April 7, 2026, 6:44 pm


Staff reporter

Published:
2026-04-07 17:25:01 BdST

জাতীয় সংসদ ভবনে সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাট দায়ী কে?


নেপথ্যে দুর্নীতির কুশীলদের দৌরত্ব

নিজস্ব অনুসন্ধানী প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরুর পর থেকেই সংসদে সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাট পুরো সংসদের কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। জুলাই আন্দোলনের পর পুরো সংসদ ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সংসদ ভবনের মূল গ্যালারীতে প্রবেশ করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আসবাবপত্র, স্থাপনা ও সংসদ কার্যক্রম পরিচালনা করার যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্থ করে উৎসুক জনতা। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তা পুনঃনির্মাণ, পুনঃস্থাপন ও মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তথ্যসূত্র বলছে যে পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং তা পুনরায় সচল ও মেরামত করতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ সে পরিমাণ বরাদ্দ পায়নাই। জাতীয় সংসদের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরের।

সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাট নিয়ে এখন বিব্রত স্ংসদ সচিবালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। বারবার সাউন্ড সিস্টেম কার্যক্রম অচল, ইতোপূর্বে হেডফোন কেলেংকারী্র রেশ কাটতে না কাটতেই সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাট সংকটের নতুনমাত্রা যুক্ত হয়েছে। প্রশ্ন হলো জাতীয় সংসদে মত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানে কেন জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হলো। সবকিছুতো আর জোড়াতালি দিয়ে সম্ভব না। এখন তো পুরো সাউন্ড সিস্টেমই বদলে ফেলতে হবে। তাহলে ইতোপূর্বে যে পরিমাণ অর্থ ও সময় অপচয় হলো এর দায়ভার কে নেবে?

একাধিক সূত্র জানায় যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভিতর পর্যাপ্ত হাইটেক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার মত জনবলের মারাত্মক সংকট রয়েছে। ইতোমধ্যে একথা প্রধান প্রকৌশলী বিভিন্ন গণমাধ্যমের নিকট স্বীকার ও করেছে। তাহলে বিকল্প উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

এবার পর্যালোচনা করা যাক গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই-এম বিভাগ নিয়ে। ই-এম বিভাগ সর্বাই প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত। যেভাবে দিন দিন হাইটেক প্রযুক্তির আধুনিকায়ন হচ্ছে সেভাবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মরত প্রকৌশলীগণ আধুনিকায়ন হচ্ছেনা। বাধ্য হয়ে ঠিকাদারগণ যা বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাতেই তাদের আত্মতৃপ্তির ঢেকুর গিলতে হচ্ছে। কারণ কোন প্রকৌশলীই তার নিজের সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা স্বীকার করবে না।

গত সোমবার জাতীয় সংসরে অধিবেশন চলাকালে পুরো সাউন্ড সিস্টেম প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে অধিবেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। জাতীয় সংসদের মত স্থানেই যদি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও  তার রক্ষণাবেক্ষণের নিয়ন্ত্রণ করা না হয় তাহলে দেশের প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ চিত্র রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সকল প্রতিষ্ঠানেই।

এবার দৃষ্টি ফেরানো দরকার জাতীয় সংস ভবন এলাকা কতটা রক্ষিত। সংসদ ভবন এলাকার গোডাউন থেকে কোটি কোটি টাকার তামার বার চুরি হয়ে যায়, অথচ উক্ত তামার বার রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্ব ছিলো ই-এম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ সহকারী প্রকৌশলীর। কিন্তু তা তাহারা রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেনাই। অথচ এদের ব্যক্তিগত আমলনামায় কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ আর্জনের তথ্য উঠে এসেছে। উক্ত সম্পদের উৎস কোথায়? সংসদের মত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় চুরি করতেও এদের বুক কাঁপেনি।

সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ও উপসহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিনকে শুধু চাকুরী থেকে অন্য স্থানে বদলী করেই দায় সেরেছে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর। সরকারি চাকুরী একটি সোনার হরিন একবার পেয়ে গেলে তা শত অপরাধ করলেও চাকুরী খোয়াতে হবে না। দিনের পর দিন হয় চাকুরী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বদলী অথবা প্রবীন কার্যালয়ে সংযুক্তি করেই দায় শেষ করছে যথাযথ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে রয়েছে শত শত টেন্ডার দুর্নীতি ও অনিয়মের মত গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ। প্রতিজন প্রকৌশলীর রয়েছে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। দ্য ফিনান্স টুডে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কালো বিড়ালদের মুখোশ ইতোপূর্বে উন্মোচন করেছে। যতটুকু শোনা যাচ্ছে সংসদ এর কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত আরো কয়েকজন কর্মকর্তা শাস্তির আওতায় আসতে পারে। কি জাতীয় শাস্তি হতে পারে তা সবাই অনুমেয়।

ইতোমধ্যে ই-এম বিভাগের একজন দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী যিনি ই-এম বিভাগের শীর্ষ পদে আসীন রয়েছে, তিনি সংসদ এলাকায় পদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। উক্ত কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয় কর্মরত আছে। সংসদ ভবনের সাথে সম্পৃক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী,  উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ববধায়ক প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রত্যেকের আমলনামা ও দুর্নীতির চিত্র ভয়াবহ। এদের কারও নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদেরও তালিকা রয়েছে দ্য ফিনান্স টুডের হাতে। যা আমাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয় প্রধান কার্য়ালয়ের অর্থাৎ অধিদপ্তরের ই-এম বিভাগের শীর্ষ একজন প্রকৌশলী যিনি সংসদ বিভাগের বদলী হওয়ার জন্য যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে হয়তো তিনি  সফলও হবেন। তার  হাতে রয়েছে অবৈধ শত  কোটি টাকা। চাকুরী জীবনের বাকী সময়টায় বদলী হয়ে মহালুটপাটের পরিকল্পনাও রেখেছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। গণমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক লেখালেখী হলেও বাস্তবিক অর্থ দুর্নীতিবাজরা শাস্তির আওতায় আসেনি। জাতীয় সংসদ ভবন ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদানে দুর্নীতি কমে আসবে ও দপ্তরগুলো থাকবে সুরক্ষিত।

জাতীয় সংসদের স্পিকার সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে পুরো সাউন্ড সিস্টেম প্রক্রিয়া নতুন করে সেটআপ করার কথাও বলছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে? গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই-এম বিভাগ-৭ এর আওতাধীন সংসদ ভবন ও সংসদ সচিবালয়। শুধু এবারেই নয়, ইতোপূর্বে ই-এম বিভাগ-৭ এ কর্মরত একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা এ বিভাগকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিল। দুলাভাই ছিল তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও শ্যালক কুমিল্লার আওয়ামী লীগের নেতা। তাদের সময় দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল এ বিভাগটি। মন্ত্রণালয় এর আদেশ অমান্য করেও নামমাত্র মূল্যে সিন্ডিকেটের হাতে ট্রান্সফর্মার তুলে দিয়েছিল এ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। বিগত ৭/৮ বছরের সমস্ত কেনাকাটা টেন্ডার, সংস্কার এর কার্যক্রম অনুসন্ধান করলে সব থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে।ভবিষ্যতে তাহলে আর কেউ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দুর্নীতি করার সাহস পাবে না।

Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.