস, আরএল-৪০, স্থায়ী ঠিকানা: প্লট-এসডব্লিউ (এইচ), পুরাতন-৮/এ, নতুন-১/এ, পূর্ব পার্শ্ব, বীরউত্তম মীর শওকত আলী সড়ক, গুলশান-১, থানা-গুলশান, ঢাকা, ১৮) লিনা রহমান (৩৫), সত্তাধিকারীঃ ঐশি ইন্টারন্যাশনাল, আরএল-১১৪১, স্থায়ী ঠিকানা: বাড়ী-৮৩, রোড-৪, ব্লক-বি, থানা- বনানী, ঢাকা, ১৯) মোহাম্মদ আলী সরকার (৫৭), সত্তাধিকারীঃ সরকার ইন্টারন্যাশনাল, আরএল-১৭১৫, স্থায়ী- প্লট-২১৮৫/এ, ব্লক-আই, বসুন্ধারা বানিজ্যিক এলাকা, মাদানী এভিনিউ, থানা- ভাটারা, ঢাকা, ২০) রাসেদ আবেদীন (৩৬), সত্তাধিকারীঃ এসওএস ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস লিঃ, আরএল-১৫৩০, স্থায়ী ঠিকানা: পল্টন চাইনা টাউন, পশ্চিম পার্শ্ব, সুইট ১৮-২, ভিআইপি রোড, নয়া পল্টন, থানা- পল্টন, ঢাকা, ২১) আবুল বাশার (৫৯), সত্বাধিকারীঃ আল রাবেতা ইন্টারন্যাশনাল, আরএল-৩৫৪, স্থায়ী ঠিকানা: ৩৬, ডিআইটি এক্সটেনশন রোড নয়াপল্টন, থানা-পল্টন, ঢাকা, ২২) মোহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী (৫৩), সত্তাধিকারীঃ বেসিক পাওয়ার এন্ড কেয়ার ওভারসিস লিঃ, আরএল-১৪১৮, স্থায়ী ঠিকানা: শানজারী টাওয়ার, ৭৮, নয়াপল্টন, থানা-পল্টন, ঢাকা, ২৩) মোঃ আসলাম খান (৫৩), সত্তাধিকারীঃ দেশারী ইন্টারন্যাশনাল প্রাঃ লিঃ, আরএল-৯৪৫, স্থায়ী ঠিকানা:, ২৭/১১/৩-সি, হাসান ভবন, তোপখানা রোড, থানা-শাহবাগ, ঢাকা, ২৪) মোঃ ইউসুফ নবী (৪৬). সত্তাধিকারীঃ ইষ্ট ওয়েষ্ট প্যারাডাইস, আরএল-৬১৯, স্থায়ী ঠিকানা: ২৯১, ফকিরাপুল, জমিদার প্যালেস, ইনার সার্কুলার রোড, থানা- মতিঝিল, ঢাকা, ২৫) মাজহারুল ইসলাম (৪৭), সত্তাধিকারীঃ পাথ ফাইন্টার ইন্টারন্যাশনাল, আরএল-১২৯৮, স্থায়ী ঠিকানা: বাড়ী-৭৯ (লেবেল-৫) ব্লক-এল, তারেক মেনশন, চেয়ারম্যানবাড়ী, থানা- বনানী, ঢাকা, ২৬) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম (৪৫), সত্তাধিকারীঃ আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপম্যান্ট লিঃ, আরএল-১১৯৪, স্থায়ী ঠিকানা: সাত্তারা সেন্টার (অষ্টম ফ্লোর), ৩০/এ, নয়াপল্টন, থানা-পল্টন, ঢাকা, ২৭) মোহাম্মদ সোহেল রানা (৩৮), সত্তাধিকারীঃ জেজি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, আরএল-১৮৬১, স্থায়ী- বাড়ী-১০২/৫, বীরউত্তম জিয়াউর রহমান রোড, কাকলী, থানা- বনানী, ঢাকা, ২৮) রাজিব আহম্মেদ (৫৫), সত্তাধিকারীঃ কিসওয়া এন্টারপ্রাইজ লিঃ, আরএল-৫৭৩, স্থায়ী-বাড়ী-৯০, নিউ এয়ারপোর্ট রোড, কাকলী, থানা-বনানী, ঢাকা, ২৯) গোলাম মোস্তফা (৬৩), সত্তাধিকারীঃ প্রান্তিক ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম লিঃ, আরএল-৩১০, স্থায়ী ঠিকানা: প্রাষ্টীক সেন্টার ২য় তলা, প্লট-২১, রোড-১৩, কোকাকোলা রোড, ব্লক-জে, বারীধারা, থানা- ভাটারা, ঢাকা, ৩০) মোঃ আলমগীর কবির (৪৪), সত্তাধিকারীঃ আরআরসি হিউম্যান রিসোর্স সার্ভিস লিঃ, আরএল নং-১৩০৭, স্থায়ী ঠিকানা: ৫৩৬, ধউর মন্দির রোড, থানা- তুরাগ, ঢাকা ৩১) মোঃ রাকিবুল ইসলাম শাহিন (৫২), সত্তাধিকারীঃ মুবিন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিঃ, আরএল-১৫৬৭, স্থায়ী ঠিকানা: সিটি হার্ট, ফ্লোর-১২, সুইট নং-৬/বি, ৬৭, নয়াপল্টন, থানা-পল্টন, ঢাকা ৩২) মোঃ রাশেদ খান (৪৬), সত্তাধিকারীঃ আল হেরা ওভারসিস, আরএল-১৫৬৮, স্থায়ী ঠিকানা: শিকদার প্লাজা, বাড়ী-৭৯, ব্লক-এম-১, ৩য় তলা, বীরউত্তম জিয়াউর রহমান রোড, থানা- বনানী, ঢাকা, ৩৩) এসএম রফিক (৫৩), সত্তাধিকারীঃ ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিঃ, আরএল-৪৮৬, স্থায়ী ঠিকানা: ১৫৫/১৫৬, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা, থানা-তেজগাঁও শিল্পঞ্চল, ঢাকা এবং ৩৪) সত্তা: ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিঃ, (রিক্রুটিং এজেন্সি আরএল নং-১৩২৭), স্থায়ী ঠিকানা: বাড়ী নং-৭৯ (লেবেল-৮), ব্লক- এম, শিকদার প্লাজা, চেয়ারম্যানবাড়ী, থানা- বনানী, ঢাকা।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, উক্ত ব্যক্তিগণ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডি, ঢাকার স্মারক নং- সিআই/ ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম/পাঃপিঃ/যাচাই বাছাই/১০৬-২০২৪/১৪০২, তারিখ- ০৩/১২/২০২৪খ্রিঃ মুলে অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়। অনুসন্ধানকালে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্য। অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (৬২), সাবেক এমপি (ফেনী-৩) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিঃ সহ তার অপরাপর সহযোগী আসামীসহ সংঘবদ্ধভাবে পরস্পর যোগসাজসে প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট হতে ২০২৪ সালের ৩০মে পর্যন্ত সর্বমোট ৯,৩৭২ জন কর্মী মায়েশিয়ায় প্রেরন করার জন্য প্রসেস করে জনপ্রতি ১,৫০,০০০/- টাকা গ্রহণ করেছে। এছাড়া সরকার নির্ধারিত ফি ৭৮,৯৯০/- (আটাত্তর হাজার নয়শত নব্বই) টাকা ছাড়াও পাসপোর্ট খরচ-১০,০০০/- টাকা, কোভিড-১৯ টেষ্ট-১৭,০০০/- টাকা, মেডিকেল ফি ৬,৫০০/- টাকা ও পোশাক সংক্রান্ত ফি-৩,০০০/- টাকা সর্বমোট ৩৬,৫০০/- টাকা কর্মীদের নিজেদের খরচ করতে হয়েছে। মোট লন্ডারকৃত অর্থের পরিমান এক শত কোটি পঁচাত্তর লাখ তিরাশি হাজার সাতশত বিশ) টাকা। তবে তদন্তকালে লন্ডারকৃত অর্থের পরিমান কম-বেশী হতে পারে। মামলা সংক্রান্তে অনুসন্ধান পূর্বক তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন ভিকটিমদের সাক্ষ্য গ্রহন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মামলার বাদী সাব ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান জানান।
