আব্দুর রহিম
Published:2026-06-03 04:33:01 BdST
অদৃশ্য জুয়ার সাম্রাজ্য: যেভাবে চলছে আন্তর্জাতিক জুয়া ও হাজার কোটি টাকা পাচারের মরণখেলাকোটি টাকার লোভে অনলাইনে জুয়া খেলে নিঃস্ব হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবার
আব্দুর রহিম: ডিজিটাল বিপ্লবের অন্তরালে নিঃশব্দে বাসা বেঁধেছে এক মরণঘাতী ভাইরাস। এটি হলো অনলাইন জুয়া, বেটিং এবং এর আড়ালে চলা আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো হুন্ডির এক অতি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একে সামান্য আর্থিক ক্ষতি মনে হলেও, এর গভীরতা আজ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনীতিকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। আমাদের দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—কীভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো মাফিয়ারা এদেশের অসাধু ডিস্ট্রিবিউটর ও এজেন্টদের সহায়তায় দেশের মাটিতে এক সমান্তরাল অবৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা ছায়া ব্যাংকিং গড়ে তুলেছে। এই মরণনেশার কারণে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা দেশ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পাচার হচ্ছে এবং এর রক্তাক্ত মাশুল দিতে হচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে।

রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি: জুয়ার নেশায় যখন ঝরছে প্রাণ
এই মরণনেশার পরিণতি কেবল আর্থিক দেউলিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমাজ ও পরিবারকে টুকরো টুকরো করে রক্তাক্ত করে তুলছে। আমাদের দীর্ঘ অনুসন্ধান এবং গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কয়েকটি হৃদয়বিদারক বাস্তব চিত্র। রংপুরের এক নৃশংস ঘটনায় দেখা যায়, অনলাইন জুয়ার মাত্র ১০ হাজার টাকা জোগাড় করতে না পেরে রংপুরের অনিক হাসান হৃদয় তার নিজের আপন দাদিকে গলা কেটে হত্যা করে। গ্রেপ্তারের পর সে আদালতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অন্যদিকে, জুয়াড়ি স্বামী মাহবুবের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ১৯ বছর বয়সী আকলিমা আক্তার আত্মহননের পথ বেছে নেন এবং পুলিশ তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। একইভাবে, প্রকৌশল অনুষদের মেধাবী ছাত্র রিফাত বেটিংয়ের পেছনে ৯ লাখ টাকা হেরে আজ ঋণগ্রস্ত ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং তার শিক্ষাজীবন ধ্বংসের মুখে। ঢাকার আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী সোহেল রানা অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে নিজের জমানো ও ব্যাংক লোন নেওয়া মোট ৮৯ লাখ টাকা খুইয়ে আজ চাকরিচ্যুত ও নিঃস্ব। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের তরুণদের অন্তত ৩২ শতাংশ অনলাইন জুয়ায় যুক্ত হয়ে প্রতি মাসে ৫,০০০ থেকে ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত জুয়ার বোর্ডে হারাচ্ছে।

বেটিং সাইটগুলোর সামগ্রিক চিত্র ও মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ
বর্তমানে ওয়ানএক্সবেট, মেলবেট, বেটউইনার, প্যারিম্যাচ এবং মেগাপারির মতো প্রায় দুই শতাধিক আন্তর্জাতিক বেটিং প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে জালের বিস্তার ঘটিয়েছে। এই সাইটগুলোর মূল লক্ষ্য মূলত ফুটবল ও ক্রিকেট অনুরাগী যুবকেরা। তারা সাধারণ তরুণদের আকৃষ্ট করতে নানা রকম মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ব্যবহার করে। প্রথমত, তারা বাংলাদেশিদের জন্য বাংলা ইন্টারফেস এবং দেশীয় টাকায় লেনদেনের সুবিধা দেয়। দ্বিতীয়ত, অ্যাকাউন্ট খোলামাত্রই বিপুল পরিমাণ স্বাগত উপহার বা ওয়েলকাম বোনাস দেওয়ার ঘোষণা করা হয়, যা ক্ষেত্রবিশেষে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি ম্যাচ চলাকালীন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হতে থাকা লোভনীয় বেটিং রেট প্রদর্শন করা হয়। আন্তর্জাতিক বড় টুর্নামেন্টগুলোর সময় রাতারাতি বড়লোক হওয়ার লোভ দেখিয়ে তরুণদের অবলীলায় জুয়ার মরণনেশায় ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

