নিজস্ব প্রতিবেদক
Published:2026-04-22 22:44:23 BdST
নকশা লঙ্ঘনে রাজউকের অভিযানএলিফ্যান্ট রোডে রেস্টুরেন্ট সিলগালা, তিন ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নকশাবহির্ভূত নির্মাণ ও বিধিবহির্ভূত ব্যবহার ঠেকাতে আবারও কঠোর অবস্থানে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) রাজউকের সাবজোন-৫/২ এর আওতায় এলিফ্যান্ট রোড, কারওয়ান বাজার, লালমাটিয়া ও ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে তিনটি ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সবুজ হাসান। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. রকিবুল হাসান, সহকারী অথরাইজড অফিসার, প্রধান ইমারত পরিদর্শক, ইমারত পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযানে একটি নির্মিত এবং দুটি নির্মাণাধীন ভবনসহ মোট তিনটি স্থাপনায় আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে এলিফ্যান্ট রোডের হোল্ডিং নম্বর-১৯ এ অবস্থিত জাকিয়া কামালের ছয়তলা ভবনে অনুমোদিত নকশা অমান্য করে পার্কিং স্পেসে ‘রোজ হ্যাভেন’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনার বিষয়টি ধরা পড়ে। আবাসিক ভবনের পার্কিং স্থান বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করায় তাৎক্ষণিকভাবে রেস্টুরেন্টটি সিলগালা করা হয় এবং সেখানে স্থাপিত বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়।
একই এলাকায় হোল্ডিং নম্বর-২০ এ মো. আবুল হাসান আজাদের নির্মাণাধীন ভবনে পাইলিং কাজ চলাকালীন সময়ে কোনো অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন করতে না পারা, নির্মাণ সংক্রান্ত সাইনবোর্ড না থাকা এবং রাজউককে পূর্বে অবহিত না করার অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার জব্দ করা হয়।
অপরদিকে হোল্ডিং নম্বর-৩১২ ও ৩১৩ এ অবস্থিত খবির নামের মালিকানাধীন নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় কাজ চলাকালীন অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় লক্ষ্য করা গেলে একইভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার জব্দ করা হয়।
এই অভিযানে মোট তিনটি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হলেও কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করে ভবিষ্যতে নকশা অনুসরণ না করলে আরও কঠিন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রাজউক সূত্র জানায়, রাজধানীতে পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে এবং আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে পার্কিং স্পেস দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা, অনুমোদনহীন নির্মাণ এবং নকশা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে বলেও জানানো হয়।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই ধরনের অভিযান নিয়মিত ও কঠোরভাবে পরিচালিত হলে ঢাকার অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত নির্মাণ প্রবণতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
Unauthorized use or reproduction of The Finance Today content for commercial purposes is strictly prohibited.