জানা যায়, বিদেশ লোক পাঠানোর নামে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রিক্রুটিং লাইসেন্স নেন ফেনী থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নিজাম হাজারী। তার প্রতিষ্ঠানের নাম স্নিগ্ধ ওভারসীজ লিমিটেড। নিজাম হাজারীর মতো আরো সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদ এর আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল। লেফটিনের জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল। সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের মেয়ে নাফিসা কামাল এর অরবিটলস ইন্টারন্যাশনাল সহ ৩৩ টি এজেন্সি ৯,৩৭২ জন শ্রমিকের কাছ থেকে একশ' ৭৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে । মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সরকারি ভাবে জনপ্রতি ব্যয় নির্ধারণ করা হয়, ৭৮,৯৯০ টাকা। আর গড়ে নেয়া হয়েছে ৫,৪৪,০০০ টাকা। লুটেরা শ্রমিকদের পাঠানোর পর দেশটিতে গিয়ে চাকরি পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আবার কেউ জেল-জুলুমের শিকার হয়ে দীর্ঘসময় কারাগারে রয়েছেন। এই প্রতারকদের কারণে অস্থির হয়ে উঠেছে শ্রম বাজার। বাংলাদেশ সহ ১৪ টি দেশ মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠায়। একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া কোন দেশেই এমন চক্র নেই। এই চার সংসদ সদস্য ছাড়াও আওয়ামী লীগ, সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলর এবং নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ায় লোক পাঠিয়েছে। চক্রের সদস্যরা ক্ষমতাধর হয়ায় অনেক পুরোনো প্রতিষ্ঠানের জায়গা হয়নি।
মালয়েশিয়া চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ টি জানতে চার সংসদ সদস্যের অফিস সহ সম্ভাব্য জায়গায় খোজ নিয়ে তাদেরকে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অফিস থেকে জানানো হয়েছে, তারা সবাই দেশের বাইরে আছেন। আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা পালানোর আগেই তারা পরিবার পরিজনদের নিয়ে দেশ ত্যাগ করেছেন। সরকারের কাছে ভুক্তভোগীদের দাবি এই রিক্রুটিং এজেন্সি গুলোর বিদেশ লোক পাঠানোর সকল কাজ বন্ধ রাখা হোক।
বায়রা সদস্যদের অভিযোগ, চক্রের নেতৃত্ব দিয়েছেন বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন। এই চক্রের ১০০ টি এজেন্সির মধ্যে ৬৯ টির নাম ঠিক করেছেন রুহুল আমিন। রুহুল আমিনের বক্তব্য জানতে অনেক চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বায়রার লোকজন জানিয়েছেন পুরো চক্রের সদস্যরাই গাঢাকা দিয়েছেন। মূলত এই চক্রটি শ্রম বাজারকে অস্থির করে তোলেন। গরীব অসহায় মানুষ জমি, ভিটা বাড়ি, গহণা বিক্রি এবং সুদে টাকা এনে তাদের এজেন্সিতে জমা দেয়া টাকা লুট করেছে লুটেরা।গরীবের টাকায় গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছেন এই চক্র। এদের কারণে হাজার হাজার মানুষ রাস্তার ফকির হয়ে পথে পথে ঘুরছেন। সুদের টাকার ঘানি টানতে অনেক শিক্ষিত যুবক রাজধানীতে রিকশা, ভ্যান, শাক-সবজি এবং দিনমুজুরের কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে মানবপাচার ও হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে মালয়েশিয়া সরকার। এরপর ২০২২ সালে আবারও শ্রমবাজার খুলে দেয় দেশটি।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.