ব্ল্যাকলিস্টেড বেটিং সাইটের ফাঁদ ও প্রতারণার স্বরূপ
জুয়ার বাজারে প্রচলিত বহু সাইট মূলত কোনো সাধারণ বেটিং প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং এগুলো সরাসরি অর্থ আত্মসাৎকারী আন্তর্জাতিক জاليةতি চক্র। বেটটুগোয়াল, ডেক্সটারবেট, এটিএমবেট, ওয়াগনবেট এবং ওহমবেটের মতো শতাধিক সাইট গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা ও অর্থ জালিয়াতি করার দায়ে বৈশ্বিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে। তাদের প্রতারণা অত্যন্ত চতুর। জুয়াড়িরা টাকা জমা দিলে তা মুহূর্তেই অ্যাকাউন্টে যুক্ত হয়। কিন্তু বড় অঙ্কের বাজি জিতে টাকা তুলতে গেলেই সাইট কর্তৃপক্ষ কারিগরি ত্রুটি বা পরিচয় যাচাইয়ের অজুহাতে টাকা আটকে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই অ্যাকাউন্ট চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে জুয়া আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রতারণার শিকার হয়েও কোনো ভুক্তভোগী শাস্তির ভয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে পারে না, যা এই অপরাধীদের কাজকে সহজ করে দেয়।

ইউআরএল ব্লকিং বনাম মিরর লিঙ্কের মরণখেলা
অনলাইন জুয়া সাইটগুলোর মূল ডোমেন বা ইউআরএল ব্লক করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি কাজ করে যাচ্ছে। তবে অপরাধ চক্রগুলো প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এই বাধা এড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রধান হাতিয়ার হলো মিরর ডোমেন বা বিকল্প লিংক। মূল ডোমেনটি বাংলাদেশে ব্লক হয়ে গেলে, তারা একই ডিজাইন ও ডেটাসেট ব্যবহার করে হুবহু অন্য ডোমেন তৈরি করে, যা মিরর সাইট নামে পরিচিত। এই মিরর লিংকগুলো ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সহজেই মূল জুয়া সাইটগুলোতে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে দেশীয় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষে তাদের অবস্থান বা কার্যক্রম সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

টর ব্রাউজার ও ভিপিএন-এর অপব্যবহার
সরকার ডোমেন ব্লক করলে জুয়া চক্র তাদের অবৈধ কার্যক্রম সচল রাখতে টর ব্রাউজার এবং বিভিন্ন ভিপিএন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। আইপি অ্যাড্রেস আড়াল করতে তারা জুয়াড়িদের জন্য বিশেষ কারিগরি টিউটোরিয়াল সরবরাহ করে থাকে। সাধারণত দেশীয় সেবাদাতারা ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন প্রযুক্তির মাধ্যমে জুয়া ডোমেনের ট্রাফিক ব্লক করে। কিন্তু জুয়াড়িরা যখন ভিপিএন ব্যবহার করে, তখন তাদের ট্রাফিক একটি সুরক্ষিত এনক্রিপ্টেড টানেলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে দেশীয় আইপি পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং টর ব্রাউজারের অনিয়ন রাউটিং প্রযুক্তির কারণে জুয়াড়ির প্রকৃত অবস্থান বা পরিচয় শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে তদন্তকারীরা অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে প্রচণ্ড প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অলক্ষ্যে জুয়ার আগ্রাসী বিজ্ঞাপন
বর্তমানে তরুণ সমাজের অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হওয়ার বড় অনুঘটক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণহীন বিজ্ঞাপন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতিনিয়ত এই অবৈধ জুয়ার বিজ্ঞাপন স্পন্সরড পোস্ট আকারে প্রচার করা হচ্ছে। চতুর অ্যালগরিদম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট বয়সের তরুণদের লক্ষ্য করে এই বিজ্ঞাপনগুলো পুশ করা হয়। অনেক ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ অন্তরালে থেকে এসব জুয়া সাইটের বিজ্ঞাপনী অংশীদার বা অ্যাফিলিয়েট হিসেবে কাজ করে। এমনকি জনপ্রিয় সেলিব্রিটি ও ইনফ্লুয়েন্সারদের বিপুল অর্থ দিয়ে জুয়া অ্যাপের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সর্বনাশা বিজ্ঞাপন বন্ধে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে সেলিব্রিটিদের মাধ্যমে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধে কঠোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা ও অ্যাডাল্ট সাইটের ফাঁদ
মানুষ যখন তীব্র শারীরিক উত্তেজনা বা কামতাড়নায় ভোগে, তখন সাময়িকভাবে তার মস্তিষ্কের যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হ্রাস পায়। এই দুর্বলতার সুযোগটিই নিচ্ছে জুয়া মাফিয়ারা। বাংলাদেশ থেকে ভিপিএন ব্যবহার করে জনপ্রিয় অ্যাডাল্ট পোর্টালগুলোতে প্রবেশ করলেই ভিডিওর শুরুতে কিংবা মাঝখানে নগদ৮৮ বা মেলবেটের মতো জুয়া সাইটের বড় প্রমোশনাল বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে। গ্লোবাল ট্রাফিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রোগ্রামাটিক বিজ্ঞাপনগুলো মূলত পর্নোগ্রাফির আসক্তিতে আচ্ছন্ন তরুণদের জুয়ার মতো আরও বিধ্বংসী আসক্তির দিকে অনায়াসে ঠেলে দেয়। যেহেতু এই সাইটগুলো গোপনে ব্রাউজ করা হয়, তাই এই দ্বিমুখী সাইবার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রচলিত দেশীয় তদারকি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক পেমেন্ট মেথড ও ক্রিপ্টোর মাধ্যমে অর্থ পাচার
অনলাইন জুয়া চক্রের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো ক্রিপ্টোকারেন্সি, যা অর্থ পাচারের সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ বাহন। মেলবেট বা ওয়ানএক্সবেটের মতো সাইটগুলোতে বিকাশের পাশাপাশি ৪৫টিরও বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি পেমেন্ট পদ্ধতি সরাসরি যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে সোলানা, টেথার, ট্রন এবং বিটকয়েন অন্যতম। জুয়াড়িরা যখন স্থানীয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা জমা দেয়, তখন এই টাকা স্থানীয় হুন্ডি চক্রের এজেন্টের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। পরবর্তীতে এই বিশাল টাকাকে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের পিটুপি ডেস্কে ব্যবহার করে টেথার বা ইউএসডিটি ক্রয় করে মাফিয়াদের ডিজিটাল ওয়ালেটে পাঠানো হয়। ক্রিপ্টোকারেন্সি যেহেতু বিকেন্দ্রীভূত এবং বেনামে পরিচালিত হয়, তাই বিএফআইইউ বা সিআইডির পক্ষে এই অর্থের সন্ধান বা ট্র্যাকিং করা অসম্ভব।

পেছনের প্রযুক্তি: বট মানি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির অদৃশ্য নেটওয়ার্ক
সিআইডি-এর ডিজিটাল ফরেনসিক অনুসন্ধানে অনলাইন জুয়া চক্রগুলোর অর্থ লেনদেন ও পাচারের এক অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তিগত ব্লুপ্রিন্ট উঠে এসেছে। এই সিস্টেমটি মূলত এপিআই এবং স্বয়ংক্রিয় টেলিগ্রাম বটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। মাঠপর্যায়ের ক্যাশ এজেন্টরা বিশেষ টেলিগ্রাম বটের মাধ্যমে সরাসরি জুয়া সাইটের মূল সার্ভারের সাথে যুক্ত থাকে। কোনো জুয়াড়ি টাকা জমা দিলে বট প্রোগ্রাম মুহূর্তের মধ্যে সেই দেশীয় টাকাকে ভার্চুয়াল টোকেন বা বট ব্যালেন্সে রূপান্তর করে জুয়াড়ির ওয়ালেটে জমা করে দেয়। দিনশেষে এই টাকা তারা প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেলে না রেখে পিটুপি মার্চেন্টদের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করে, যার ডিজিটাল ট্রেইল ট্র্যাকিং করা সাধারণ গোয়েন্দা নজরদারিতে অসম্ভব।

টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের ছায়া ব্যাংকিং
এই সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক জুয়া সাম্রাজ্যের দৈনন্দিন অর্থ সংগ্রহ ও সমন্বয় কার্যক্রমটি প্রথাগত ব্যাংকিং খাতের সমান্তরালে সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তাদের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের সুরক্ষিত গ্রুপ ও চ্যানেলগুলো। আইনের নজরদারি এড়াতে তারা এই এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করে এক ধরনের ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। টেলিগ্রামে মাস্টার এজেন্ট নামক চ্যানেল খুলে প্রতিনিয়ত প্রকাশ্য হুন্ডির ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। টেলিগ্রামের চ্যাট হিস্ট্রি মুছে ফেলা এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের কারণে গোয়েন্দারা এই অপরাধ চক্রের ডিজিটাল প্রমাণ খুঁজে পেতে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং দেশের আর্থিক সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।

রিমোট অপারেশন ও বহুস্তরীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি
অনলাইন জুয়ার মূল হোতারা বাংলাদেশের সীমানায় অবস্থান করছেন না। মেলবেট বা ওয়ানএক্সবেটের মতো শীর্ষস্থানীয় প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রধান পরিচালনা কেন্দ্র বা সার্ভারগুলো মূলত রাশিয়া, সাইপ্রাস বা দুবাইয়ের মতো দূরবর্তী দেশে অবস্থিত। তারা বাংলাদেশে একটি করপোরেট ফ্র্যাঞ্চাইজির মতো বহুস্তরীয় সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে। প্রথম স্তরে বিদেশি নিয়ন্তা, দ্বিতীয় স্তরে দেশি ডিস্ট্রিবিউটর বা মাস্টার এজেন্ট এবং তৃতীয় স্তরে মাঠপর্যায়ের ক্যাশ এজেন্ট কাজ করে। প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অসাধু এজেন্টদের এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়। মাঠপর্যায়ের ক্যাশ এজেন্টদের প্রতি মাসে ৫০,০০০ টাকা উপার্জনের প্রলোভন দিয়ে এই অপরাধ চক্রের শিকলে বাঁধা হচ্ছে এবং তারা জেনেশুনে বা না বুঝে অর্থ পাচারে জড়িয়ে পড়ছে।

টেলিগ্রাম ভিত্তিক মাস্টার এজেন্ট ও অপরাধের আধুনিক স্কুল
অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টো হুন্ডির এই বিশাল মাকড়সার জালের সবচেয়ে সক্রিয় সমন্বয়ক টেলিগ্রাম ভিত্তিক মাস্টার এজেন্ট সিন্ডিকেট। এরা প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার সমান্তরালে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ ও বিতরণের একটি অদৃশ্য পেমেন্ট চ্যানেল গড়ে তুলেছে। এই মাস্টার এজেন্টরা টেলিগ্রামে প্রাইভেট গ্রুপ ও ভিডিও ক্লাসের মাধ্যমে নতুন সাব-এজেন্টদের কাজ শেখায়। কঠোর ট্র্যাকিং ফাঁকি দিতে তারা ডাইনামিক অ্যাকাউন্ট রোটেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে, যাতে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো ১৫-২০ মিনিট পর পর পরিবর্তিত হয়। এছাড়াও তারা বড় ট্রানজেকশন ছোট ছোট অ্যাকাউন্টে ভাগ করার ট্রানজেকশন স্প্লিটিং পদ্ধতি ব্যবহারের কারিগরি নির্দেশনা দিয়ে থাকে, যাতে ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং কমপ্লায়েন্স সফটওয়্যারে কোনো রেড অ্যালার্ট না আসে।

দেশীয় ক্যাশ এজেন্টদের চক্র ও হুন্ডির নেটওয়ার্ক
যদিও জুয়ার মূল প্ল্যাটফর্মগুলো দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়, কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ এবং বিজয়ীদের অর্থ পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত দেশীয় ক্যাশ এজেন্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। জুয়াড়িরা যখন মেলবেট বা ওয়ানএক্সবেটের পেমেন্ট উইন্ডোতে ক্যাশ নামক অপশনে ক্লিক করে, তখন তাদের নিকটবর্তী এলাকার ক্যাশ এজেন্টের মোবাইল নম্বর এবং অবস্থান ভেসে ওঠে। এই স্থানীয় এজেন্টরাই জুয়াড়িদের কাছ থেকে সরাসরি ক্যাশ টাকা অথবা পার্সোনাল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে ওয়ালেট রিচার্জ করে দেয়। মেলবেটের অফিশিয়াল পোর্টালে সরাসরি আহ্বান জানানো হচ্ছে যে মেলবেটের এজেন্ট হয়ে মাসে ৫০,০০০ টাকা বা তারও বেশি উপার্জন করা সম্ভব, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের হুন্ডির দিকে ধাবিত করছে।

ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অপব্যবহার
এই সমান্তরাল ছায়া ব্যাংকিং ও অর্থ পাচারের সুবিশাল সিন্ডিকেটটি দেশের ভেতর সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারত না, যদি না এর পেছনে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মকর্তা, আঞ্চলিক সেলস ডিস্ট্রিবিউটর ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা থাকত। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জুয়া চক্রের ডিস্ট্রিবিউটররা আঞ্চলিক সেলস কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও চেহারা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যাচাই করার কেওয়াইসি বাধ্যবাধকতা এড়াচ্ছে। তারা অসচেতন ও মৃত মানুষের তথ্য ব্যবহার করে হাজার হাজার সিম কার্ড জুয়ার লেনদেনের জন্য সচল করছে। এছাড়া, অসাধু কর্মকর্তারা ম্যানুয়ালি ওভাররাইড করে সন্দেহজনক লেনদেনের রেড অ্যালার্ট সিস্টেমকে নিষ্ক্রিয় রাখছেন এবং এই অর্থকে বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেন হিসেবে দেখান।

আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো মাফিয়া ও ছায়া ব্যাংকিংয়ের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক
আমাদের দেশীয় তরুণদের নিঃস্ব করে দেওয়া এই অনলাইন জুয়া ও রেমিট্যান্স জاليةতির শিকড় মূলত একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত বৈশ্বিক সংগঠিত অপরাধের অংশ। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলো কীভাবে এই প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে দেশীয় মুদ্রা পাচার করছে, তার প্রমাণ মিলেছে ইউরোপের সর্বোচ্চ পুলিশ সংস্থা ইউরোপোলের সাম্প্রতিক অভিযানে। বেলজিয়ামের কর্মকর্তা এবং ইউরোপোলের কর্মকর্তাদের এক সমন্বিত অভিযানে সম্প্রতি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একটি কুখ্যাত সমান্তরাল ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ জগতে মাফিয়া ক্রিপ্টো ব্যাংক নামে পরিচিত ছিল। এই চক্রটি মূলত প্রথাগত ব্যাংকিং তদারকি এড়াতে ইনফরমাল হাওলা পদ্ধতি এবং বেনামী ক্রিপ্টো ওয়ালেটের সমন্বয়ে এই সমান্তরাল ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল, যা আমাদের দেশীয় হুন্ডি চক্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

আমাদের অনুসন্ধানে ১০০০ ছদ্মবেশী এজেন্টের বিস্ফোরক ডেটাবেজ
দৈনিক বর্তমান দিন-এর দীর্ঘমেয়াদি ও নিবিড় অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে ১,০০০-এরও বেশি এমন মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক এজেন্ট অ্যাকাউন্ট সনাক্ত করা হয়েছে, যা মেলবেট, ওয়ানএক্সবেট এবং উইনউইনবেটের মতো সাইটে সরাসরি ক্যাশ-ইন ও উইথড্র সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আমরা এই প্রতিবেদনে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নাম সরাসরি প্রকাশ করছি না। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চক্রের সিংহভাগ সদস্যই সমাজের অতি সাধারণ ও বৈধ ব্যবসার আড়ালে তাদের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গ্রামীণ এলাকার মুদি দোকান, কাপড়ের শোরুম, টেইলার্স কিংবা ফার্মেসির মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চলছে এই ছায়া ব্যাংকিং, যা ২৪ ঘণ্টার প্রতিটি সেকেন্ডে দেশীয় মুদ্রা হুন্ডি চক্রের কাছে স্থানান্তর করছে।

অপরাধীদের ঔদ্ধত্য ও আইনি হুমকির ছদ্মবেশ
আমাদের অনুসন্ধানের অন্যতম বিপজ্জনক অভিজ্ঞতা ছিল মাঠপর্যায়ের এই সন্দেহভাজন এজেন্টদের মুখোশ উন্মোচনের চেষ্টা করা। আমরা যখন সাংবাদিক পরিচয়ে আমাদের সনাক্ত করা এই জুয়াড়ি ও ক্রিপ্টো হুন্ডির এজেন্টদের ফোনে যোগাযোগ করেছি, তখন তাদের কাছ থেকে মিলেছে আকাশছোঁয়া ঔদ্ধত্য ও ভয়াবহ আইনি হুমকির ছদ্মবেশ। নির্দিষ্ট কিছু এজেন্টের অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ নিয়ে মুখোমুখি হলে তারা মূলত তিনটি কৌশলে আমাদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। প্রথমত, অনেক এজেন্ট ফোনে নিজেদের আইনজীবী দাবি করে চেঁচামেচি করেছেন। দ্বিতীয়ত, কিছু এজেন্ট দেশের বড় বড় রাজনৈতিক নেতা বা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দম্ভ প্রকাশ করেছে। তৃতীয়ত, তারা উল্টো তথ্যপ্রযুক্তি আইন বা সদ্য পাস হওয়া সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স-এর অধীনে পাল্টা মামলা করার হুমকি দিয়েছে।

আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
সংবাদমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। এই গুরুদায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই আমাদের অনুসন্ধানী সেল মাসের পর মাস ধরে সাধারণ জুয়াড়ি সেজে, হুন্ডির ছদ্মবেশী এজেন্ট সেজে এবং টেলিগ্রামের সুরক্ষিত গ্রুপগুলোতে প্রবেশ করে এই জুয়া ও হুন্ডি মাফিয়াদের প্রতিটি গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচারের এই ক্যান্সার থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করতে হলে কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযান যথেষ্ট নয়। এ জন্য সিআইডি, বিএফআইইউ, বিটিআরসি এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সিকে একটি সমন্বিত বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে এই অদৃশ্য আর্থিক সিন্ডিকেটের মূল উপড়ে ফেলতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে আমরা প্রশাসনের কাছে ১,০০০-এর বেশি ছদ্মবেশী হুন্ডি এজেন্টের বিস্তারিত ডেটাবেজটি হস্তান্তর করতে প্রস্তুত।

সরকারের জিরো টলারেন্স ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা
অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচারের এই মহামারি ঠেকাতে সরকারের নীতিনির্ধারণী উচ্চপর্যায় এখন জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ১৮৬৭ সালের মান্ধাতা আমলের জুয়া আইন বাতিল করে জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন, যুগোপযোগী ও আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই নতুন আইনটি পাসের জন্য বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জুয়ার প্রসারে বা লেনদেনে যে সকল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার হুশিয়ারি দিয়েছেন।

প্রশাসনের সহযোগিতায় বড় ধরনের প্রতিরোধ গড়ার আশ্বাস
আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো হুন্ডি ও অনলাইন জুয়ার এই সুবিশাল অবৈধ নেটওয়ার্কটি এককভাবে কোনো সংবাদমাধ্যমের পক্ষে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করা সম্ভব নয়। এই জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকেই দৈনিক বর্তমান দিন কেবল প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্যেই তার কাজ সীমাবদ্ধ রাখছে না। আমাদের অনুসন্ধানী সেল দীর্ঘ সময় ধরে যে ১,০০০-এর বেশি ছদ্মবেশী এজেন্টের বিস্তারিত ডিজিটাল ট্রাফিকের খতিয়ান ও বিস্ফোরক ডেটাবেজ তৈরি করেছে, তা আমরা অতি শিগগিরই সিআইডি-এর সাইবার পুলিশ সেন্টার, বিএফআইইউ-এর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ শাখা এবং বিটিআরসির কারিগরি সেলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করতে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সংগৃহীত এই অকাট্য কারিগরি তথ্যপ্রমাণ এবং প্রশাসনের আধুনিক রাষ্ট্রীয় আইনি শক্তির সমন্বয়ে এই আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের কোমর ভেঙে দেওয়া সম্ভব।
অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টো হুন্ডির এই সমান্তরাল অন্ধকার জগৎ আমাদের অজান্তেই তরুণ প্রজন্মের প্রাণশক্তি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড চুষে খাচ্ছে। এটি কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন সাইবার অপরাধ নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও যুবসমাজের অস্তিত্বের ওপর এক সুপরিকল্পিত বৈশ্বিক আঘাত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরাতন আইন বাতিল করে যুগোপযোগী আধুনিক আইন প্রণয়নের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত এবং সিআইডির দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান নিঃসন্দেহে এই বিপর্যয়কর সময়ে একটি নতুন আশার আলো। তবে এই গভীর ও বহুমুখী লড়াইয়ে কেবল সরকারি সিদ্ধান্ত বা গোয়েন্দা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানই যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন একটি ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন—যেখানে পরিবার, সমাজ, সচেতন নাগরিক, প্রযুক্তি সংস্থা, মোবাইল অপারেটর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মুঠোফোনের স্ক্রিনে ছড়িয়ে থাকা রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার এই মরণফাঁদ এখনই সমূলে বন্ধ করা না গেলে, আমাদের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ও স্বপ্নের অকালমৃত্যু ঘটবে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
